গেম খেলে লক্ষাধিক টাকা ঋণ, স্ত্রী-মেয়েকে বিষ দিয়ে চরম পদক্ষেপ স্বামীর
অনলাইন গেম খেলে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ ৷ বাঁচতে বউ-মেয়েকে কোল্ড ড্রিংকসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে নিজেরও জীবন নিলেন এক ব্যক্তি ৷

Published : February 26, 2026 at 1:52 PM IST
শাহদোল (মধ্যপ্রদেশ), 26 ফেব্রুয়ারি: মর্মান্তিক ঘটনা মধ্যপ্রদেশের শাহদোলে ৷ অনলাইন গেমিংয়ের প্রতি আসক্তি কেড়ে নিল দু'টি প্রাণ ৷ আরও একজন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ৷
অনলাইনে গেম খেলে লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়ে ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে শাহদোল জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকার পুরানী বস্তির বাসিন্দা শঙ্কর লাল গুপ্তার ৷ ঋণের সংখ্যাটা অন্তত 4 লক্ষ টাকা ৷ বাড়তে থাকে মানসিক চাপ ৷ কীভাবে টাকা শোধ করবেন, এমনটা ভেবেই বুধবার রাতে চরম পদক্ষেপ করে বসেন ৷
শাহদোলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক দেওয়ান বলেন, "গতকাল রাতে জেলা হাসপাতাল ফাঁড়িতে একটি রিপোর্ট আসে । সকালে জানা যায়, বিষপানের পর তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন পুরুষ, একজন মহিলা এবং 17 বছরের কিশোরী ৷ বিষপান করার কারণেই তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক ছিল । হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মেয়েটির অবস্থার অবনতি হয় ৷ তড়িঘড়ি তাকে মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয় । সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় । এদিকে তার বাবাও মারা যান । মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক ৷ পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে ।"
পুরো বিষয়টি কী ?
অনলাইন গেমিংয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়ে ঋণের বোঝায় ভারাক্রান্ত হয়েছিলেন বাবা ওরফে শঙ্কর লাল গুপ্তা ৷ তিনিই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন ৷ এদিকে ঋণ শোধ করার চাপ আসতে থাকে শঙ্করের উপর ৷ নিজেকে শেষ করবে এমনটা ভেবেই শঙ্কর লাল তাঁর মেয়ে ও বউকেও পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ৷ বাড়িতে তখন ছিল না 15 বছরের ছেলে ৷ পরিজনরা বলছেন, ঘটনার সময় ভাগ্যিস ছেলে বাড়িতে ছিল না নয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনায় তারও নাম জুড়ত ৷
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শঙ্কর লাল গুপ্তা (40 বছর) আগে একটি অটো পার্টসের দোকানের মালিক ছিলেন ৷ কিন্তু কিছুদিন ধরে তিনি মিষ্টি বিক্রি করছিলেন। গতকাল তাঁর স্ত্রীর দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দিতে জানা গিয়েছে, তিনি বাড়ি এসে 2 লিটারের একটি কোল্ড ড্রিংকসের বোতল নিয়ে এনেছিলেন ৷ তাতেই তিনি বিষ মেশান ৷ স্ত্রী ও মেয়েকে দিয়ে নিজেও পান করেন ৷ এরপরই সকলে বমি করতে শুরু করেন ৷ তাঁদের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় আশপাশের বাড়ির লোকজনরা তা দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
খবর পেয়ে বাড়িতে পৌঁছন পরিবার-পরিজনরা ৷ আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ছেলেও এসে পৌঁছয় ৷ দেখে, মা আইসিইউতে ভর্তি ৷ বাবার পরিস্থিতি গুরুতর ৷ এদিকে ততক্ষণে বোনের মৃত্যু হয়েছে ৷ পরিবারের সদস্যরা বোনকে শেষকৃত্যের জন্য রওনা হন ৷ ফেরার পথে জানতে পারেন শঙ্কর লাল গুপ্তারও মৃ্ত্যু হয়েছে ৷ 34 বছর বয়সি রাজকুমারী গুপ্তা বর্তমানে আইসিইউতে ভর্তি ৷ তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক ৷ বাবা এবং বোনকে হারিয়ে শোকে মূর্ছা যাচ্ছে 15 বছরের ছেলেটি ৷ পুলিশ বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে এবং পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছে ৷

