খুন হতে পারি, তবুও ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরব: হাসিনা
ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর প্রথমবার নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি সাংবাদিক বৈঠক বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৷

Published : August 5, 2026 at 8:37 PM IST
নয়াদিল্লি, 5 অগস্ট: দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ৷ তবে দেশে ফিরতে তিনি বদ্ধপরিকর ৷ নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৷ এদিন তিনি বলেন, "দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি, কিন্তু নিজের দেশের মানুষের কাছ থেকে কখনোই বিচ্ছিন্ন হইনি ৷" হাসিনা আরও বলেন, "আমি ফিরলে আমাকে হয়তো খুন করা হবে, জেলে পাঠানো হবে ৷ তারপরও আমি দেশে ফিরব ৷" ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশ ফিরবেন বলেও জানান হাসিনা ৷
বুধবার বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 2024 সালের ঘটনাবলী নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই-অগস্টের অস্থিরতা কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না; বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত অভিযান ৷ হাসিনার দাবি, যার মাধ্যমে কোটা সংস্কারের দাবিকে সরকার পতনের লক্ষ্যে একটি হিংসাত্মক রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছিল ৷
নয়াদিল্লিতে 'ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া' আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভপ্রকাশ করেন। হাসিনা বলেন, "গত দুই বছর ধরে আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে ধুঁকতে দেখেছি ৷ এটি সেই বাংলাদেশ নয়, যা আমরা গড়ে তুলেছিলাম ৷ এটি সেই বাংলাদেশ নয়, যার জন্য 1971 সালে 30 লক্ষ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।"
2024 সালের মাঝামাঝি সময়ের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তাঁর সরকার আলোচনা, আইনি পদক্ষেপ ও সমঝোতার মাধ্যমে কোটা সংস্কার আন্দোলন সমাধানের চেষ্টা করেছিল ৷ তবে সংগঠিত গোষ্ঠীগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁর ৷
হাসিনা আরও বলেন, "2024 সালের জুলাই ও অগস্টের ঘটনাপ্রবাহের সত্যটি দিয়েই শুরু করি। এটি কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। শুরু থেকেই আমার সরকার আলোচনা, আইনি প্রক্রিয়া ও ধৈর্যের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সংস্কারের দাবির আড়ালে সংগঠিত কিছু গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের দাবিকে একটি হিংস্র রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছিল ৷" তাঁর দাবি, "কোটা সংস্কার আন্দোলনকে আমার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপান্তর করা হয়েছিল ৷ পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছিল ৷ প্রকৃত শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগানো হয়েছিল, আর সংগঠিত গোষ্ঠীগুলি তাদের আন্দোলনকে হিংসাত্মক ও সরকার পরিবর্তনের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল ৷"
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, 2024 সালের 15 জুলাই থেকে বিক্ষোভগুলো ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ, সরকারি দফতরে হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হিংসাত্মক হামলা চালায় ৷ তিনি আরও দাবি করেন যে, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা বা গুম করা হয়েছে কিংবা গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ কয়েক লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে ৷ এছাড়া, হিংসার তদন্তের জন্য তাঁর সরকারের গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বন্ধ করে দিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন ৷
ধ্বংসযজ্ঞের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে হাসিনা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের 1971 সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকগুলি ভাঙচুর করা হয়েছে ৷ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে ৷ তিনি বলেন, "শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ধানমন্ডি 32-এর বাসভবনটি ধ্বংস করা হয়েছে ৷" যা মুক্তিযুদ্ধ ও এর স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলারই একটি প্রচেষ্টা বলে দাবি হাসিনার।

