বিজাপুরে এনকাউন্টারে নিকেশ দুই মাওবাদী, মাথার দাম ছিল 10 লক্ষ
নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর তল্লাশি অভিযানে দুই মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়েছে ৷ দু'জনের মাথার দাম ছিল 5 লক্ষ টাকা করে ৷

Published : February 26, 2026 at 5:18 PM IST
বিজাপুর, 26 ফেব্রুয়ারি: জংলা থানা এলাকার জাগুর-দোদুম এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিকেশ দুই মাওবাদী । এদের দু'জনের নামে 5 লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল ৷ ইন্দ্রাবতী নদী এলাকায় মাওবাদীদের উপস্থিতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে, বুধবার সন্ধ্যায় ডিআরজি, বাস্তার ফাইটারস, এসটিএফ, সিআরপিএফ এবং কোবরার যৌথ দল তল্লাশি অভিযান শুরু করে ৷ অভিযান চলাকালীন, বৃহস্পতিবার সকাল ছ'টা থেকে মাওবাদী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে একটানা সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল ৷
গুলির সংঘর্ষ শেষের পর তল্লাশি অভিযানে সংঘর্ষস্থল থেকে দুই মাওবাদী ক্যাডারের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে ৷ প্রাথমিকভাবে শনাক্তকরণে জানা গিয়েছে, নিহত মাওবাদীরা ভৈরমগড় এরিয়া কমিটির সক্রিয় সদস্য, হিচামি মাড্ডা এবং মানকি পোডিয়াম, যাদের প্রত্যেকের উপর পুলিশ পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ৷ সংঘর্ষস্থল থেকে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল, একটি 12 বোরের বন্দুক, একটি হাতবোর, একটি দেশীয় গ্রেনেড, ডেটোনেটর, বিস্ফোরক, ওষুধ এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে ৷ বিজাপুরের পুলিশ সুপার জিতেন্দ্র কুমার যাদব বলেন, "নিরাপত্তা বাহিনী জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ৷ আশেপাশের এলাকায় ক্রমাগত তল্লাশি অভিযানও চালানো হচ্ছে ।"
বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পট্টালিংম প্রাক্তন মাওবাদী ক্যাডার বরসে দেবা, রূপেশ, রণিতা, রাজমান, রাজু সালাম, দেবজি, সংগ্রাম, ভূপতি, ভেঙ্কটেশ এবং অন্যান্য মাওবাদী ক্যাডারদের হিংসার পথ ছেড়ে মূলধারায় যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন ৷ বস্তার আইজি বলেন, "অস্ত্র ও হিংসার সঙ্গে যুক্ত থাকার কোনও মানে হয় না। সরকার বাস্তবতার প্রতি সংবেদনশীল ৷ আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী ক্যাডারদের জন্য আর্থিক এবং শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
অন্যদিকে, পুলিশ কান্ধামাল জেলার দারিংবাড়ি থানা এলাকার জঙ্গল থেকে মাওবাদী নেতা অন্বেষের দেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, কান্ধামাল জেলায় সক্রিয় কেকেবিএন ডিভিশনের ডিভিসিএম ক্যাডার এবং সেকেন্ড ইনচার্জ অন্বেষ মাওবাদীদের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে তার পুরো দল নিয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই মাওবাদী ইনচার্জ সুকরু তাকে খুনের পর দেহ ঘন জঙ্গলে পুঁতে রাখে ৷ সেই তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ৷
কান্ধামাল পুলিশ জানিয়েছে, কান্ধামাল জেলায় মাওবাদী সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়া ডিভিসিএম ক্যাডার এবং সেকেন্ড ইনচার্জ কেকেবিএন ডিভিশনের ডিভিশন ক্যাডার আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাকে হত্যা করে ৷ কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে মাওবাদীরা তাকে খুন করেছে তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ ৷ প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, তার এবং এসএলসি ক্যাডার সুকরুর মধ্যে বনে মতবিরোধের কারণেই সুকরু তাকে খুন করেছে। খুনের পর সে দেহটি দূরে জঙ্গলে ফেলে দেয়।
কান্ধামাল জেলায় মাওবাদী আন্দোলন অনেকটা স্তিমিত হয়ে গেলেও পুলিশ এখনও মাওনেতা সুকরুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। কান্ধামাল জেলার দারিংবাডি এবং রাইকিয়া থানায় পুলিশ তার উপর নজর রাখছে বলেও জানা গিয়েছে ৷ তার সম্পূর্ণ তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। আইন অনুযায়ী, পুলিশ মাও অভিযানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবে, কান্ধামাল নিরাপত্তা প্রধান জানিয়েছেন।

