বোরখা না-পরে বাড়ি থেকে বেরনোয় স্ত্রী ও দুই কন্যাকে খুন ! গ্রেফতার ব্যক্তি
এক সপ্তাহ আগে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা করে ঘরের ভিতর পুঁতে দেয় ব্যক্তি ৷ মঙ্গলবার অভিযুক্তের বাবা নিখোঁজ ডায়েরি করায় ঘটনাটি সামনে আসে ৷

Published : December 17, 2025 at 7:47 PM IST
শামলি (উত্তরপ্রদেশ), 17 ডিসেম্বর: ঝগড়া করে বোরখা না-পরে দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন স্ত্রী ৷ বোরখা না-পরার জন্য স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হত্যা করে ঘরের মধ্যে পুঁতে রাখেন এক ব্যক্তি ! ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের শামলির কান্ধলা থানার অন্তর্গত গারহিদৌলত গ্রামে ৷
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ঘটনাটি ঘটে ৷ কিন্তু, মঙ্গলবার অভিযুক্তের বাবা পুলিশে অভিযোগ জানানোর পর ঘটনাটি সামনে আসে ৷ ঘটনার তদন্তে মহিলার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি জানতে পারা যায় ৷ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷
ঘটনা প্রসঙ্গে এসপি নরেন্দ্র প্রতাপ সিং জানান, কান্ধলা থানার অন্তর্গত গারহিদৌলত গ্রামের বাসিন্দা ফারুখের 5 সন্তান । স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পরিবারের থেকে আলাদা থাকত । ফারুখের স্ত্রী তাহিরা (32) এবং দুই মেয়ে আফরিন (12) এবং সারিন (5) গত 10 ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিল । ফারুখের বাবা দাউদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন । এরপর ফারুখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় । প্রথমে সে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে ৷ কিন্তু, জিজ্ঞাসাবাদের পর সে স্ত্রী ও কন্যাদের হত্যার কথা স্বীকার করে ।
ফারুক জানায়, স্ত্রী তাহিরা প্রায়শই ঝগড়া করতেন । এক মাস আগে ঝগড়ার পর সে বোরকা না-পরেই তার বাপের বাড়ি চলে যান । বিষয়টিতে গভীরভাবে বিরক্ত হয় সে ৷ সেই থেকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় । এক মাস পরে যখন তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে আসে, তখন সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিন সন্তানকে দাদুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় । বাড়িতে তার দুই মেয়ে ও স্ত্রী ছিলেন । সেই রাতে স্ত্রীকে বাড়ির উঠোনে গুলি করে । গুলির শব্দ শুনে তার বড় মেয়ে ঘটনাস্থলে আসে এবং তাকেও গুলি করে । তারপর সে তার ছোট মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং তাদের মৃতদেহ বাড়িতে সেফটি ট্যাঙ্কের জন্য খনন করা একটি গর্তে পুঁতে দেয়।
এসপি নরেন্দ্র প্রতাপ সিং জানান, ফারুক গর্তটি খনন করেছিল এবং তিন জনেরই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় । হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল এবং খালি কার্তুজও উদ্ধার করা হয়েছে । ঘটনার বাকি দিকগুলিও তদন্ত করা হচ্ছে ৷

