দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর কাশ্মীরে ব্যাপক সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান, আটক 1000
দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের পর জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে৷ এক হাজার জনেরও বেশি লোককে আটক করা হয়েছে৷ 200টিরও বেশি অভিযান চালানো হয়েছে।

Published : November 12, 2025 at 3:16 PM IST
মীর ইসফাত, কৌসর আরফাত ও শাহিদ টাকের রিপোর্ট
শ্রীনগর (জম্মু ও কাশ্মীর), 12 নভেম্বর: দিল্লির লালকেল্লার অদূরে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলির যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে৷ এর পাশাপাশি উপত্যকা জুড়ে অন্যান্য সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানও জোরদার হয়েছে। প্রায় এক হাজার জনকে আটকও করা হয়েছে৷ এর মধ্যে ওভারগ্রাউন্ড কর্মী, সহানুভূতিশীল, জামাত-ই-ইসলামি (জেইআই)-এর মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য ও পাকিস্তানে থাকা জঙ্গিদের আত্মীয়স্বজন রয়েছে৷
পুলিশ জানিয়েছে, শুধুমাত্র কুলগাম থেকে প্রায় 500 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ একসময় এই এলাকা জঙ্গি কার্যকলাপের কেন্দ্রস্থল ছিল৷ 2019 সালে সংবিধানের 370 অনুচ্ছেদ বাতিল এবং জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য ভেঙে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি হওয়ার আগে পর্যন্ত ঘন ঘন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত এই এলাকায়।
এক মুখপাত্র বলেন, "গত চার দিনে কুলগাম জেলার 200টিরও বেশি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে৷ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অপরাধমূলক সামগ্রী এবং ডিজিটাল ডিভাইস৷ নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় 500 জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অনেককে জামিন দেওয়া হয়েছে৷ আবার কয়েকজনকে নাশকতা বিরোধী আইনের অধীনে অনন্তনাগের মিত্তান জেলা কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।"
বারামুলায় অভিযান
বারামুলা জেলার সোপোর, জিঙ্গার এবং রাফিয়াবাদ এলাকার 25টিরও বেশি স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়৷ গোয়েন্দা সূত্রের খবর, জেইআই-এর সঙ্গে জড়িতরা নতুন ফ্রন্ট খুলতে চাইছে৷ সেই ফ্রন্টের অধীনে তারা নতুন করে জঙ্গি কার্যকলাপ করতে চাইছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময়, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি নথি, ডিজিটাল গ্যাজেট এবং মুদ্রিত উপকরণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ সেগুলিকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷
এক বিবৃতিতে সোপোর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে এই অভিযানগুলি সতর্কতামূলক এবং গোয়েন্দা তথ্য-ভিত্তিক ছিল৷ এর লক্ষ্য শান্তি বজায় রাখা এবং কোনও সংগঠন বা ব্যক্তি স্থানীয় জনগণকে ব্যবহার যাতে না-করতে পারে, সেটা সুনিশ্চিত করা। নিষিদ্ধ সংগঠন ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত উপাদানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ৷ সাম্প্রতিক অভিযানগুলিতে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে৷
শোপিয়ানে অভিযান
দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলাতেও জেইআই কর্মীদের বাড়িতে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে৷ নাদিগামের ড. হামিদ ফায়াজ এবং চিত্রগামের মুহাম্মদ ইউসুফ ফালাহির বাড়িতে অভিযান চালানো হয়৷ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবাদ দমনের আওতায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
দিল্লি বিস্ফোরণের পর, জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে৷ তদন্তকারীরা কাশ্মীরের সঙ্গে দিল্লির বিস্ফোরণের কোনও সংযোগ আছে কি না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরের একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত একজন চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ তাঁর নাম ড. তাজামুল আহমেদ মালিক৷ তিনি দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার বাসিন্দা৷ তিনি শ্রীনগরের শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালে (এসএমএইচএস) কর্মরত ছিলেন।
এদিকে, শোপিয়ান, পুলওয়ামা এবং অনন্তনাগ জেলায় অভিযান অব্যাহত থাকায়, বাহিনী প্রধান সড়ক এবং সংবেদনশীল এলাকায় চেকপয়েন্ট তৈরি করেছে৷

