গাড়ির ইএমআই দেন 53 হাজার, অথচ বঞ্চিত করেন অটিজিমে আক্রান্ত সন্তানকে ! আদালতের তোপের মুখে বাবা
মাসে কমকরে 2 লক্ষ টাকা রোজগার ৷ তবু অটিজিমে আক্রান্ত সন্তান এবং স্ত্রীর দায়িত্ব নিতে রাজি না হওয়ায় আদালতের তোপের মুখে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা ৷

Published : July 5, 2026 at 8:51 AM IST
বেঙ্গালুরু, 5 জুলাই: নতুন গাড়ির জন্য় 53 হাজার টাকার ইএমআই দিতে পারেন আর অটিজমে আক্রান্ত সন্তানকে মাসে 30 হাজার টাকা দিতে পারবেন না ? খোরপোশ সংক্রান্ত মামলায় কর্নাটক হাইকোর্টের এমনই প্রশ্নের মুখে পড়তে হল বেঙ্গালুরুর এক ব্যক্তিকে ৷ শেষমেশ মামলায় পারিবারিক আদালতের নির্দেশ বহাল রাখলেন হাইকোর্টের বিচারপতি চিল্লাকুর সুমালথা ৷
এর আগে বেঙ্গালুরুর পারিবারিক আদালত ওই ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়েছিল, খোরপোশ বাবদ স্ত্রীকে মাসে 10 হাজার টাকা এবং অটিজিমে আক্রান্ত সন্তানের চিকিৎসা এবং অন্য খরচ বাবাদ 20 হাজার টাকা করে দিতে হবে ৷ সন্তানের পড়াশুনোর জন্য আলাদা করে দিতে হবে আরও 20 হাজার ৷ এই নির্দেশের বিরোধিতা করে হাইকোর্টে আবেদন করেন স্বামী ৷ তাঁর দাবি, প্রতি মাসে স্ত্রী ও সন্তানের জন্য 30 হাজার টাকা দেওয়ার মতো আর্থিক পরিস্থিতি তাঁর নেই ৷ টাকার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হোক ৷
কিন্তু শুনানিতে স্ত্রীর আইনজীবী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থার অধিকর্তা ৷ আয় মাসে কমপক্ষে 2 লক্ষ টাকা ৷ গত পাঁচ বছরে গড়ে 14 থেকে 28 লক্ষ টাকা করে রোজগার করেছেন ৷ শুনানিতে আরও উঠে আসে অতিসম্প্রতি তিনি একটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন ৷ তার জন্য ইএমআই বাবদ দিতে হয় 53 হজার টাকা ৷ এখানেই বিচারপতির প্রশ্ন, যে ব্যক্তি মাসে এত টাকা খরচ করে ব্য়ক্তিগত শখ পূরণ করতে পারেন, তিনি নিজের স্ত্রী ও সন্তানের খেয়াল রাখবেন না কেন ?
ঘটনার সূত্রপাত বেশকিছু দিন আগে ৷ বেঙ্গালুরুর পারিবারিক আদালতে মামলা করেন স্ত্রী ৷ খোরপোশ এবং সন্তানের দেখাশুনোর জন্য স্বামীকে প্রতি মাসে 40 হাজার টাকা দিতে হবে বলে তাঁর দাবি ৷ পাশাপাশি আইনি খরচ চালাতে আরও 25 টাকাও দাবি করেন স্ত্রী ৷ পারিবারিক আদালত দু'পক্ষের বক্তব্য শোনার পর জানায়, স্ত্রীকে মাসে 10 হাজার টাকা করে দিতে হবে স্বামীকে ৷ সন্তানের চিকিৎসা জন্য় দিতে হবে 20 হাজার ৷ এছাড়া পড়াশুনোর খরচ বাবদ আরও 20 হাজার টাকা করে দিতে হবে ওই ব্যক্তিকে ৷
এত টাকা দিতে চান না দাবি করে হাইকোর্টে মামলা করেন স্বামী ৷ শুনানিতে তাঁর আইনজীবী যুক্তি দেন, স্ত্রী সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন ৷ কেউ তাঁকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেনি ৷ শুধু তাই নয়, কোনও আদালত নির্দেশ দেওয়ার আগে স্বামী নিজে থেকে মাসে 5 হাজার টাকা করে দিচ্ছিলেন স্ত্রী ও সন্তানকে ৷
একইসঙ্গে স্বামীর আইনজীবী আরও দাবি, স্ত্রী উচ্চশিক্ষতা ৷ রোজগার করে নিজের এবং সন্তানের দেখভাল করার সম্পূর্ণ ক্ষমতা তাঁর আছে ৷ তাঁকে কারও উপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না ৷ এমতাবস্থায় তিনি খোরপোশের দাবি করতেই পারেন না ৷ কিন্তু এই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি কর্ণাটক হাইকোর্ট ৷ বিচারপতির স্পষ্ট নির্দেশ, মামলায় পারিবারিক আদালতের রায়ই বহাল থাকবে ৷ মানে স্ত্রী ও সন্তানকে মাসে 30 হাজার টাকা করে দিতেই হবে স্বামীকে ৷

