বাবার মৃত্যুর পর সংসারের ভার ছিল তাঁরই কাঁধে, বিমান দুর্ঘটনায় ফেরা হল না সঞ্জয়ের
সঞ্জয়ের চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্য়াম্বুলেন্সে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ৷ কিন্তু দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে ৷ মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্ত্রীরও ৷ অনাথ দুই সন্তান ৷

Published : February 24, 2026 at 9:24 PM IST
লাতেহার (ঝাড়খণ্ড), 24 ফেব্রুয়ারি: জঙ্গলে বিমান ভেঙে মৃত্যু হয়েছে বিমানে থাকা সাত জনেরই ৷ ওই বিমানে সঞ্জয় কুমারের চিকিৎসা করাতে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ৷ কিন্তু চিকিৎসা আর হয়ে ওঠেনি ৷ সোমবার সন্ধ্যায় ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার সিমারিয়া থানা এলাকার করমতান্ড জঙ্গলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভেঙে পড়ে তাঁরও মৃত্যু হয় ৷
বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সঞ্জয়ের স্ত্রী অর্চনা এবং তাঁর ভাগ্নে ধ্রুব কুমারও ৷ সঞ্জয় পালামু জেলার বাকোরিয়ায় একটি হোটেল চালাতেন ৷ এক সপ্তাহ আগে তাঁর হোটেলে একটি দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে দগ্ধ হন সঞ্জয় ৷ তিনি এলাকার দেবকমল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৷ কিন্তু, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ৷
#WATCH | Jharkhand: A team of DGCA (Directorate General of Civil Aviation) is investigating the site where an air ambulance crashed last night, killing all 7 people onboard. The team is collecting all evidence from the wreckage to carry out further investigation. pic.twitter.com/FNdR3tg4D0
— ANI (@ANI) February 24, 2026
তাঁর পরিবারের প্রধান রোজগেরে সদস্য ছিলেন সঞ্জয় ৷ তাঁর বাবাও হোটেলের ব্যবসা চালাতেন ৷ 2004 সালে মাওবাদীরা তাঁকে হত্যা করে ৷ এরপর পুরো পরিবারের দায়িত্ব এসে বর্তায় সঞ্জয়ের ঘাড়ে ৷ তখন পরিবার চান্দওয়ায় এসে বসবাস শুরু করে ৷ সঞ্জয় সাও তখন বাকোরিয়ায় নতুন করে ব্যবসা শুরু করেন ৷ সেখানেই হোটেল খোলেন ৷ বাবার মৃত্যুর পর পরিবার সামলাচ্ছিলেন তিনিই ৷
সঞ্জয় ও তাঁর ভাই দু'জনে মিলে হোটেলটি চালাতেন ৷ লকডাউনের পর থেকে হোটেলের অবস্থা খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না ৷ সঞ্জয় মাঝেমধ্যে হোটেলে এসে কাজকর্ম তদারকি করতেন ৷
মাত্র আট দিন আগে গত 16 ফেব্রুয়ারি সঞ্জয় হোটেলে এসে রান্নার কাজে সাহায্য করছিলেন ৷ হঠাৎ তখন আগুন লেগে যায় ৷ পরে জানা গিয়েছে, শট সার্কিট থেকে হোটেলে আগুন লেগেছিল ৷ ওই আগুনে সঞ্জয় গুরুতর জখম হন ৷ আগুন লাগার পর, সাতবারওয়া থানার পুলিশ দমকল বাহিনীকে খবর দেয় ৷ দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ৷ সাতবারওয়া থানার আধিকারিক বিশ্বনাথ রানা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় ৷ স্থানীয় গ্রামবাসীদের মতে, হোটেলে দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল ৷ তাই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে ৷ সঞ্জয় সাওয়ের হোটেলটি জাতীয় সড়কে অবস্থিত ৷
সঞ্জয়কে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ সেখানেই চিকিৎসা চলছিল ৷ পরিবারের লোকজন আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ৷ তাই আট লক্ষ টাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি বুক করা হয়েছিল ৷
সঞ্জয়ের আত্মীয়রা জানালেন চিকিৎসকদের পরামর্শেই 8 লক্ষ টাকা দিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি বুক করা হয় ৷ সঞ্জয়ের সঙ্গে দিল্লি যাচ্ছিলেন তাঁর স্ত্রী অর্চনা এবং তাঁর ভাগ্নে ধ্রুব ৷ কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা 7টা নাগাদ বীরসা মুণ্ডা এয়ারপোর্ট থেকে রওনা দেয় অ্যাম্বুলেন্স ৷ এর খানিক পরেই জঙ্গলে ভেঙে পড়ে ৷ সঞ্জয়ের দুই নাবালক সন্তান রয়েছে ৷ তারা একসঙ্গে বাবা ও মা- দু'জনকেই হারাল ৷

