ভবঘুরে মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ-মদ্যপান, ভিডিয়ো ছড়াল সোশাল মিডিয়ায়
এলাকায় ভিক্ষা করতেন নির্যাতিতা ৷ স্থানীয় একটি মঠে খাবার খেতেন ৷ গত পরশু বেলা 12টার দিকে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে তিন যুবক ৷

Published : January 11, 2026 at 5:50 PM IST
হুব্বালি (কর্ণাটক), 11 জানুয়ারি: দিনেদুপুরে ভবঘুরে মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ ৷ তারপর তাঁকে জোর করে মদ্যপান করানো হয় ৷ গত 9 জানুয়ারি নির্যাতিতা মহিলার পোশাক খোলার ভিডিয়ো ও মদ্যপানের দৃশ্য ক্যামেরা-বন্দি করে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় দুই যুবক ৷ তারাই ওই মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল ৷ স্থানীয়রা অভিযুক্তদের চিনতে পেরে পাকড়াও করে ৷ মাথা ন্যাড়া করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ৷ এদিকে, ঘটনার তদন্তে নেমে কর্ণাটকের হুব্বালি পুলিশ আরও একজনকে গ্রেফতার করে ৷
হুব্বাল্লি-ধারওয়াড় পুলিশ কমিশনার এন শশীকুমার সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, 9 জানুয়ারি বেলা 12টার দিকে দুই যুবক ওল্ড হুব্বাল্লির হেগ্গেরি ময়দান থেকে 35 বছরের ওই ভবঘুরে মহিলাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা ওই মহিলার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে ৷ জোর করে তাঁকে মদ পান করায় অভিযুক্তরা। এই সমস্ত ঘটনার দৃশ্যবন্দি করে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় ৷ হুব্বাল্লি থানা এলাকার মধ্যেই অভিযুক্তরা থাকে ৷ পুরো বিষয়টি স্থানীয়রা তাঁদের অবগত করেন ৷ এলাকাবাসীরা অভিযুক্ত দুই যুবকের মাথা ন্যাড়া করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
তিনি আরও বলেন, "আমরা ওই ভিডিয়ো দেখে নির্যাতিতা ভবঘুরেকে শনাক্ত করি। তিনি গত দেড় মাস ধরে হুব্বাল্লির বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন ৷ প্রথমে আমরা তার পরিচয় জানতাম না ৷ স্বতঃপ্রণোদিত একটি মামলা দায়ের করি। স্থানীয়দের কাছে বারংবার জিজ্ঞাসাবাদে ও ওই এলাকায় খোঁজ চালিয়ে 35 বছরের মহিলাকে খুঁজে বার করি ৷ তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয় ৷ আমরা আরও এক অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷"
মহিলার পরিচয় নিয়ে কমিশনার বলেন, "ওই নির্যাতিতার সঙ্গে স্বামীর ঝগড়া হয় ৷ তারপর তিনি হুব্বাল্লিতে চলে আসেন ৷ তাঁর স্বামী অন্য একটি মামলায় অভিযুক্ত ৷ সে শিবমোগ্গা জেলে রয়েছে ৷ নির্যাতিতার আর কেউ নেই ৷ তিনি হুব্বালিতে এসে এলাকায় এলাকায় ঘুরে বেরিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন ৷ এলাকার সিদ্ধারূঢ় মঠে খাবার খেতেন ৷ গত পরশু তাঁকে তুলে নিয়ে এই ঘটনা ঘটায় অভিযুক্তরা ৷"
এন শশীকুমার আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা হল শিবানন্দ, গণেশ এবং প্রদীপ ৷ তারা এখন পুলিশি হেফাজতে ৷ প্রদীপ এই ভিডিয়োটি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিল। অভিযুক্ত শিবানন্দ এবং গণেশকে স্থানীয় লোকজন মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ৷ নির্যাতিতা মহিলা আপাতত সুস্থ রয়েছেন ও তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে ৷

