ETV Bharat / bharat

বারবার স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের সময় নষ্ট, বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় স্ত্রী'র জরিমানা করল হাইকোর্ট

বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছিলেন স্বামী ৷ সেই মামলায় বারবার স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন স্ত্রী ৷ এইভাবে পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে ৷ মামলার নিষ্পত্তি হয়নি ৷

High Court Divorce Case
হাইকোর্টে বিবাহবিচ্ছেদর মামলা (প্রতীকী ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 26, 2026 at 5:26 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

মহম্মদ রফিক মুল্লা

বেঙ্গালুরু, 26 ফেব্রুয়ারি: বারবার শুনানিতে বাধা দিয়ে আদালতের সময় নষ্ট করার অভিযোগে এক মহিলাকে জরিমানা করল কর্ণাটক হাইকোর্ট ৷ পাঁচ বছর আগে স্বামী বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছিলেন ৷ কিন্তু মহিলা সেই মামলায় বারবার স্থগিতাদের জারির আবেদন জানিয়েছেন ৷ এইভাবে পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে ৷ বিবাহবিচ্ছেদের মামলার নিষ্পত্তি হয়নি ৷

এই আবহে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, এভাবে কেউ আদালতের সময় নষ্ট করতে পারে না ৷ মামলাকারীর ইচ্ছে বা সুবিধেমতো ফ্যামিল কোর্ট বা হাইকোর্ট, কোনও আদালতই চলবে না ৷ দিনের পর দিন অন্তর্বর্তী আবেদন জানিয়ে মামলায় স্থগিতাদেশ জারি মেনে নেওয়া হবে না ৷

কর্ণাটকের রামানাগাড়া জেলার বাসিন্দা এক মহিলার দায়ের করা মামলায় এই রায় দিয়েছেন কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি চিলাকুরু সুমালতা ৷ আবেদনকারী বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় সাক্ষ্যদের জেরা করার অনুমতি চেয়ে অন্তর্বর্তী আবেদন করেছিলেন ৷ কিন্তু পারিবারিক কোর্ট তা খারিজ করে দেয় ৷ ফ্যামিলি কোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি ৷

2019 সালে মামলা দায়ের

আদালত সূত্রে খবর, 2019 সালের 4 এপ্রিল তাঁর স্বামী ফ্যামিলি কোর্টে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন ৷ এই প্রেক্ষিতে স্ত্রীকে নোটিশ পাঠানো হয় ৷ নোটিশ পাওয়ার ছ'মাস বাদে স্ত্রী আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেন ৷ এই বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় তাঁর আপত্তি থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তা জানাননি ৷ ফলে 2022 সালের 22 জুন ফ্যামিলি কোর্ট রায়ে জানায়, সাক্ষ্যদের জেরা করা যায়নি ৷

এরপর স্ত্রী নতুন করে আপত্তি জানানোর এবং সাক্ষ্যদের জেরার আবেদন জানিয়ে ফ্যামিলি কোর্টের দ্বারস্থ হন ৷ আদালত তাঁর আবেদনে সম্মতি দেয় ৷ এরপর তিনি বারবার মামলায় স্থগিতাদেশ চেয়ে সাক্ষ্যদের জেরা পর্বে বাধা দেন ৷ এই অবস্থায় আদালত একজন কমিশনার নিয়োগ করেন ৷ তিনি এই বিষয়টি দেখাশোনা করবেন ৷ এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্ত্রী ফ্যামিলি কোর্টে ফের অন্তর্বর্তী আবেদন জানান ৷ কিন্তু এবার তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় ফ্যামিলি কোর্ট ৷ তখন তিনি আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ৷

হাইকোর্ট, পারিবারিক আদালতের কমিশনারের নিয়োগের নির্দেশ বাতিল করে দেয় ৷ পাশাপাশি স্ত্রীকে দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তিতে সহযোগিতার নির্দেশ দেয় ৷ এতদসত্ত্বেও তিনি পুনরায় সাক্ষ্য জেরা বিবেচনা করার আবেদন জানান ৷ এরই সঙ্গে ফের স্থগিতাদেশের আবেদন করেন ৷ এবারও তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় ফ্যামিলি কোর্ট ৷ এরপর স্ত্রী পারিবারিক আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আবার কর্ণাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ৷

হাইকোর্টের রায়

স্বামী ও স্ত্রী- দুই পক্ষের নথি এবং শুনানির সওয়াল-জবাব খতিয়ে দেখার পর হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ- স্ত্রী একের পর এক অন্তর্বর্তী আবেদন জানিয়ে চলেছেন ৷ এর ফলে ফ্যামিলি কোর্ট ও হাইকোর্টে মামলা বারবার স্থগিত হয়ে যাচ্ছে ৷

বেঞ্চ জানায়, শুধু এই অন্তর্বর্তী আবেদন করার জন্য অনির্দিষ্টকাল ধরে শুনানি স্থগিত থাকবে, এমনটা হতে পারে না ৷ আদালত জানিয়েছে, মামলাকারীর সুবিধে বা ইচ্ছেমতো শুনানি প্রক্রিয়া চলবে না ৷ ফ্যামিলি কোর্টের আইন এবং সিভিল প্রসিডিউর কোড-এর অপব্যবহার করে প্রতিপক্ষ ও আদালতের কাজে অসুবিধের সৃষ্টি করা যাবে না ৷ এভাবে চললে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় এক দশকেও কোনও মামলার নিষ্পত্তি হবে না ৷

দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব

স্ত্রীর তরফে আইনজীবী সওয়াল করেন, ফ্যামিলি কোর্ট তাঁর মক্কেলের দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের আবেদনে ছাড়পত্র দিয়েছে ৷ তাই পুনরায় সাক্ষ্য জেরা করা হোক ৷ এই আবেদনের বিরোধিতা করেন স্বামীর তরফে আইনজীবী ৷ তিনি জানান, 2019 সালে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের হয়েছিল ৷ 2025 সাল পর্যন্ত স্ত্রী দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের কোনও দাবি তোলেননি ৷ একের পর এক দাবিদাওয়া দিয়ে তিনি শুধু স্থগিতাদেশ জারির আবেদন করে গিয়েছেন ৷ ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী ভরণপোষণের জন্য 27 লক্ষ টাকা পেয়েছেন স্ত্রী ৷ এরপরই তিনি দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের আবেদন জানান এবং শুনানি আরও দীর্ঘ করতে চেয়েছেন ৷ আইনজীবী আদালতে স্ত্রীর আবেদন খারিজ করার আর্জি জানান ৷

স্বামী ও স্ত্রীর তরফে সওয়াল-জবাব শোনার পর কর্ণাটক হাইকোর্ট আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য স্ত্রীকে 10 হাজার টাকা জরিমানা করে ৷ আদালতের নির্দেশ, তিন সপ্তাহের মধ্যে এই অর্থ সেনার ওয়েলফে ফান্ডে জমা দিতে হবে ৷ ফ্যামিলি কোর্টকে আদালতের নির্দেশ, জরিমানা দেওয়া হয়েছে, এই প্রমাণ হাতে পেয়ে তারপরই যেন মহিলার পড়ে থাকা অন্তর্বর্তী আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে ৷