জন্ম থেকে নেই হাত, বুকে ব্য়াট রেখে 4-6 হাঁকিয়ে জাতীয় দলের স্বপ্নে বুঁদ ছোটু
শুধু ক্রিকেট খেলা নয়, পড়াশোনা, ট্রাক্টর চালানো, সাইকেল স্কুটার সব চালাতে পারেন ছোটু কুমার ৷ স্বপ্ন, ইন্ডিয়ার জার্সি গায়ে দিয়ে প্যারা ক্রিকেট খেলার ৷

Published : January 10, 2026 at 7:12 PM IST
নালন্দা, 10 জানুয়ারি: কথায় আছে, মনের জোর বড় জোর ৷ কথাটি সর্বাত্মকভাবে সত্যি করে দেখিয়েছেন ছোটু কুমার ৷ জন্ম থেকে দু'টি হাত নেই ৷ সেই অক্ষমতা কখনও হারাতে পারেনি তাঁকে ৷ গলা, কাঁধ এবং বুকের সাহায্য়ে ব্যাট ধরে খেলার মাঠে চার-ছক্কা মেরে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন বিহারের নালন্দার এই যুবক ৷ স্বপ্ন একটাই, টিম ইন্ডিয়ার হয়ে নীল রঙের জার্সি গায়ে দেশ বা বিদেশের মাঠে ক্রিকেট খেলবেন ৷
নালন্দার গিরিয়াক ব্লকের মারকাট্টা গ্রামের বাসিন্দা ছোটু ৷ বাবা পুদিন অন্যের জমিতে চাষাবাদ করেন ৷ ছোটুর 3 ভাই এবং এক বোন ৷ দু'হাত ছাড়াই জন্ম হয় ছোটুর ৷ কিন্তু তাতে কখনও থেমে থাকেননি ৷ এলাকার আর পাঁচটা শিশুর মতোই বড় হয়েছেন ৷ ক্রিকেট, পড়াশোনা, সাইকেল চালানো সবকিছুই করেন ৷ আর তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হন এলাকার যুবক-যুবতীরা ৷
ছোট থেকেই খেলাধুলো করতে ভালোবাসেন ৷ পছন্দের খেলা ক্রিকেট ৷ ক্রিকেটর হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি ৷ শারীরিকভাবে বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ায় প্রথমে তাঁকে কেউ খেলার সঙ্গী করেননি ৷ তবে তাঁর জেদ ও একাগ্রতার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছেন তাঁর দলের বাকি সঙ্গীরা ৷ প্রায় 10-11 বছর বয়স থেকে বাড়ির উঠোনেই কাঠের ব্যাট দিয়ে ক্রিকেটের অভ্যাস শুরু করেন ৷ আর এখন এলাকার মাঠে চার-ছয় মেড়ে তাক লাগিয়ে দেন ৷
লেদার হোক কিংবা টেনিস বল, ছোটুর ব্যাট লাগলেই যেন হাওয়ায় উড়ে যায় ৷ শারীরিকভাবে সুস্থ বাকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য বের করা বড়ই মুশকিল হয়ে ওঠে দর্শকদের ৷ এমনকী, খেলা অনুযায়ী প্রতি ম্যাচে 200 থেকে 3 হাজার টাকা আয়ও করেন তিনি ৷ শুধু নালন্দা নয়, খেলোয়াড় হিসাবে ছোটুর ডাক পড়ে লক্ষ্মীলরাই এমনকী সুদূর ঝাড়খণ্ড থেকেও ৷

ক্রিকেটে অনুপ্রেরণা
ভারতীয় অভিষেক শর্মা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকোলাস পুরানের বড় ফ্যান ছোটু ৷ বিগত কয়েকবছর ধরে তাঁকে ক্রিকেট খেলায় অনুপ্রাণিত করেছেন 'মাস্টারব্লাস্টার' সচিন তেন্ডুলকর এবং জম্মু-কাশ্মীরের প্যারা ক্রিকেটর আমির হোসেন লোন ৷ ইন্ডিয়ান স্ট্রিট প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে সচিনের দলে খেলে ইতিহাস তৈরি করেন বিশেষভাবে সক্ষম এই খেলোয়াড় ৷ ব্যাট নিয়ে যখনই মাঠে নামেন ছোটু তাঁদের দু'জনকেই স্মরণ করেন ৷
আত্মনির্ভরশীল ছোটু
কেবল ক্রিকেট খেলাই নয়, নিজের সমস্ত কাজ করেন একাই ৷ পড়াশোনা, সাইকেল চালানো সবকিছুই করেন বেশ স্বচ্ছলতার সঙ্গে ৷ লেখার জন্য ব্যবহার করেন পায়ের আঙুল ৷ শুধু তাই নয়, পায়ের আঙুলের সাহায্য়ে পরীক্ষা দিয়ে 2023 সালে 58 শতাংশ নম্বর নিয়ে মাধ্যমিক, 2025 সালে 68 শতাংশ নম্বর পেয়ে উচ্চ-মাধ্যমিক পাশ করেন ৷ বর্তমানে গিরিয়াকের মা আশাপুরী কলেজের ছাত্র তিনি ৷
সাইকেলের পাশাপাশি ট্রাক্টর এবং স্কুটি চালাতেও পারেন ৷ পড়াশোনার খরচের জন্য ট্রাক্টর চালিয়ে চাষের জমিতে মাটি কাটার কাজ করেন ৷ স্বপ্ন একটাই, ক্রিকেটের পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে দেশের প্যারা ক্রিকেটর দলে নাম লেখাবেন ৷ নীল রঙের জার্সি গায়ে দেশের হয়ে ট্রফি আনবেন ৷
ছোটু বলেন, "সরকার যদি ক্রীড়াক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা বাড়ায়, তাহলে আমি আমির হোসেন লোনের মতো প্যারা-ক্রিকেটে ভারতের গৌরব হয়ে উঠতে পারব ।" তিনি আরও বলেন, "গ্রামের লোকেরা আমাকে নিয়ে মজা করতেন ৷ কিন্তু, আমার সিনিয়র রোশন কুমার আমাকে অনেক উৎসাহিত করেছেন । আজ আমি বাকিদের সঙ্গে ম্যাচ খেলি । আমার হাত নেই তো কী হয়েছে, আমার মনোবল অনেক দৃঢ় । আমি পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাই ।"

