'বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে ভারত', ঘোষণা মোদির
বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ হতে চলেছে ভারত ৷ এই উন্নয়নে গুজরাতের গুরুত্ব অপরিসীম ৷ রাজকোটে এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী ৷

Published : January 11, 2026 at 8:58 PM IST
আমেদাবাদ, 11 জানুয়ারি: শীঘ্রই বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হতে চলেছে ভারত ৷ আর সেই যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে গুজরাত ৷ রাজকোটে 'ভাইব্রেন্ট গুজরাত সম্মেলন'এর উদ্বোধনী ভাষণে এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ ভাইব্রেন্ট গুজরাত মঞ্চটিকে আধুনিক ভারতের অগ্রগতির প্রতিফলন হিসাবেও এদিন উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী ৷
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ভারত দ্রুত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ৷ বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ করে দিয়েছে, ভারতের উপর বিশ্বের প্রত্যাশাও বাড়ছে । দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদন নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে । দুধ উৎপাদনে, জেনেরিক ওষুধ তৈরিতে এক নম্বর স্থানে রয়েছে দেশ ৷ এমনকী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্যাকসিন উৎপাদিত হয় এই দেশেই ।"
Speaking at the Vibrant Gujarat Regional Conference for Kutch and Saurashtra Region.
— Narendra Modi (@narendramodi) January 11, 2026
https://t.co/4LDjmAU1gy
দেশের বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত 11 বছরে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল ডেটা ব্যবহারকারী এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল প্রস্তুতকারক দেশে পরিণত হয়েছে ৷ সেই সঙ্গে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং তৃতীয় বৃহত্তম বিমান চলাচলের বাজারও রয়েছে এই দেশে ।
দু'দিনের সফরে এদিন গুজরাতে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী ৷ সফরের শুরুতে সোমনাথে আয়োজিত 'স্বভিমান পর্ব' অনুষ্ঠানে যোগদান করেন তিনি ৷ সেখান থেকে রাজকোটে পৌঁছন ৷ এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্রের জন্য 'ভাইব্রেন্ট গুজরাত রিজিওনাল কনফারেন্স'-এর আয়োজন করা হয়েছে ৷ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তাদের একটি শক্তিশালী মঞ্চ প্রদানের লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । সম্মেলনের মঞ্চ থেকে গুজরাত ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের অধীনে আমরেলি, ভাবনগর, জামনগর, কচ্ছ, মোরবি, রাজকোট এবং সুরেন্দ্রনগর-সহ 7টি জেলায় 3 হাজার 540 একর জমির উপর নির্মিত 13টি নতুন অত্যাধুনিক শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মোদি ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "চলতি বছরের এটি আমার প্রথম গুজরাত সফর ৷ সোমনাথ মন্দির দর্শনের মাধ্যমে এই সফর শুরু হল ৷ ভাইব্রেন্ট গুজরাত সম্মেলন শুধু একটি সম্মেলন নয় ৷ বরং এটি আধুনিক ভারতের এমন এক যাত্রা, যা একটি স্বপ্ন দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং আত্মবিশ্বাসের এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে । এর অর্থ হল উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য । দুই দশকে ভাইব্রেন্ট গুজরাতের এই যাত্রা বিশ্ব অর্থনীতির মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে ।" সম্মেলনের সঙ্গে প্রথম দিন থেকে জড়িত রয়েছেন বলেও জানান মোদি ৷
তিনি বলেন, "প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের লক্ষ্য ছিল, গুজরাতের সম্ভাবনা শক্তি বিশ্বের সামনে তুলে ধরা ৷ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আমরা চেয়েছিলাম মানুষ এখানে এসে বিনিয়োগ করুক ৷ কিন্তু আজ, এই সম্মেলন বিনিয়োগের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের জন্য একটি শক্তিশালী মঞ্চে পরিণত হয়েছে ।" তিনি আরও বলেন, "বিগত কয়েক বছরে বিশ্বের একাধিক দেশ এবং শিল্পের সঙ্গে দেশের সহযোগিতার মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্মেলন অন্তর্ভুক্তির এক চমৎকার উদাহরণে পরিণত হয়েছে । এখানে কর্পোরেট একাধিক গোষ্ঠী, সমবায় সমিতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্টার্টআপ, বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি একসঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় করেছে ৷ ফলে, গুজরাতের উন্নয়নে অনেক সুফল পাওয়া গিয়েছে ৷ গত দুই দশকে ভাইব্রেন্ট গুজরাত শীর্ষ সম্মেলন ধারাবাহিকভাবে নতুন এবং বিশেষ কিছু করতে সক্ষম হয়েছে ।"
দেশের সার্বিক উন্নয়নে সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছের গুরুত্বের প্রসঙ্গে মোদি বলেন, "এই দুই অঞ্চল ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানে গতি আনতে একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে । বিশ্ব দরবারে দেশকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ৷ রাজকোটে 2 লক্ষ 50 হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (MSME) রয়েছে । এই অঞ্চলের বিভিন্ন শিল্প মহলে স্ক্রুড্রাইভার থেকে শুরু করে গাড়ির যন্ত্রাংশ, মেশিন টুলস, বিলাসবহুল গাড়ির লাইনার এমনকী বিমান, যুদ্ধবিমান ও রকেটের যন্ত্রাংশ সবকিছুই তৈরি হয় ৷ পাশাপাশি দেশে সবুজায়ন, সবুজ গতিশীলতা এবং শক্তি সুরক্ষার জন্যও একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ৷" কচ্ছে 30 গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি 'রিনিউএবেলে এনার্জি পার্ক' তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান মোদি ৷

