নাবালিকাকে গণধর্ষণ, বিবস্ত্র অবস্থায় হেঁটে বাড়ি ফিরল নির্যাতিতা
আগে থেকে চেনা যুবকের ডাকে সাড়া দেওয়াই কাল হল নাবালিকার ৷ এই সুযোগে তার উপর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দু'জনকে ৷

Published : December 18, 2025 at 6:53 PM IST
সাঙ্গলি, 18 ডিসেম্বর: মর্মস্পর্শী ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত এক গ্রামের ৷ কিশোরীকে গণধর্ষণের পর বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা ৷ হুঁশ ফেরার পর শীতের কনকনে রাতে ওই ভাবে এক কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে নিজের গ্রামে পৌঁছয় নির্যাতিতা নাবালিকা ৷ এই নির্মম ঘটনায় সারা গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ৷ বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলি জেলার ওয়ালওয়া তালুকে ৷ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় ঈশ্বরপুর থানার পুলিশ ৷
নির্যাতিতা নাবালিকা অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া ৷ গত 16 ডিসেম্বর সন্ধ্যায় হৃত্বিক মহাপুরে নামের এক যুবক নাবালিকার বাড়িতে আসে এবং তাকে ডেকে নিয়ে যায় ৷ অভিযুক্ত পূর্ব-পরিচিত হওয়ায় কিশোরী এক ডাকেই তার বাইকে চড়ে বসে ৷ পথে হৃত্বিকের এক বন্ধু আশিস খাম্বে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ৷ অন্ধকার শীতের রাতে অভিযুক্তরা নাবালিকাকে একটি নির্জন আখের ক্ষেতে নিয়ে যায় ৷
সেখানে হৃত্বিক কিশোরীকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয় ৷ তখন অভিযুক্ত তার কোমর থেকে বেল্ট খুলে কিশোরীকে মারধর করতে থাকে ৷ মেয়েটি যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে ৷ আশপাশে কারও কানে যাতে ওই চিৎকার না-পৌঁছয় তাই সঙ্গে সঙ্গে নাবালিকার মুখটি চেপে ধরে আরেক অভিযুক্ত আশিস খাম্বে ৷ সে নির্যাতিতাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয় ৷ তার সঙ্গে কিশোরীর ধস্তাধস্তি চলে ৷
দুই অভিযুক্ত মেয়েটিকে গণধর্ষণ করে ৷ তখন আনুমানিক রাত 8.30টা ৷ ধর্ষণের পর নাবালিকাকে বিবস্ত্র অবস্থায় ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হৃত্বিক ও আশিস ৷ কনকনে ঠান্ডায় ঘন অন্ধকার আখের ক্ষেতে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে বেশ কিছুক্ষণ পড়েছিল কিশোরী ৷ এরপর রাত বাড়তে 11.30 নাগাদ সে ওই অবস্থাতে ধীরে ধীরে বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করে ৷ প্রায় এক কিমি রাস্তা হেঁটে গ্রামের মুখে পৌঁছয় নির্যাতিতা ৷
তাকে গ্রামের এক বাসিন্দা দেখে চিনতে পারেন ৷ গ্রামবাসীরা তাকে জামাকাপড় দেয় ৷ তড়িঘড়ি ঈশ্বরপুর থানায় খবর দেয় ৷ মহিলা পুলিশ গ্রামে এসে এই ঘটনার বিষয়ে নির্যাতিতা কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৷ মেয়েটি তার সঙ্গে হওয়া অমানবিক অত্যাচারের ঘটনা পুলিশের কাছে খুলে বলে ৷
তার বয়ানের ভিত্তিতে ঈশ্বরপুর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইন-সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয় ৷ মেয়েটির মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৷ এরপর ঈশ্বরপুর থানার পুলিশ দুই অভিযুক্ত 27 বছর বয়সি হৃত্বিক মহাপুরে এবং 31 বছরের আশিস খাম্বেকে গ্রেফতার করে ৷
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ঈশ্বরপুর থানার এসআই সোমনাথ ওয়াঘ বলেন, "16 ডিসেম্বর রাত 12.03 মিনিটে কয়েকজন 112 হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে ৷ আমাদের মহিলা আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন এবং মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ৷ তাঁকে থানায় নিয়ে এসে ফের প্রশ্ন করা হয় ৷ সে হৃত্বিক মহাপুরে এবং আশিস খাম্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ৷ তারা মেয়েটির পরিচিত ৷ তারা মেয়েটিকে গণধর্ষণ করেছে ৷"
তিনি আরও বলেন, "এরপর মেয়েটির মা পুরো বিষয়টি জানিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন ৷ সেই অনুযায়ী দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় ৷ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করা হবে ৷"
ঈশ্বরপুর থানার এসআই সোমনাথ ওয়াঘ আরও জানান, হৃত্বিক মহাপুরে মেয়েটির পরিচিত ৷ এই পূর্ব পরিচিতির সুযোগ নিয়ে সে ও তার বন্ধু এই পাশবিক কাণ্ড ঘটিয়েছে ৷ পুলিশের খাতায় হৃত্বিকের নাম ইতিমধ্যে নথিভুক্ত রয়েছে ৷ সে দাগি অপরাধী ৷ এর আগে এমসিওসিএ (মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অফ অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট)-এর আওতায় তার সাজা হয়েছে ৷ অভিযুক্ত হৃত্বিকের বিরুদ্ধে খুন, নির্যাতন, খুনের চেষ্টা এবং চুরির মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার মামলা দায়ের হয়েছে ৷

