10 বছর ধরে বন্ধ ঋতুস্রাব, তবু বিয়ে; স্ত্রী'র আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট
বিবাহবিচ্ছেদের বিরুদ্ধে স্ত্রী'র আবেদন খারিজ করে দিল হাইকোর্ট ৷ তবে, ভরণপোষণ জন্য চার মাসের মধ্যে 5 লক্ষ টাকা স্বামীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ৷

Published : December 11, 2025 at 8:16 PM IST
বিলাসপুর, 11 ডিসেম্বর: স্ত্রী'র বিবাহবিচ্ছেদের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ করে দিল ছত্তিশগড় হাইকোর্ট ৷ কারণ, বিয়ের আগে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও তা না-জানিয়ে বিয়ে করা মানসিক নিষ্ঠুরতা ৷ বিচারপতি এদিন জানিয়েছেন, ঋতুস্রাব না-হওয়ার কথা গোপন করা এবং বৈবাহিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে না-দেওয়া মানসিক নিষ্ঠুরতার (Mental Cruelty) আচরণের সমান ৷ তবে ভরণপোষণস্বরূপ স্ত্রীকে চার মাসের মধ্যে 5 লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য স্বামীকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ৷
হাইকোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ছত্তিশগড়ের কবিরধাম জেলার ওই মহিলার 2015 সালের 5 জুন বিয়ে হয় ৷ প্রথম দু'তিন মাস তাদের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল ৷ পরে দু'জনের মধ্য ঝগড়াঝাটি বাড়তে থাকে। স্ত্রী'র কাছ থেকে ডিভোর্স চেয়ে পারিবারিক আদালতে আবেদন করেন স্বামী ৷ আদালত দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ দেন ৷ পরবর্তীতে স্ত্রী পারিবারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ছত্তিশগড় হাইকোর্টে আপিল করেন। কিন্তু হাইকোর্ট স্ত্রী'র আপিল খারিজ করে পারিবারিক আদালতের নির্দেশ বহাল রাখে ৷
স্বামী পারিবারিক আদালতে বলেন, "একদিন আমার স্ত্রী জানায় ওর ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমি তখন ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই ৷ আমার স্ত্রী ডাক্তারকে বলে 10 বছর হয়েছে তার ঋতুস্রাব হচ্ছে না। সেখানে গিয়ে কোনও সমস্যার সমাধান না-মেলায় পরবর্তীকালে অন্যান্য ডাক্তারকেও দেখায় ৷ সেখানে নানা পরীক্ষা হয় আমার ও স্ত্রী'র ৷ গর্ভধারণের ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয় রিপোর্টে ৷ তখন আমি স্ত্রীকে ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলি যে আমাদের ভবিষ্যত কী হবে ৷ আগে জানলে বিয়েটা হত না ৷"
এরপরই ওই ব্যক্তি আরও বলেন, "বিয়ের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে এই তথ্য গোপন করেছিলেন স্ত্রী'র পরিবার। স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেন, যদি আমাকে এবিষয়ে আগে বলে তাহলে আমি তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করতাম। কিন্তু এখন স্ত্রী'র শারীরিক এই অবস্থার কারণে আমাদের ভবিষ্যত খাদের কিনারে ৷ এছাড়াও, আমার বুড়ো বাবা, মাকে দেখতে অস্বীকার করে স্ত্রী ৷ বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এলে যত্ন নিত না ৷ সেই সঙ্গে, আমি খুবই কষ্ট পেয়েছিলেন। আমি তারপরই ডিভোর্স দেব বলে সিদ্ধান্ত নিই ৷" স্বামীর এই বক্তব্য শোনার পর পারিবারিক আদালত তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ দেন ৷
কিন্তু স্ত্রী পরিবারিক আদালতের দেওয়া ডিভোর্সের নির্দেশের বিরুদ্ধে ছত্তিশগড় হাইকোর্টে আবেদন করেন ৷ তবে উচ্চ আদালতে স্ত্রী বলেন, "আমাকে বিয়ের পর বাড়ির সমস্ত কাজের লোককে ছাড়িয়ে দেওয়া হয় ৷ সারাদিন ঘরের সমস্ত কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল আমাকে ৷ আমাকে বহুবার হয়রানি করা হয় ৷ 'বন্ধ্যা'ও বলা হয়েছিল ৷ তাই 2016 থেকে আলাদা থাকতে শুরু করি ৷
উভয় পক্ষের শুনানির পর, ছত্তিশগড় হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে তারা 2016 সাল থেকে আলাদাভাবে থাকছে। মেডিক্যাল নথিতেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে স্ত্রীর চিকিৎসা চলছে ৷ কিন্তু তিনি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে তার অবস্থার সম্পূর্ণ উন্নতি হয়েছে ৷ তাই মহিলার আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি তাঁর স্বামীর দাবিকে সমর্থন করেন ৷ এমন ঘটনায় যেখানে ভবিষ্যত জুড়ে রয়েছে ৷ বিয়ের আগে এতদিন ধরে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া, আর তা লুকিয়ে রাখা মানসিক নিষ্ঠুরতা ৷ তাই পরিবার আদালতের বিবাহবিচ্ছেদের রায় বহাল থাকছে ৷ আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে স্বাভাবিক বৈবাহিক সম্পর্কে ফিরে আসা অসম্ভব। তবে স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য স্বামী চার মাসের মধ্যে 5 লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি ৷

