ETV Bharat / bharat

নিঃশব্দে শিকারে থাবা ! বাবার হাত থেকে নাবালককে ছিনিয়ে নিল চিতাবাঘ

বাবার সঙ্গে মন্দির দর্শন করে ফেরার পথে বালকের ঘাড় কামড়ে ধরল চিতাবাঘ ৷ চোখের সামনে ছটফটিয়ে ছেলের মৃত্যু দেখলেন অসহায় বাবা ৷

Leopard Attack
প্রতীকী ছবি (এএনআই)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 12, 2025 at 8:48 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

রণথম্বোর (রাজস্থান), 12 ডিসেম্বর: মন্দির দর্শন করে বাবার হাত ধরে ফিরছিল বছর আটের ছেলে ৷ মৃত্যু যে এভাবে অপেক্ষা করছিল তা স্বপ্নেও ভাবেনি কেউই ৷ চোখের সামনে ছেলেকে এভাবে দেখেও নিরুপায় হয়ে পড়েন বাবাও ৷ চিৎকার করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি তিনি ৷

বুধবার সন্ধ্যার ঘটনা ৷ রাজস্থানের রণথম্বোর জাতীয় উদ্যানের ঘের সংলগ্ন পুরাতন শহর এলাকার অ্যান্টিলা বালাজি মন্দির দর্শনে গিয়েছিল বাবা-ছেলে ৷ পরিদর্শন শেষে বাবার হাত ধরেই বাড়ি ফিরছিল বিক্রম ৷ হঠাৎ ঝোপ থেকে বেরিয়ে এসে একটি চিতাবাঘ তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ৷ গলার কাছটা কামড়ে ধরে দ্রুত বিক্রমকে নিয়ে জঙ্গলে চলে যায় হিংস্র চারপেয়ে ৷ এই দৃশ্য দেখে চিৎকার করতে থাকেন বিক্রমের বাবা ৷ স্থানীয়রা এসে চিতাবাঘটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকেন ৷ বেশ কিছুুক্ষণ পর চিতাবাঘটি নাবালককে ছেড়ে দিলেও ততক্ষণে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বিক্রমের ।

জানা গিয়েছে, নিহত বিক্রম, রামজিলাল বানজারার ছেলে ৷ গোপালপুরা বানজারা বস্তির (রামদ্বারার কাছে) কাছে তাদের বাড়ি । বাবা রামজিলাল জানান, তিনি সন্ধ্যায় ছেলেকে বালাজি মন্দিরে দর্শন করতে নিয়ে গিয়েছিলেন । ফেরার পথে ছেলের হাত ধরেই হাঁটছিলেন তিনি ৷ ঠিক তখনই মন্দির থেকে কিছু দূরে, চিতাবাঘটি পিছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছেলেকে টেনে নিয়ে যায় । চিৎকার করতে করতে পাথর হাতে নিয়ে পশুটির পিছনে দৌড়ে যায় রামজিলাল ।

আওয়াজ শুনে কলোনির অন্যান্য লোকেরাও দৌড়ে এসে পাথর ছুড়ে শিশুটিকে বন্যপশুটির হাত থেকে মুক্ত করে ৷ কিন্তু চিতাবাঘের কামড়ে বিক্রমের ঘাড়ে এবং শরীরে গভীর ক্ষত হয়ে গিয়েছিল ৷ যার ফলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায় । খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখে । বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে ।

রণথম্বোরের জেলা বনাধিকারিক (ডিএফও) মানস সিং বলেন, "দুর্ঘটনাস্থলে গত তিন দিন ধরে চিতাবাঘের চলাচল লক্ষ্য করা যাচ্ছিল । বনাধিকারিকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছিলেন ৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারপরও এই দুর্ঘটনাটি ঘটে গেল । অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা ৷ সরকারি নিয়ম মেনে পরিবারটি সম্ভাব্য সকল সহায়তা পাবে । বর্তমানে, আক্রমণকারী চিতাবাঘটিকে ট্র্যাক করা হচ্ছে এবং জঙ্গলে একটি দল মোতায়েন করা হয়েছে । এই ঘটনা পুরো এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে । মানুষ রাতে ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছে ।"

এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে । স্থানীয় বানজারা সম্প্রদায়ের লোকজন-সহ বিপুল সংখ্যক মানুষ জেলা হাসপাতালে পৌঁছে বন বিভাগ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে । তারা মৃতের পরিবারকে 30 লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরির দাবি জানায় ।

পরিস্থিতির অবনতি দেখে জেলা কালেক্টর কানারাম, পুলিশ সুপার অনিল কুমার বেনিওয়াল, ডিএফও মানস সিং-সহ ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা হাসপাতালে পৌঁছে লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন । কালেক্টর এবং এসপি পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ।

রণথম্ভোর অঞ্চলে প্রায়ই বন্যপশুর হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে আসে ৷ চলতি বছর এখানে বাঘের আক্রমণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে । এই হামলাটি নিয়ে 2025 সালে এখনও পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হল ।