ETV Bharat / bharat

'দু'দিন আগেই বই বাতিলের নির্দেশ দিয়েছি, আমি দুঃখিত', NCERT বই বিতর্কে মন্তব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

'বিচার বিভাগীয় দুর্নীতি' সংবলিত এনসিইআরটি'র পাঠ্যবই নিষিদ্ধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট ৷ গভীর তদন্তের ইঙ্গিতও দিয়েছে ৷ এরপর তদন্তের আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ৷

NCERT Class 8 Book Row Judiciary Corruption
NCERT বই নিয়ে বিতর্ক (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 26, 2026 at 6:30 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

জামশেদপুর, 26 ফেব্রুয়ারি: এনসিইআরটি'র অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই নিয়ে বিতর্কে দুঃখপ্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ৷ জাতীয় শিক্ষা পর্ষদ নির্ধারিত এই পাঠ্যবইয়ে বিচার বিভাগের দুর্নীতি এবং দেশজুড়ে সমস্ত আদালতে কত সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি না-হয়ে পড়ে রয়েছে, সেই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৷

এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছে সুপ্রিম কোর্ট ৷ বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি বেঞ্চ কেন্দ্রকে অনলাইনে উপলব্ধ সংশ্লিষ্ট বইটির পিডিএফ সংস্করণটি সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দিয়েছে । একই সঙ্গে 'বিচার ব্য়বস্থার দুর্নীতি' সংক্রান্ত বিতর্কিত অধ্যায়টি রয়েছে এমন বইগুলি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ৷ বইগুলি বাজার থেকে তুলে নিতে হবে ৷

এই ঘটনা বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ৷ কে বা কারা অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার নেপথ্যে রয়েছে, সেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি ৷ প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, "গুলি ছোড়া হয়ে গিয়েছে ৷ বিচার ব্যবস্থা রক্তাক্ত হয়েছে ৷"

প্রধান বিচারপতি এদিন বলেন, "আমরা আরও গভীর তদন্ত চাই ৷ কে এই কাজটি করেছে, তাঁকে খুঁজে বের করাটা আমার কর্তব্য ৷ যদি একজনের বেশিও কেউ থাকে, তাহলে তাঁদের সকলের শাস্তি হওয়া উচিত ! জবাবদিহি করতে হবে ৷ আমি যতক্ষণ না পর্যন্ত তদন্তে সন্তুষ্ট হচ্ছি, ততদিন এই শুনানি চলবে ৷" আগামী 11 মার্চ ফের এই মামলার শুনানি ৷

এরপর জামশেদপুর থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, "আমি এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করছি ৷ ব্যক্তিগতভাবে ও সরকারের তরফেও ৷ বিচার ব্যবস্থাকে অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য আমাদের নেই ৷ এর তদন্ত হবে ৷ দোষীরা শাস্তি পাবে ৷" তিনি আরও বলেন, "ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে বিচার ব্যবস্থা সর্বোচ্চ স্থানে ৷ আমরা তাকে শ্রদ্ধা করি ৷ আমরা এই বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি ৷ আদালতের নির্দেশ মেনে চলা হবে ৷"

কী নিয়ে বিতর্ক ?

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) অষ্টম শ্রেণির জন্য় নির্ধারিত সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যবইয়ে দেশের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কিত এই দু'টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে ৷ এই পাঠ্যবইয়ের 'এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড' অধ্যায়ের অন্তর্গত 'দ্য রোল অফ দ্য জুডিশিয়ারি ইন আওয়ার সোসাইটি' শীর্ষক আরেকটি অধ্যায় রয়েছে ৷ সেখানে দু'টি বিভাগ রয়েছে- 'জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনায়েড' অর্থাৎ বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার অর্থ বিচার না পাওয়া ৷ আরেকটি 'করাপশন ইন দ্য জুডিশিয়ারি' অর্থাৎ বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি ৷ এর আগে পড়ুয়ারা বিচার ব্যবস্থার কাঠামো এবং দেশে আদালতের ভূমিকা নিয়ে পড়ত ৷ এবার দুর্নীতির কথা জানবে ৷

রাজনীতি

এই ঘটনায় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ৷ তরজা শুরু হয়েছে ৷ বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র বলেন, "এনসিইআরটির বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল ৷ দলের তরফে আমি দলের অবস্থান স্পষ্ট করছি ৷ শুধু ভারতে নয়, সারা বিশ্বে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার মতো কোনও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নেই ৷ আমরা সকলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং গর্বিত ৷"

কংগ্রেসের কমিউনিকেশন-ইনচার্জ সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এদিন এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, "গত কয়েক দশকে যেভাবে এনসিইআরটির পাঠ্যসূচি লেখা হয়ে এসেছে, তা অত্যন্ত অসম্মানজনক ৷ পাশাপাশি বিপজ্জনকও ৷ এটা আরএসএস চালিত অপচেষ্টা ও বিদ্বেষপূর্ণ ৷ এই চক্রের তদন্ত হওয়া উচিত ৷"