NCERT অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে বিচার বিভাগের দুর্নীতি, পড়ুয়ারা জানবে বিচারপতি অপসারণের প্রক্রিয়া
NCERT অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের সমাজ বিজ্ঞানের বইয়ের পাঠ্যসূচিতে কিছু পরিবর্তন করেছে ৷ সেখানে বিচার ব্যবস্থার কাঠামোর বিষয় বাদ দিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি সংযোজন করা হয়েছে ৷

Published : February 24, 2026 at 3:12 PM IST
নয়াদিল্লি, 24 ফেব্রুয়ারি: বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিষয়ে পড়বে স্কুল পড়ুয়ারা ৷ সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মামলা কীভাবে নিষ্পত্তির জন্য জমে আছে, তাও জানবে ছাত্রছাত্রীরা ৷ ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) অষ্টম শ্রেণির জন্য় নির্ধারিত নতুন টেক্সট বইয়ে দেশের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কিত এই দু'টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে ৷ এর আগে পড়ুয়ারা বিচার ব্যবস্থার কাঠামো এবং দেশে আদালতের ভূমিকা নিয়ে পড়ত ৷ এবার দুর্নীতির কথা জানবে ৷
অষ্টম শ্রেণির টেক্সট বইয়ের 'এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড' অধ্যায়ের অন্তর্গত 'দ্য রোল অফ দ্য জুডিশিয়ারি ইন আওয়ার সোসাইটি' শীর্ষক আরেকটি অধ্যায় রয়েছে ৷ সেখানে দু'টি বিভাগ রয়েছে- 'জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনায়েড' অর্থাৎ বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার অর্থ বিচার না পাওয়া ৷ আরেকটি 'করাপশন ইন দ্য জুডিশিয়ারি' অর্থাৎ বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি ৷
এই দু'টি বিভাগে বিচার ব্যবস্থার ব্যাখ্যা এবং আদালতের শ্রেণিবিন্যাস, বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে বিচার ব্যবস্থার কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় সেগুলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে ৷ এর মধ্যে দুর্নীতি এবং নিষ্পত্তি না-হওয়া মামলার সংখ্যার বিষয়টিও রয়েছে ৷ পুরনো টেক্সট বইয়ে শুধু বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা এবং আদালতের কাঠামো নিয়ে লেখা হয়েছিল ৷ সেখানে দুর্নীতি বা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার সংখ্যার কথা উল্লেখ ছিল না ৷
নতুন টেক্সট বইয়ের 'বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি' শীর্ষক বিভাগের একটি অংশে লেখা রয়েছে, "বিচারপতিরা আইনের দ্বারা শৃঙ্খলাবদ্ধ ৷ শুধু আদালতের মধ্য়ে নয়, বাইরেও তাঁরা বিধিবদ্ধ আচরণে বাধ্য ৷ যখন বিচারপতিরা এই আচার পালনে ব্যর্থ হন, তখন বিচার ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা অনুযায়ী তাঁরা জবাবদিহি করতে বাধ্য হন এবং বিচার বিভাগীয় জীবনের মূল্যবোধ তাঁদের নিশ্চিত করতে হবে ৷"
অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে বিচার ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির মেকানিজমের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে ৷ সঙ্গে 'সেন্ট্রালাইজড পাবলিক গ্রিভ্যান্স রিড্রেস অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম' (সিপিজিআরএএমএস)-এর মাধ্যমে কীভাবে বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো যায়, তাও লেখা হয়েছে ৷ এই বিভাগে আরও রয়েছে, 2017 থেকে 2021 সালের মধ্যে 1 হাজার 600টিরও বেশি এই ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছে ৷ এছাড়া সংবিধানে কোনও গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত বিচারপতির অপসারণ নিয়ে কী বলা হয়েছে, তা জানতে জানবে পড়ুয়ারা ৷
এই প্রসঙ্গে বইয়ে লেখা হয়েছে, "বিষয় গুরুতর হলে সংসদ পদক্ষেপ করতে পারে এবং অপসারণের প্রস্তাব (ইমপিচমেন্ট মোশন) পাসের মাধ্যমে বিচারপতিকে অপসারিত করতে পারে ৷ যথোপযুক্ত তদন্তের পরই এই ধরনের প্রস্তাব পেশ করা যায় ৷ তদন্তে একজন বিচারপতিকে তাঁর পক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয় ৷"
বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতির ফলে সাধারণ মানুষকে যে দাম দিতে হয় সে বিষয়ে বইয়ে লেখা হয়েছে, "এসব সত্ত্বেও বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির সম্মুখীন হতে হয় মানুষকে ৷ এর ফলে গরিব ও সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে বিচার ব্যবস্থার নাগাল পাওয়া আরও দুরূহ হয়ে উঠতে পারে ৷" এখানে আরও সংযোজন করা হয়েছে, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয় ৷ বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জনমানসে আস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হয় ৷
টেক্সট বইয়ে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের 2025 সালের জুলাই মাসে করা একটি উদ্ধৃতির উল্লেখ করা হয়েছে ৷ তিনি বিচার ব্যবস্থার অভ্যন্তরে দুর্নীতি ও অসৎ আচরণ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, "সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান, নিষ্পত্তিমূলক ও স্বচ্ছ পদক্ষেপই আস্থা পুনর্গঠনের পথ ৷ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ৷"
'জাস্টিস ডিলেড' বিভাগে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে প্রায় 81 হাজার মামলার নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে ৷ হাইকোর্টে এই সংখ্যাটি 62 লক্ষ 40 হাজার এবং নিম্ন আদালতগুলিতে 4 কোটি 70 লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়নি ৷
বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে লেখা হয়েছে "বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সমস্যার একটি অংশ ৷ আসল সমস্যা কোনও মামলার নিষ্পত্তিতে আদালতে যে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় ৷ উদাহরণস্বরূপ, হাইকোর্টগুলিতে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিচারাধীন মামলা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত থাকে এবং এর অর্ধেক তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত পর্যায়ে থাকে । এমনকী কিছু কিছু মামলা 50 বছরেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত থেকে যায় ! এটা গুরুত্বপূর্ণ, জনগণ যেন ভাবে, আদালতে মামলার শুনানি হয়েছে এবং সময়মতো ন্যায়বিচার প্রদান করা হয়েছে ৷ যখন যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে মামলাগুলির নিষ্পত্তি হয় না, তখন যাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা প্রায়শ মনে করেন যে ন্যায়বিচার অস্বীকার করা হয়েছে ।"

