ETV Bharat / bharat

পরীক্ষার হলে অসহ্য পেট ব্যথা, টয়লেটে যেতেই সন্তান প্রসব দশমের পড়ুয়া'র

স্কুলে বোর্ড পরীক্ষা চলাকালীন তীব্র পেটের যন্ত্রণা ৷ টয়েলেটে যেতেই সন্তান প্রসব করে ওই নাবালিকা পরীক্ষার্থী ৷ তড়িঘড়ি স্কুলে পৌঁছয় পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ৷

MINOR STUDENT GAVE CHILD BIRTH
প্রতীকী ছবি (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 26, 2026 at 11:24 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

ধর (মধ্যপ্রদেশ), 26 ফেব্রুয়ারি: মধ্যপ্রদেশে চলছে দশম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষা ৷ তার মধ্যেই ধর জেলার অন্তর্গত পিথমপুরের সেক্টর 1 থানার অন্তর্গত একটি স্কুলে ছাত্রীর সন্তান প্রসবের খবর সামনে এসেছে ৷ মঙ্গলবার সেই স্কুলে ছিল অঙ্ক পরীক্ষা ৷ সেই সময় এক ছাত্রীর পেটে তীব্র ব্যথা ওঠে ৷ সে টয়লেটে যেতেই বাচ্চার জন্ম হয় ৷ বিষয়টি জানতে পেরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি অ্যাম্বুল্যান্স ও পুলিশে খবর দেয়।

নাবালিকা ছাত্রী এবং নবজাতককে পিথমপুরের কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে । পুলিশ মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করেছে ৷ ইতিমধ্যই বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করছে ।

পিথমপুরের কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কাজভে বলেন, "মঙ্গলবার দুপুর 2টোর দিকে নবজাতককে নিয়ে নাবালিকা ছাত্রীকে হাসপাতালে আনা হয় । উভয়ই সুস্থ রয়েছে । বর্তমানে দু'জনকেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে । নাবালিকা ছাত্রী পরীক্ষা কেন্দ্রেই সন্তান প্রসব করেছে ।"

স্কুলের তরফে জানা গিয়েছে, গত 24 তারিখ অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবেই বোর্ডের পরীক্ষা দিতে আসে ৷ সেদিন তার শরীরে কোনওরকম অস্বস্তিও নজরে আসেনি ৷ হলের মধ্যে পরীক্ষা চলাকালীন, পেটে ব্যথা শুরু হয় ৷ চিৎকার করে কেঁদে ওঠে সে ৷ টয়লেটে যেতেই সন্তান প্রসব হয় তার । ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পরীক্ষা কেন্দ্রে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে । 108 ডায়াল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয় ৷ পুলিশও আসে ৷

ঘটনায় জিরো কেস দায়ের পুলিশের

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ একটি জিরো কেস নথিভুক্ত করে ৷ মামলাটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়েছে । যখন কোনও গুরুতর অপরাধ যেমন- কোনও ব্যক্তি ধর্ষণ, খুন, অপহরণের শিকার হয় ও অপরাধ কোথায় হয়েছে তার স্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থাকে তখন পুলিশ জিরো এফআইআর গ্রহণ করতে বাধ্য হয় ৷ এরকম কেসে অপরাধ যে কোনও থানার অন্তর্গত এলাকাতেই হোক না কেন ঘটনা সে জায়গায় জানাজানি হয়েছে সেই এলাকার নিকটতম থানায় অভিযোগ দায়ের হতে পারে ৷ অভিযোগ দায়েরের সময় এই এফআইআরের কোনও কেস নম্বর থাকে না, তাই একে জিরো কেস বলে ৷

এনিয়ে পিথমপুরের এক পুলিশ আধিকারিক চাঁদনি সিঙ্গার বলেন, "নির্যাতিতার মতে, তিনি গত দুই বছর ধরে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছেন ৷ গত এক বছরে মেয়েটির সঙ্গে যুবকের শারীরিক সম্পর্ক হয় বেশ কয়েকবার ৷ তার ফলেই সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে ৷ মেয়েটি তার পরিবারকে প্রথমদিকে কিছুই জানায়নি ৷ যখন মেয়েটির শারীরিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হয় তখন বাবা, মায়ের সন্দেহ হয় ৷ যেহেতু মেয়েটি নাবালিকা ও বেশ খানিকটা দেরি হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসক গর্ভপাত না-করানোর পরামর্শ দেন ৷"

পুলিশ আধিকারিক আরও বলেন, "নাবালিকা মেয়েটি তখন তার বাবা-মাকে সমস্তটা জানায় । এদিকে বোর্ডের পরীক্ষাতেও বসার অনুমতি নেয় ৷ কিন্তু সময়ের বেশকিছুটা আগে নাবালিকা সন্তান প্রসব করে ৷ পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত শুরু করছে । অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ও তাকে শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে ।"