ঘুমন্ত শিশুকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিল চিতাবাঘ, জঙ্গল থেকে উদ্ধার দেহ
চিতাবাঘের আতঙ্কে জেরবার গ্রামবাসী ৷ ঘুমন্ত শিশুকে মায়ের কোল থেকে তুলে নিয়ে গেল চিতাবাঘ ৷ দেহ উদ্ধার হল জঙ্গল থেকে ৷

Published : November 30, 2025 at 8:41 PM IST
বলরামপুর, 30 নভেম্বর: রাত তখন 2টো ৷ উত্তরপ্রদেশের বলরামপুরের নাভালগঞ্জ গ্রামে দেড় বছরের ছেলেকে বুকের কাছে নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন মা ৷ আচমকায় ছেলের কান্না শুনতে পান ৷ চোখ খুলতেই দেখেন একরত্তি ছেলেকে মুখে করে নিয়ে চলে যাচ্ছে চিতাবাঘ ৷ চিৎকার-চেঁচামেচিতে নিমেষের মধ্যে চিতাবাঘটি বাচ্চাটিকে নিয়ে যায় কাছে থাকা সোহলেভার জঙ্গলের ৷
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা তাঁর সন্তানকে কয়েকদিন আগে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন ৷ সেখানেই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনাটি ৷ জেলাশাসক ঘটনাটি জানার পরই বন দফতরকে চিতাবাঘটিকে ধরার নির্দেশ দেন। বন দফতরের আধিকারিকরা জঙ্গল থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার করেন ৷ ইতিমধ্যেই বন বিভাগের একটি দল চিতাবাঘটিকে ধরার চেষ্টা করছে।
এনিয়ে বনাধিকারিক মনোজ কুমার বলেন, "সোহলেভা বনাঞ্চলের নাভালগঞ্জ গ্রামের ধন্নাবতী তাঁর দেড় বছরের ছেলে রোহিতকে নিয়ে এক পরিজনদের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন ৷ শনিবার রাত প্রায় 2টোর দিকে, আত্মীয়ের বাড়ির বারান্দায় তিনি ছেলেকে নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন ৷ আচমকায় ছেলের কান্নার আওয়াজ পেয়ে চিৎকার শুরু করেন ৷ দেখতে পান একটি চিতাবাঘটি তাঁর কোলের সন্তানকে নিয়ে মুখে করে পালাচ্ছেন ৷ বাড়ির লোকজন উঠে পড়ার আগে হিংস্র চারপেয়টি শিশুটিকে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায় ৷"
তিনি আরও বলেন, "তড়িঘড়ি গ্রামবাসীরা পুলিশ এবং আমাদের ঘটনাটি জানান। পুলিশ এবং আমাদের 4-5 জনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। ওই এলাকার পশ্চিমের দিকে যে জঙ্গল রয়েছে সেখানে খোঁজ শুরু করলে দেড় বছরের শিশুটির ক্ষত-বিক্ষত দেহ দেখতে পায়।" মৃত শিশুটির মা ধন্নাবতী জানান, তিনি গুরুদাসপুরওয়া গ্রামের বাসিন্দা ৷ তাঁর বোনের বিয়ে উপলক্ষে নাভালগঞ্জ গ্রামে এসেছিলেন ৷
বন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের তিনটি দল এই মুহূর্তে ওই এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে ৷ ট্র্যাপিং ক্যামেরা বসানো হয়েছে ৷ বনাধিকারিক মনোজ কুমার আরও জানিয়েছেন, শিশুটির মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছে চিতকাবাঘের কোনও পায়ের ছাপ পাওয়া যায়নি। চিতাবাঘটিকে শীঘ্রই ধরা পড়বে ৷
জেলাশাসক বিপিন জৈন জানিয়েছেন, চিতাবাঘের সন্ধানে ট্র্যাপিং ক্যামেরা বসানো হয়েছে ৷ বন বিভাগের তিনটি দল গঠন করা হয়েছে, চিতাবাঘটিকে ধরার জন্য ৷ খাঁচাও পাতা হয়েছে ৷ বন্যপ্রাণীদের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে নজরদারিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীকে জেলাশাসক সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ৷ সেইসঙ্গে বাড়ির বাইরের আলো এবং দরজা বন্ধ করে ঘুমানোর আবেদন করেছেন। দিনেরবেলা এলাকার বাচ্চাদের জঙ্গলের কাছে যেতে বারণ করেছেন ৷

