চোখ খুললেই বিস্ফোরণ ! যুদ্ধ দেখে দেশে ফিরেও আতঙ্কে সুনীল-অরবিন্দরা
দুবাই, ইজরায়েল, ইরান সহ বিভিন্ন দেশে যে সব ভারতীয় আটকে আছেন সরকারের তরফে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে ৷

By PTI
Published : March 3, 2026 at 7:53 PM IST
নয়াদিল্লি, 3 মার্চ : যুদ্ধের আবহে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, ইজরায়েল,ইরান-সহ বিভিন্ন দেশে আটকে পড়েছেন ভারতীয়রা ৷ তাঁদের মধ্যে অনেকে দেশে ফিরে এসেছেন ৷ তবু আতঙ্কের ঘোর কাটছে না ৷ চোখ বন্ধ করলে এখনও বিস্ফোরণের দৃশ্য ভেসে উঠছে ৷ এত হাজার মাইল দূর থেকেও যেন শুনতে পাচ্ছেন বিস্ফোরণের শব্দ !
দেশে ফিরে এমনই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন সেখানে কর্মরত ভারতীয়রা ৷ তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে ৷ এমনকী দেশে ফেরার বিমানে বসেও নিশ্চিত হতে পারছিলেন না ৷ যে কোনও সময়ে হামলার মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন সবসময় ৷ গোটা পথটা কেটেছে ভয় নিয়ে ৷ অবশেষে নিজের দেশে ফিরতে পেরে কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়েছেন ৷
কর্মসূত্রে দুবাইয়ে ছিলেন ভারতীয় নাগরিক সুনীল গুপ্তা ৷ মঙ্গলবার তিনি দেশে ফিরে আসেন ৷ তারপর সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সুনীল বলেন, " যতক্ষণ না পর্যন্ত দিল্লিতে নেমেছি আমি একফোঁটা স্বস্তিতে থাকতে পারেনি ৷ বিমানেও আতঙ্কগ্রস্ত ছিলাম ৷" সুনীল জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন তাঁরা ৷ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি খুব চিন্তায় ছিলাম ৷ কারণ আমি অতীতে এই ধরনের কোনও পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি ৷ সারা বিশ্বে যা ঘটছিল তা আমি দেখছিলাম এবং আরও বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছি ৷ আমি চাইছিলাম যেমন করে হোক যেন বাড়ি ফিরে আসি ৷"
28 শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ ৷ পরবর্তীতে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ৷ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশপথ একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায় ৷ ইন্ডিগো, এয়ারইন্ডিয়া সহ একাধিক সংস্থা বিমান বাতিল করে ৷ ফলে সেখানে আটকে পড়েন বহু ভারতীয় ৷ বাড়ি ফিরতে না পেরে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে হয় তাঁদের ৷ এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় ৷
নয়ডার বাসিন্দা অরবিন্দও আটকে পড়েন দুবাইয়ে ৷ মঙ্গলবার বিশেষ বিমানে তাঁকেও দেশে ফিরিয়ে আনা হয় ৷ তাঁর কথাতেও স্পষ্ট, তীব্র আতঙ্কের মধ্যেই কাটাতে হয়েছে বিগত কয়েকটি দিন ৷ তিনি বলেন, "মাত্র কয়েকদিনের জন্য যাঁরা ওখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁরা ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন ৷ খরচ সামাল দিয়ে উঠতে পারছেন না ৷ তাঁদের মধ্যে অধিকাংশের কাছেই অর্থ নেই ৷ এটাই এখন সবথেকে বড় সমস্যার ৷ "
তিনি যে বিমানের টিকিট বুক করেছিলেন তা বাতিল হয়ে যায় ৷ ফলে বাধ্য হয়ে তাঁকে আরও কয়েকদিন সেখানে থাকতে হয় ৷ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমরা বিভিন্ন ঘটনার সাক্ষী থেকেছি ৷ আমি নিজেই দেখেছি আকাশে বিস্ফোরণ হচ্ছে ৷ মিসাইসগুলিকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছিল ৷ কিন্তু তারপরও আমরা আতঙ্কের মধ্যেই ছিলাম ৷"
কুনওয়ার শাকিল আহমেদের মেয়ে ইরানে পড়াশোনা করছেন ৷ মেয়ের সঙ্গে সোমবার ফোনে কথা বলার সময় মিসাইল বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আতঙ্কিত শাকিল আহমেদ ৷ সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের কাছে নিজের সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন তিনি ৷ জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের হস্টেলের পাশেই বিস্ফোরণ হচ্ছে ৷ সেই শব্দও কথা বলার সময় শুনতে পাচ্ছেন তাঁরা ৷ এদিকে এই পরিস্থিতিতে তাঁর কী করণীয় সেই নিয়েও চিন্তা বাড়ছে শাকিল আহমেদের ৷
তিনি বলেন, "মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে ৷ মেয়ে বলেছেন চিন্তা না করতে ৷ ওই হস্টেলের পাশেই বিস্ফোরণ হয়েছে ৷ তারপরই হস্টেল বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে ৷" ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে শাকিল আহমেদ আরও বলেন, "ভগবান চাইলে আমরা আমাদের আবার দেখা হবে ৷"

