ETV Bharat / bharat

অ্যাম্বুল্যান্স বা শববাহী গাড়ি, কিছুই দেয়নি; বাইকে স্ত্রী'র দেহ নিয়ে ফিরল স্বামী

স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে অ্যাম্বুল্যান্স বা শববাহী গাড়ি কিছুই পাওয়া যায়নি ৷ স্বভাবতই মহা বিপাকে পড়েন স্বামী ৷

Health Crisis
স্ত্রীর দেহ বাইকে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন নরেশ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 5, 2026 at 8:26 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

ঝাড়সাগুডা, 5 জুলাই: শববাহী গাড়ি বা অ্যাম্বুল্যান্স কিছুই পাওয়া যায়নি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ৷ তাই শেষপর্যন্ত বাইকে স্ত্রীর দেহ বয়ে নিয়ে বাড়ি পৌঁছলেন এক ব্যক্তি ৷ মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার ঝাড়সাগুডা জেলার লাইকেরা ব্লকের ওডিয়াপালি গ্রামে ৷ এই অব্যবস্থায় গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ৷

পরিবার সূত্রে খবর, স্ত্রী যমুনা ছাত্রিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁকে নিয়ে মুন্দ্রাজোরা কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান নরেশ ছাত্রিয়া ৷ চিকিৎসকরা যমুনাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ৷

এখানেই শেষ নয় ৷ মৃতদেহ বাড়িতে আনার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে শববাহী গাড়ি বা অ্যাম্বুল্যান্স চান নরেশ ৷ কিন্তু বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কোনও কিছুই দিতে রাজি হয়নি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৷ না-পাওয়া গিয়েছে শববাহী গাড়ি, না অ্যাম্বুল্যান্স ৷ তখন কোনও উপায় না-পেয়ে এক প্রতিবেশীর কাছে বাইক ধার করে নরেশ ৷ ওই বাইকে মৃত স্ত্রীর দেহ চাপিয়ে বাড়ি নিয়ে আসে ৷

এই ঘটনার ছবি, ভিডিয়ো দ্রুত সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ৷ ওড়িশার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এমন বেহাল অবস্থা নিয়ে সরব হন সাধারণ মানুষ ৷ এই ঘটনা নিয়ে নরেশ ছাত্রিয়া বলেন, "চিকিৎসকরা আমার স্ত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ৷ এরপর শববাহী গাড়ি বা অ্যাম্বুল্যান্স- কোনও কিছুই পাইনি ৷ বাধ্য হয়ে আমার স্ত্রীর দেহ বাইকে করে বাড়ি নিয়ে আসি ৷"

এই বিতর্কে জেলার প্রধান স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিডিএমও) শক্তি প্রসাদ পাঢি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই রোগীর মৃত্যু আচমকা হয়েছে ৷ এরপর যা যা হওয়া উচিত, সেই নিয়মগুলি পালন করা হয়নি ৷ তিনি বলেন, "হঠাৎ ওই মহিলার মৃত্যু হয় ৷ এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসকের উচিত ছিল পুলিশকে খবর দেওয়া, তা করা হয়নি ৷"

সিডিএমও আরও জানান, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করবেন ৷ কোনও স্বাস্থ্যকর্মী দোষী প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷