একরাতে জীবন বদলে গেল মৃত্যুতে ! পরিবারের 4 জনের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার
পঞ্জাবের ফিরোজপুরে এক পরিবারের চার সদস্যের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ৷ এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায় ৷

Published : January 8, 2026 at 8:06 PM IST
ফিরোজপুর, 8 জানুয়ারি: একই পরিবারের চার জনের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করল পুলিশ ৷ ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্জাবের ফিরোজপুরে ৷ পরিবারের সদস্যদের দেহ প্রথম দেখতে পান ওই বাড়ির পরিচারিকা ৷
বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো ওই বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিলেন পরিচারিকা ৷ তিনি দরজায় বেল বাজিয়ে ডাকাডাকি করলেও কেউ দরজা খোলেনি ৷ তখন প্রতিবেশীদের সাহায্যে দরজা ভাঙা হয় ৷ দরজা ভাঙলে সবাই দেখতে পান, মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে চার সদস্য- স্বামী অমনদীপ সিং সোধি (42), তাঁর স্ত্রী জশবীর কৌর (40) এবং তাঁদের দুই সন্তান- মনবীর (10) ও প্রীনীত কৌর (6) ৷ সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর যায় ৷ পুলিশ এসে চারজনের দেহ উদ্ধার করে সিভিল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় ৷
ফিরোজপুরের ডেরা বাবা রাম লাল এলাকায় একটি কলোনিতে থাকতেন অমনদীপ সিং ও তাঁর পরিবার ৷ অমনদীপ সেলুনে কাজ করতেন ৷ এক প্রতিবেশী বলেন, "পরিচারিকা এসে বেল বাজাতে থাকেন ৷ কেউ দরজা খোলেনি ৷ এরপর তিনি প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করেন ৷ অমনদীপ সিংয়ের মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করা হয় ৷ কিন্তু তিনি উত্তর দিচ্ছিলেন না ৷ এরপর দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দম্পতি ও তাঁদের দুই সন্তানের দেহ দেখতে পাওয়া যায় ৷ দেহগুলি রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ৷ সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয় ৷"
ফিরোজপুরের এসএসপি ভূপিন্দর সিং জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল পাওয়া গিয়েছে ৷ তাঁরাই ওই পিস্তল দিয়ে নিজেদের শেষ করেছেন নাকি এর নেপথ্য অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ তিনি বলেন, "আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে অমনদীপ তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং তারপর নিজেকেও শেষ করে ৷ কিন্তু পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে ৷ পুলিশের একটি দল বাড়িটির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে ৷ দেহগুলি ফিরোজপুরের সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ৷ ফরেনসিকের দল এসে প্রমাণ জোগাড় করবে ৷"
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র পাঁচ মাস আগে অমনদীপের পরিবার এই বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করে ৷ তাঁরা নীচের তলায় থাকতেন ৷ ঝাড়খণ্ড থেকে আসা আরেকটি পরিবার বাড়িটির দোতলাটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করে ৷ অমনদীপ নিজের একটি সেলুন খোলার চেষ্টা করছিলেন ৷ প্রায় সবকিছু সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল ৷ আর ক'দিন পরই সেলুনটি উদ্বোধনের কথা ছিল ৷ আরেক প্রতিবেশী বলেন, "গতকাল সোধির স্ত্রী এবং দুই সন্তান আমাদের সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিল ৷ ওরা খুব হাসিখুশি ছিল ৷ এক রাতে এমন কী হয়ে গেল, বুঝতে পারলাম না ৷ কিছুই বুঝতে পারছি না ৷"

