ETV Bharat / bharat

পাহাড়ি রাস্তায় বাঁক নিতেই খাদে পড়ল গাড়ি, মৃত 18

পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা ৷ ইতিমধ্যেই 18 জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ৷ আরও মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে ৷

TERRIBLE ACCIDENT IN AP
ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্পিয়ার কর্পসের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছেন (X@Spearcorps)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 11, 2025 at 6:46 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

আঞ্জাও (অরুণাচল প্রদেশ), 11 ডিসেম্বর: পাহাড়ি রাস্তা বাঁক নিতেই এক হাজার মিটার গভীর খাদে পড়ে যায় পিকআপ ভ্যান ৷ মৃত্যু হয়েছে 18 জনের ৷ এখনও নিখোঁজ তিন ৷ মৃতরা সকলেই অসমের তিনসুকিয়া জেলার ৷

গত 8 ডিসেম্বর অরুণাচল প্রদেশের আঞ্জাও জেলার হায়ুলিয়াং এবং চাগলাগামের মাঝামাঝি দুর্গম রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জঙ্গলঘেরা ওই খাদে পড়ে যায় গাড়িটি ৷ ওইদিন রাতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে এক ব্যক্তি কোনওক্রমে বেঁচে যান ৷ তিনি 10 ডিসেম্বর রাতের দিকে চিপ্রা জিআরইএফ ক্যাম্পে পৌঁছে খবর দেন ৷ তারপর খবরটি সামনে আসে ৷

বৃহস্পতিবার জেলাপ্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অন্তত 18 জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে ৷ এখনও তিন জন নিখোঁজ ৷ ওই এলাকাটি এতটাই দুর্গম যে, উদ্ধারকার্য ব্যাহত হচ্ছে ৷ মৃতরা সকলেই অসমের তিনসুকিয়া জেলার বাসিন্দা ৷ সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত দুর্ঘটনায় জীবিত এক ব্যক্তির বয়ান উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ঘটনাটি গত 8 ডিসেম্বরের ৷ পাহাড়ি রাজ্যটির পূর্বাঞ্চলের আঞ্জাও জেলার হায়ুলিয়াং-চাগলাগাম রাস্তা দিয়ে একটি পিক-আপ ভ্যানে করে তিনসুকিয়া জেলার 22 জন শ্রমিক কাজে যাচ্ছিলেন। তখনই 1000 ফুট গভীর খাদে পড়ে যায় গাড়িটি ৷

তিনি আরও জানান, আজ সকাল 11টা নাগাদ আম খবর পৌঁছয় ৷ দুর্ঘটনাস্থলটি চাগলাগাম থেকে প্রায় 12 কিলোমিটার দূরে একটি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ৷ ওখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত। জীবিত ব্যক্তিই তাঁদেরকে খবর দেন ও তার আগে কোনও স্থানীয় সংস্থা, ঠিকাদার বা অন্য কোনও প্রতিনিধি এই দুর্ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেননি ৷ এখনও পর্যন্ত 18টি দেহ শনাক্ত করা হয়েছে ৷ খাদের নীচ থেকে দড়ি দিয়ে টেনে দেহগুলিকে উদ্ধার করা হচ্ছে। বাকি তিন জনের খোঁজ চলছে ৷ চিপরা জেনারেল রিজার্ভ ইঞ্জিনিয়ার ফোর্স (জিআরইএফ) তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ৷

মহেন্দ্র রাওয়াত আরও জানান, বৃহস্পতিবার ভোরবেলা সেনাবাহিনীর স্পিয়ার কর্পস একাধিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, মেডিকেল টিম, জিআরইএফ প্রতিনিধি, স্থানীয় পুলিশ, এনডিআরএফ কর্মী এবং হায়ুলিয়াংয়ের এডিসিকে একত্রিত করে।

হায়ুলিয়াংয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) আঞ্জাও-য়ের পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানিয়েছেন ৷ তিনি ইতমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। জেলা মেডিক্যাল অফিসারকে দেহগুলিকে তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ৷ তিনসুকিয়ার সিনিয়র পুলিশ সুপার মায়াঙ্ক কুমার বলেন, "22 জন শ্রমিক একটি ছাত্রাবাস নির্মাণের জন্য অরুণাচল প্রদেশে যাচ্ছিলেন ৷ তাঁদের মধ্যে একজন বুধেশ্বর দীপ, কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে যান ৷ তিনি বুধবার সকালে তাঁর আত্মীয়দের ফোন করে পথ দুর্ঘটনার বিষয়টি জানান ৷"

মৃতরা হলেন, রাহুল কুমার, সোমির দীপ, অর্জুন কুমার, পঙ্কজ মানকি, অজয় ​​মানকি, বিজয় কুমার, অভয় ভূমিজ, রোহিত মানকি, বীরেন্দ্র কুমার, আগর তাঁতি, ধীরেন চাত্রিয়া, রোজনি নাগ, দীপ গোওয়ালা, রামসেবক সুনা, সোনাটন নাগ, সঞ্জয় কুমার, করণ কুমার এবং জুনাশ মুন্ডা।