ETV Bharat / bharat

প্রান্তিক মানুষের মশাল নিয়ে হাঁটবেন রেড কার্পেটে, কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রিত বিহারের রেনু

বিহার মানে পিছিয়ে পড়া নয়, প্রমাণ করলেন রেনু পাসওয়ান ৷ তাঁর সংগ্রামের জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কান চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষ ৷

Muzaffarpur Activist Renu Paswan invited in  Cannes Film Festival
গ্রামের মহিলাদের মাঝে সমাজকর্মী রেনু পাসওয়ান (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 4, 2026 at 7:00 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

মুজফফরপুর, 4 জানুয়ারি: শৈশবে উপলব্ধি করেছিলেন মেয়ে হয়ে লেখাপড়া না শিখলে উপায় নেই ৷ সেই উপলব্ধি তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে ৷ তাঁর সঙ্গে রয়েছেন গ্রামের বহু মহিলা ৷ বিহারের এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা এ হেন রেনু পাসওয়ান এবার ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রিত হয়েছেন ৷

আগামী 12-13 মে হলিউড সুন্দরীদের পাশাপাশি তাঁকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে কান চলচ্চিত্র কর্তৃপক্ষ ৷ এই প্রথম বিহারের কোনও মহিলা এমন একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ডাক পেলেন ৷ কিশোরী থেকে মহিলা- গত পাঁচ বছর ধরে গ্রাম তথা পাসোয়ান সমাজের মেয়েদের উন্নতি, আর্থিক ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে চলেছেন রেনু ৷ শুধু পাঁচ বছর সময়সীমা ধরলে ভুল হবে, শিশু-মহিলাদের উন্নয়নের জন্য তাঁর এই কাজ শৈশব থেকে ৷ আর রেনুর সামাজিক কাজের জন্য তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে ৷

এই আমন্ত্রণের খবর পেয়ে বেজায় খুশি তেজস্বিনী ভারত ফাউন্ডেশনের সভাপতি রেনু ৷ তিনি বলেন, "এটা শুধু আমার জন্য গর্বের নয়, সারা দেশের জন্য, বিশেষত বিহারের মানুষের জন্য ৷ কান একটা আন্তর্জাতিক মঞ্চ ৷ বিশ্বের নানা দেশ থেকে বহু বিখ্যাত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে হাজির হবেন ৷ এমন একটি মঞ্চে বিহারের প্রতিনিধিত্ব করা একটা বিশাল ব্যাপার ৷" রেনু স্মৃতিচারণ করেন, ছোট থেকে শিশুর উন্নতি ও মেয়েদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে চলেছেন তিনি ৷

তাঁর শৈশবও ছিল সংগ্রামের ৷ বিহারের মুজফফরপুরের মালিঘাট দাভে নামের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে তাঁর জন্ম ৷ যেখানে মেয়েদের অনেক ছোট বয়সে বিয়ে হয়ে যায় ৷ মাত্র 14 বছর বয়সে রেনু বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন ৷ পরে যখন তাঁর বিয়ের সময় আসে, তখন ? রেনু বলেন, "আমি আমার বিয়ের সময় পালিয়ে গিয়েছিলাম ৷ বুঝেছিলাম লেখাপড়ার গুরুত্ব কতটা ৷ একজন মেয়ে হিসেবে আমি সচেতন ছিলাম, পড়াশোনা না করলে চলবে না ৷ অন্যদের কাছে আমিই উদাহরণ হয়ে উঠতে পারব না ৷"

স্কুলের পাঠ শেষ করে ব্যাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন রেনু ৷ স্নাতকোত্তর স্তরের ডিগ্রি অর্জন করেন পুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৷ এরপর ইনফোসিস-এ 15 বছর ধরে চাকরি করেছিলেন ৷ কিন্ত ছন্দপতন হয় 2016 সালে ভাইয়ের মৃত্যুতে ৷ চাকরি ছেড়ে 2020 সালে গ্রামে ফিরে এসে মেয়েদের উন্নতিতে মন দেন রেনু পাসোয়ান ৷ নারীর ক্ষমতায়ন হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য ৷

প্রত্যন্ত মালিঘাট দাভের মতো জায়গা থেকে ইনফোসিস-এ পৌঁছনো ছিল এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ ৷ জীবনে অন্তত 20 বছর ধরে সংগ্রাম করে গিয়েছেন- একটা চাকরি পাওয়া, নিজেকে তুলে ধরা এবং আজকের রেনু হয়ে ওঠার জন্য ৷ বিহার ও অসমের রাজ্যপাল তাঁকে সম্মান জানিয়েছেন ৷ দেশের মহিলা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও তাঁকে সম্মান জানিয়েছেন ৷

রেনুর কথায়, "মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমার দায়িত্ব ৷ আমি চাই, মেয়েরা অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখুক ৷ অন্য কাউকে কিছুু করতে বলার আগে আপনাকেই তাঁর কাছে উদাহরণ হয়ে উঠতে হবে ৷"

তিনি আশা করেন, বিহার সরকারের সহযোগিতায় রাজ্যের একটা ইতিবাচক ছবি তিনি বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারবেন ৷ রেনু বলেন, "সরকারের সামান্য সমর্থনে আমরা বিহারকে বিশ্বের গৌরবের আসনে বসাতে পারি ৷ এই সাফল্য আমার একার জন্য, সমগ্র বিহারের ৷"

বিহারকে অন্য রাজ্যের বাসিন্দা খাটো করে দেখে বলে উষ্মা প্রকাশ করেন রেনু ৷ তাঁর কথায় "আমি যখন অন্যত্র ছিলাম তখন দেখতাম অনেকে বিহারি বলে অপমান করতেন ৷ তখন থেকে আমার একটি জেদ চেপে গিয়েছিল, বিহার এবং আমার ছোট্ট পাসওয়ান সমাজকে আমি বিশ্বের কাছে তুলে ধরবই ৷ এখন সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি ৷ "