খালেদার শেষকৃত্যে থাকছেন জয়শঙ্কর, স্পিকারকে পাঠাচ্ছে পাকিস্তান
খালেদার শেষকৃত্যে বিদেশমন্ত্রীর উপস্থিত থাকাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল । থাকছেন নেপাল-শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিও ।

By PTI
Published : December 30, 2025 at 11:44 PM IST
নয়াদিল্লি/ঢাকা, 30 ডিসেম্বর: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকবেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, শেষকৃত্যে যোগ দিতে বুধবার ঢাকা রওনা দেবেন মোদি মন্ত্রিসভার এই প্রবীণ সদস্য। এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ ।
দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার সকালে প্রয়াত হন বাংলাদেশের রাজনীতির 'বেগম জিয়া'। তাঁর প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে। এরপর রাতের দিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্র জানায় বিদেশমন্ত্রী শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকতে ঢাকা যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে ভারতের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রীদের হাজির থাকছেন। নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানানো হয়েছে, খালেদার শেষকৃত্যে অংশ নেবেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী বালানন্দ শর্মা ৷ থাকবেন শ্রীলঙ্কার ভিজিতা হেরথও।
Hon. Bala Nanda Sharma, Minister for Foreign Affairs, to attend the State Funeral of Begum Zia in Dhaka
— MOFA of Nepal 🇳🇵 (@MofaNepal) December 30, 2025
Full text of the Press Release is here: https://t.co/Mt6Pm2j5yr @pmsushilakarki @PM_nepal_ @amritrai555 @lokbchhetri
পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন সে দেশের সংসদের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এ কথা জানিয়েছেন ৷ এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা থাকবেন বলে জানা গিয়েছে ।
Sardar Ayaz Sadiq, Speaker, National Assembly of Pakistan, will represent Pakistan tomorrow at the funeral of Late Begum Khaleda Zia in Dhaka, Bangladesh. https://t.co/BBV93jK5a7
— Ishaq Dar (@MIshaqDar50) December 30, 2025
নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন খালেদা। সেখানেই তিনি প্রয়াত হন। জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে হাসপাতাল থেকে প্রথমে শহরের গুলশান এলাকায় খালেদার বাড়ি 'ফিরোজায়' দেহ নিয়ে আসা হবে। সেখান থেকে মহাখালী ফ্লাইওভার, জাহাঙ্গীর গেট এবং বিজয় সরণি হয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্লাজায় দেহ পৌঁছবে ৷ সেখানকার দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর শেষকৃত্য হবে। কোন কোন রাস্তা ধরে শেষযাত্রা সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যাবে তা জানিয়ে ইতিমধ্য়েই বিবৃতি প্রকাশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ । ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন বলে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। শেষকৃত্য ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হোক তা চাইছে না বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন ।
এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের এই ঢাকা শহরকে কূটনৈতিক মহল তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে। অতীতে বিএনপি বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকার সময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে বেশ কিছু ওঠাপড়া দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে 2001 সাল থেকে 2006 সাল পর্যন্ত দ্বিতীয়বার জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ভারতের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ব্যাপারে তাঁর সংঘাত দেখা দেয় । তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি। এখন পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের উপর তাদের যে বেশি করে নির্ভর করতে হবে তা ভালোভাবোই জানে খালেদার দল। এমতাবস্থায় বিদেশ মন্ত্রীকে পাঠিয়ে ভারতও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

