ETV Bharat / bharat

দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন চলল জিন্দ থেকে সোনিপত

হরিয়ানার জিন্দে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন লোকোমোটিভ ট্রেনের সফল ট্রায়াল রান ৷ ট্রেনটি সকাল সাতটা নাগাদ জিন্দ ইয়ার্ড থেকে যাত্রা শুরু করে ৷

INDIA FIRST HYDROGEN TRAIN
প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন চলল জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 25, 2026 at 6:54 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

জিন্দ(হরিয়ানা), 25 ফেব্রুয়ারি: ভারতীয় রেলের ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল বুধবার ৷ এদিন হরিয়ানার জিন্দে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন লোকোমোটিভ ট্রেনের ট্রায়াল রান সফল হয়।

এই প্রকল্পটিকে ভারতীয় রেলের জন্য পরিবেশবান্ধব পরিবহণের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ, বলে মনে করা হচ্ছে ৷ ট্রেনটি সকাল সাতটা নাগাদ জিন্দ ইয়ার্ড থেকে যাত্রা শুরু করে ৷ প্রথমে একটি ডিজেল ইঞ্জিনের সাহায্যে হানসি রোড ব্রিজে চালিত হয় ৷ তারপর সকাল সাড়ে 8টা নাগাদ এটি সোনিপতের উদ্দেশে রওনা হয়।

প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন চলল জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত (ইটিভি ভারত)

সকাল 7টার সময় জিন্দ ইয়ার্ড থেকে ইঞ্জিনটি বের করে প্রথমে ডিজেল ইঞ্জিনের সাহায্যে হানসি রোড ব্রিজে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ তারপর সকাল 8:25 মিনিটে এটি সোনিপতের উদ্দেশ্যে রওনা হয় ৷ রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষামূলক অভিযানের সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে । ইঞ্জিনের গতি, ব্রেক সিস্টেম, জ্বালানি খরচ, সুরক্ষা মান, ট্র্যাকের অবস্থা এবং সিগন্যালিং সিস্টেম ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে কেবলমাত্র সীমিত পরিমাণে হাইড্রোজেন গ্যাস ভর্তি করা হয়েছিল, যাতে প্রয়োজনে ডিজেল ইঞ্জিনটি দ্রুত পুনরায় সংযোগ করা যায়৷ রেলওয়ে কারিগরি দল সকাল থেকেই সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া পরিচালনা করে ৷

ট্রেনের প্রাথমিক যাত্রা স্থির হয় জিন্দ থেকে পিন্ডারা ৷ তারপর ভাম্ভেভা স্টেশন পর্যন্ত নির্ধারিত হয় ৷ এই সময়ের মধ্যে ডিজেল ইঞ্জিনটি আলাদা করা হবে এবং ট্রেনটি সম্পূর্ণরূপে হাইড্রোজেনে চালানোর জন্য পরীক্ষা করা হবে। যদি এই পরীক্ষা সফল হয়, তাহলে শীঘ্রই এটি জিন্দ-সোনিপত রুটে নিয়মিত যাত্রী পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বর্তমানে এই রুটে তিনটি ট্রেন চলাচল করে।

অত্যাধুনিক এই ট্রেনটি চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি করা হয়েছে ৷ এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেনগুলির মধ্যে একটি । ট্রেনটিতে 1,200 হর্সপাওয়ারে ইঞ্জিন রয়েছে ৷ সর্বোচ্চ গতি 150 কিমি/ঘণ্টা ৷

এই ট্রেনটি নিয়মিত পরিচালনার পরে, জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত প্রায় 90 কিলোমিটার যাত্রা করবে ৷ যা বর্তমানে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয় ৷ তবে এই ট্রেনে এক ঘণ্টারও কম সময় নেবে বলে জানা গিয়েছে ৷ ট্রেনটি চলার সময় ইঞ্জিনের শব্দ কম হওয়ায় যাত্রা আরামদায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে ৷ ট্রেনটিতে 8 থেকে 10টি কোচ থাকবে ৷ যাত্রীধারণ সংখ্যা ডিজেল ট্রেনের মতোই ৷ হাইড্রোজেন জ্বালানি কোষ প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে, এই ট্রেনটি ডিজেলের পরিবর্তে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের নিয়ন্ত্রিত সংমিশ্রণ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে ৷ এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ করা যাবে ৷ ট্রেনটিতে ব্যাটারি এবং সুপারক্যাপাসিটরের মতো শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থাও রয়েছে ৷ যা এটিকে একটি হাইব্রিড মডেল হিসাবে কাজ করতে সক্ষম ৷

এই প্রকল্পটি সবুজ হাইড্রোজেন এবং শূন্য-নির্গমন রেল ভ্রমণের দিকে একটি মাইলফলক প্রমাণিত হতে পারে ৷ জিন্দ জংশনে প্রায় 120 কোটি ব্যয়ে একটি ডেডিকেটেড হাইড্রোজেন উৎপাদন এবং রিফুয়েলিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে ৷ এই প্ল্যান্টটিতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় 40,000 লিটার জলের প্রয়োজন হবে, যার জন্য স্টেশনের ছাদ থেকে বৃষ্টির জল সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে ৷ ট্রেনটি 1 জানুয়ারি দিল্লি থেকে জিন্দ জংশনে পৌঁছয় ৷ ঠান্ডার জেরে হাইড্রোজেন গ্যাসে আর্দ্রতার কারণে ভরাট প্রক্রিয়ায় কারিগরি সমস্যা দেখা দেয় ৷ যা এখন সমাধান করা হয়েছে ৷ রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল এই চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছিল ৷

এই প্রকল্পটি সফল হলে, জার্মানি, সুইডেন, জাপান এবং চিনের মতো দেশের পরে ভারত হাইড্রোজেন ট্রেন পরিচালনাকারী পঞ্চম দেশ হবে ৷ এই অর্জন 'মেক ইন ইন্ডিয়া' এবং স্বনির্ভর ভারতের ধারণাকে শক্তিশালী করবে ৷ এটি ভবিষ্যতে বিদ্যুতহীন রেল রুটে হাইড্রোজেন ট্রেন পরিচালনার পথও প্রশস্ত করবে ৷

রেল প্রশাসন ট্রায়ালের সময় ভিড় বা ট্র্যাকের কাছে না-যাওয়ার জন্য জনসাধারণের কাছে আবেদন করেছে ৷ নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে ৷ বর্তমান চলমান ট্রায়ালটি সম্পূর্ণরূপে সফল হলে, শীঘ্রই নিয়মিত ট্রেন পরিচালনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হতে পারে ৷ এই পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের ইতিহাসে একটি নতুন, সবুজ এবং আধুনিক অধ্যায়ের সূচনা হিসাবে প্রমাণিত হবে ৷