জন-গণ-মন'র আগে বন্দে মাতরমের 6টি স্তবক, জাতীয় গানেও উঠে দাঁড়ানোর নির্দেশ
জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিধি নিয়ে কেন্দ্রের নির্দেশিকা ৷ জাতীয় সঙ্গীত ‘জন-গণ-মন’র মতো এবার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গানও ৷

By PTI
Published : February 11, 2026 at 11:20 AM IST
নয়াদিল্লি, 11 ফেব্রুয়ারি: এবার থেকে সমমর্যাদায় গাইতে হবে দেশের জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় স্তোত্র ৷ শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা, যেখানে জাতীয় সংগীত 'জন-গণ-মন' এবং 'বন্দে মাতরম' একসঙ্গে হবে, সেক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ভারতের জাতীয় স্তোত্র বা বন্দনা 'বন্দে মাতরম'-এর ছয়টি স্তবক প্রথমে গাওয়া হবে । তারপর হবে জাতীয় সঙ্গীত ৷ পাশাপাশি জাতীয় সঙ্গীতের মতো বন্দে মাতরম গাইলে বা বাজালেও উঠে দাঁড়াতে হবে এবার থেকে ৷
গত 28 জানুয়ারি জারি করা এক আদেশে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জাতীয় বন্দনা বা স্তোস্ত্র গাওয়ার জন্য প্রথম সেট প্রোটোকল দিয়েছে ৷ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বন্দে মাতরমের প্রথম ছয়টি স্তবক গাওয়া হবে 3 মিনিট 10 সেকেন্ডের মধ্যে ৷ রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যপালদের বক্তৃতার মতো সরকারি অনুষ্ঠানে এই নিয়ম মেনেই গাইতে হবে । অর্থাৎ, যেমন জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রোটোকল আছে সেই মোতাবেকই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বন্দে মাতরমের ওই ছয়টি স্তবকও গাইতে হবে ৷
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আদেশে বলা হয়েছে, "জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় স্তোত্র গাওয়া বা বাজানো হলে প্রথমে জাতীয় স্তোত্র অর্থাৎ বন্দে মাতরম গাইতে বা বাজাতে হবে ৷" যে সমাবেশ বা অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম গাওয়া বা বাজানো হবে সেখানে অবশ্যই সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে বলেও নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে ৷
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, "যখনই জাতীয় স্তোত্র আনুষ্ঠানিক সংস্করণ গাওয়া বা বাজানো হবে তখন অবশ্যই সকলকে দাঁড়াতে হবে । তবে, যখন কোনও তথ্যচিত্র বা সিনেমায়, চলচ্চিত্রের অংশ হিসাবে বন্দে মাতরম বাজানো হয়, তখন দর্শকদের দাঁড়ানো আবশ্যক নয় ৷ কারণ, দাঁড়িয়ে থাকলে চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীতে বাধা সৃষ্টি হবে ৷ জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা বৃদ্ধি করার পরিবর্তে তা বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে ৷" স্কুলও শুরু হবে বন্দে মাতরম গানের মাধ্যমে ।
জাতীয় গান নিয়ে একনজরে কেন্দ্রের নির্দেশনামা:
- একই অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান গাওয়া বা বাজানো হলে জাতীয় স্তোত্র আগে গাইতে বা বাজাতে হবে ৷
- এবার থেকে জাতীয় গানের 6টি স্তবকই গাইতে বা বাজাতে হবে ৷
- কোনও অনুষ্ঠানে জাতীয় স্তোত্র গাওয়া বা বাজানো হলে সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে ৷
- তবে সিনেমা বা ডকুমেন্টিতে জাতীয় গানের সময় দর্শকদের উঠে দাঁড়ানোর আবশ্যকতা নেই ৷
- সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় গান গাইতে হবে ৷
- স্কুলগুলিতেও প্রার্থনার সময় যথবিধ নিয়ম নেমে জাতীয় গান গাইতে হবে ৷ পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের উচিত কর্মসূচিতে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় গান ও জাতীয় পতাকার প্রতি ছাত্রদের শ্রদ্ধা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা।
বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা বন্দে মাতরম গানের 150তম বর্ষ উদযাপন করছে দেশ । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আদেশ অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা কুচকাওয়াজ ছাড়া অন্যান্য সরকারি অনুষ্ঠান এবং রাষ্ট্রপতির যে কোনও সরকারি বা বেসরকারি সমাবেশে আগমনের সময় বন্দে মাতরম গানটি বাজানো হবে ।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, "একটি পর্যাপ্ত পাবলিক অডিশন সিস্টেম থাকা উচিত যাতে বিভিন্ন ঘেরা স্থানে সমবেত ব্যক্তিরা একযোগে গানটি গাইতে পারেন ৷ জাতীয় স্তোত্রের সরকারি সংস্করণের মুদ্রিত লিরিকগুলি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে প্রচার করা যেতে পারে ৷" তবে বন্দে মাতরম গাওয়া বা বাজানো কোন কোন অনুষ্ঠানে অনুমোদিত হতে পারে তার কোনও তালিকা সরকারের তরফে দেওয়া হয়নি ৷
সেক্ষেত্রে বলা হয়েছে, "দেশের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যথাযথ মর্যাদা বজায় রেখে বন্দে মাতরম গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি নেই ৷" পাশাপাশি বলা হয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের কর্মসূচিতে বন্দে মাতরম এবং জন গণ মন গাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা ৷ 1950 সালের 24 জানুয়ারি গণপরিষদে গৃহীত একটি প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, জন গণ মন ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হবে ৷ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী বন্দে মাতরম গানটিকে জন গণ মন সমানভাবে সম্মানিত করা হবে এবং এর সঙ্গে সমান মর্যাদা দেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল । অবশেষে তা বাস্তবায়িত হল ৷

