ভারত-কানাডা ইউরেনিয়াম চুক্তি, বাণিজ্যে লক্ষ্য 50 বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ
কানাডা 2.6 বিলিয়ন ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির অধীনে ভারতের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে সহায়তা করবে বলে জানা গিয়েছে।

By ANI
Published : March 2, 2026 at 7:03 PM IST
নয়াদিল্লি, 2 মার্চ: কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইউরেনিয়াম-সহ একাধিক খনিজ সরবরাহ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ ৷ সোমবার দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে নতুন কাঠামোও চূড়ান্ত হয়েছে ৷ এখানে 2030 সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বার্ষিক বাণিজ্য 50 বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও চুক্তি করেছে দুই দেশ ।
দুই দেশ ইউরেনিয়াম, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহের মূল চুক্তিগুলিতেও সম্মত হয়েছে ৷ পাশাপাশি, দ্রুত ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কানাডা 2.6 বিলিয়ন ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির অধীনে ভারতের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে সহায়তা করবে বলে জানা গিয়েছে। দুই রাষ্ট্রনেতা প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, ছোট এবং মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি, শিক্ষা এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ৷ মোদি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখন নতুন শক্তি, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং ইতিবাচক মনোভাবে পূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, "উভয় পক্ষই একমত যে, সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং মৌলবাদ শুধুমাত্র তাদের জন্য নয়, সমগ্র মানবতার জন্য অতি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এগুলির বিরুদ্ধে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৷" তাঁদের আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার অনিশ্চিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে ৷
প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, ভারত আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমস্ত সংঘাতের সমাধানকেই প্রাধান্য দেয় ৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ভারত আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমস্ত বিবাদের সমাধানকেই প্রাধান্য দেয় ৷ আমরা এই অঞ্চলে সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমস্ত দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি ৷"

এদিন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থেকে মূলত দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৷ এমন সময় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কানাডার ক্রমেই অর্থনৈতিক খাতে শৈত্য বেড়ে চলেছে। 2023 সালে এক খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যার বিষয়ে কূটনৈতিক বিরোধের পরে সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব বাড়ে ভারত ও কানাডার মধ্যে ৷ সেই সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে নতুন একাধিক পদক্ষেপ নিল দুই দেশই ৷
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হল 2030 সালের মধ্যে 50 বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যে পৌঁছনো। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচন করা আমাদের অগ্রাধিকার। তাই, আমরা শীঘ্রই ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি উভয় দেশে নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। কানাডার তহবিলগুলি ভারতে 100 বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।"

বর্তমানে, দ্বিমুখী বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় 13 বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কানাডা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিরল খনিজ উপকরণের উল্লেখযোগ্য ভাণ্ডারের জন্য পরিচিত। মোদি জানান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে মউ স্থিতিস্থাপক সরবরাহ চেইনকে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর কথায়, "পাওয়ার সেক্টরে, আমরা একটি পরবর্তী প্রজন্মের অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি যা হাইড্রোকার্বনের পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, সবুজ হাইড্রোজেন এবং শক্তি সঞ্চয়ের উপর মূলত ফোকাস করবে। অসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে, আমরা দীর্ঘমেয়াদী ইউরেনিয়াম সরবরাহের জন্য একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আমরা ছোট মডিউলার চুল্লি এবং উন্নত চুল্লি গড়তে একসঙ্গে কাজ করব ৷"
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা গভীর পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সম্পর্কের পরিনতির প্রতীক। তিনি বলেন, "আমরা প্রতিরক্ষা শিল্প, সামুদ্রিক ডোমেইন সচেতনতা এবং সামরিক বিনিময় বাড়াতে কাজ করব। এই লক্ষ্যে, আজ আমরা ভারত-কানাডা প্রতিরক্ষা সংলাপ প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ৷"

