মোদির মুখে বঙ্কিমদা, প্রতিবাদ সৌগতর ; বন্দে মাতরমের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা নিয়ে কংগ্রেসকে তোপ প্রধানমন্ত্রীর
জরুরি অবস্থা থেকে শুরু করে নেহরু- বন্দে মাতরম নিয়ে বিতর্কের শুরু থেকে শেষ কংগ্রেসকে কড়া আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷

By PTI
Published : December 8, 2025 at 1:50 PM IST
নয়াদিল্লি, 8 ডিসেম্বর: বন্দে মাতরমের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে কংগ্রেস ৷ লোকসভায় জাতীয় গান সংক্রান্ত বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে সোমবার এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ সরাসরি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নাম উল্লেখ করে মোদি বলেন, মুসলিম লিগের চাপের কাছে মাথা নত করে বন্দেমাতরম গানটি খণ্ডিত করেছেন নেহরু ৷
এদিন একটি প্রসঙ্গে বন্দে মাতরমের স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিমদা বলে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ৷ প্রতিবাদ করেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় ৷ তারপর অবশ্য বক্তব্যের বাকি অংশে প্রধানমন্ত্রীকে বঙ্কিমবাবু বলতে শোনা যায় ৷ পরে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তাঁর স্পষ্ট বার্তা, যাঁরা বঙ্কিমচন্দ্র থেকে নেতাজি- কাউকেই সম্মান জানাতে জানে না, তাদের মুখে দেশপ্রেমের কথা মানায় না।
বক্তব্যের একটি অংশে বন্দে মাতরম নিয়ে মুসলিম লিগের বিরোধিতা প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ৷ তিনি বলেন, মহম্মদ আলি জিন্না বন্দে মাতরম নিয়ে তাঁর আপত্তির কথা নেহরুকে জানান ৷ তিনি তখন কংগ্রেসের সভাপতি ৷ জিন্নার আপত্তি তাঁকে অস্বস্তির মুখে ফেলে দেয় ৷ কিন্তু নেহরু সেই ভিত্তিহীন আপত্তির প্রতিবাদ করেননি ৷ মুসলিম লিগের বক্তব্য খারিজ করে একটি কথাও বলেননি ৷ উল্টে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গানটির মূল্যায়ন করতে শুরু করেন ৷
জিন্নার আপত্তির পাঁচদিন বাদে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে চিঠি লেখেন নেহরু ৷ মোদি জানান, সেখানে নেহরু লেখেন, "বন্দে মাতরমের প্রেক্ষাপট আমি পড়েছি ৷ সেই প্রেক্ষাপট দেখে আমার মনে হয় এতে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হতে পারেন ৷" আর তাই তা নিয়ে চর্চা করা দরকার বলে জানান তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি ৷ শুধু তাই নয় এই চর্চার জন্য কলকাতাকেই বেছে নেওয়া হয় বলে জানান মোদি ৷ তাঁর দাবি, বঙ্কিমবাবুর বাংলা আর বঙ্কিমবাবুর কলকাতায় কংগ্রেসের এমন কাণ্ড দেখে দেশ অবাক হয়েছিল ৷ প্রতিবাদে সামিল হয়েছিল ৷ অনেক জায়গায় প্রভাত ফেরিও বেরিয়েছিল ৷ কিন্তু এতকিছুর পরও কংগ্রেস বন্দেমাতরমের সঙ্গে সমঝোতা করেছে ৷ মুসলিম লিগের সামনে আত্মসমপর্ণ করেছে ৷ এটা কংগ্রেসের তোষণের রাজনীতি ৷ সেই ধারা এখনও চলছে ৷
বক্তব্যের একধিক অংশে বন্দেমাতরমের মাহাত্ম্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ৷ তাঁকে বলতে শোনা যায়, বহু মানুষ এই মন্ত্রকে পাথেয় করে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন ৷ তার জন্যই স্বাধীনতা এসেছে ৷ আর তাই দেশের সকলের বন্দে মাতরমের কাছে ঋণী থাকা উচিত ৷ প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, দেশের উপর যতবার সঙ্কট আসে ততবার বন্দেমাতরমের মূল ভাবনাকে হাতিয়ার করে দেশের নাগরিকরা কঠিন সময় অতিক্রম করেন ৷ খাদ্য আন্দোলন থেকে জরুরি অবস্থা- সব ক্ষেত্রে দেশবাসী বন্দেমাতরমের স্মরণ নিয়েছে ৷ শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিককালে করোনার মতো কঠিন সময় পার করার ক্ষেত্রেও বন্দেমাতরমই ছিল দেশের মানুষের মূল শক্তি ৷
বন্দে মাতরম নিয়ে মমতার বক্তব্য
এদিন কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ এবং জাতীয় গানের বিতর্ক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "বাংলা থেকেই এই গান জাতীয় গান হয়েছে। আর জনগণমন হল আমাদের জাতীয় সংগীত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বন্দে মাতরমের পুরো গানটা নেননি, তিনি নির্বাচিত কিছু লাইন ঠিক করেছিলেন, যেটুকু পরে জাতীয় গান হিসেবে গৃহীত হয়।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, এই ইতিহাস বিজেপি জানে না বলেই তারা বিভ্রান্তি ছড়ায়।
বিজেপির 'দেশভক্তি'র মডেলকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কাল আমি শুনলাম বিজেপির কেউ কেউ বলছেন তাঁরা নেতাজিকে পছন্দ করেন না। আপনারা নেতাজিকে পছন্দ করেন না, মহত্মা গান্ধিকে মানেন না, রাজা রামমোহন রায়কে মানেন না, তবে আপনারা কাকে পছন্দ করেন? এরা সেই লোক যারা দেশের ইতিহাস জানে না, যারা বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্রকে অপমান করে ৷ এরা আসলে বাংলার অবদানকেই অস্বীকার করতে চায়।” রাজ্যসভার পুরনো একটি নোটিফিকেশনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, একটা সময় সংসদ ভবনে জয় হিন্দ বা বন্দে মাতরম স্লোগান দেওয়া নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল। সেই দলের মুখে আজ বঙ্কিম-বন্দনা যে আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা পরোক্ষে বুঝিয়ে দেন মমতা।

