চিনে ভূমিকম্প, ফের হড়পা বানের আশঙ্কায় কাঁপছে নেপাল ! চূড়ান্ত সতর্কতা জারি
চিনে 5.1 মাত্রার কম্পন, তার পরেই ভোটে কোশীতে তীব্র জলপ্রবাহের সতর্কতা; নুওয়াকোট-ধাদিং-চিতওয়ান-গোর্খায় হাই অ্যালার্ট

By PTI
Published : August 28, 2026 at 12:32 PM IST
কাঠমান্ডু, 28 অগস্ট: এক বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের আতঙ্ক । শুক্রবার চিনের সিচুয়ানে 5.1 মাত্রার ভূমিকম্প । তার পরেই তিব্বতের দিক থেকে বিপুল জল ভোটে কোশী নদীতে ঢোকার খবর । তিব্বতের দিকে ফের একটি জলাধার বা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর ত্রিশূলী এলাকায় নতুন করে মানুষ সরানোর কাজ শুরু করেছে নেপাল প্রশাসন । নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে গেলে ফের ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসতে পারে, এই আশঙ্কায় নুওয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খা-সহ বিস্তীর্ণ নদী অববাহিকায় সতর্কতা জারি হয়েছে । নেপাল পুলিশের বার্তা, নদীর ধার ছেড়ে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় চলে যান ।
শুক্রবার চিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের লংচাং শহরের কাছে 5.1 মাত্রার ভূমিকম্প হয় বলে চিনের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে রিপোর্টে জানানো হয়েছে । সেই খবরের মধ্যেই নেপালে এল আরও উদ্বেগের বার্তা- তিব্বতের দিকে জলাধার ফের ভেঙেছে বলে তথ্য এসেছে । এর ফলে উপর দিক থেকে জল নামতে শুরু করলে ভোটে কোশীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে ।
भोटेकोसी नदी रसुवामा तिब्बत तर्फबाट ठुलो बाढी प्रवेश गरेकोले अर्को सूचना नआउँदासम्म त्रीशुली नदीको तटिय क्षेत्रका जिल्लाहरु नुवाकोट, धादिङ, चितवन, गोरखा लगायतका स्थानहरूमा उच्च सतर्कता सहित सुरक्षित स्थानमा रहन अनुरोध छ। pic.twitter.com/Zun6icZZCM
— Nepal Police (@NepalPoliceHQ) August 26, 2026
নেপাল পুলিশ তাই আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না । নিরাপত্তাকর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে । যাঁরা নদীর কাছাকাছি বা নিচু এলাকায় রয়েছেন, তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে । বিশেষ করে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে ।
ভূমিকম্প, তার পর বাঁধ ভাঙা- দু'টি খবর একই সময়ে সামনে আসায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে । তবে, 26 অগস্টের ভয়াবহ বন্যার কারণ হিসেবে ভূমিকম্পকে সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে না । প্রথম দিকে ভূমিকম্পের সম্ভাব্য যোগের কথা উঠলেও পরবর্তী বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে ওই কম্পনকে হিমবাহ ধস ও বরফ-পাথরের বিশাল প্রবাহের তৈরি ভূকম্পন-সংকেত বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে । অর্থাৎ আগের বিপর্যয়ের সঙ্গে শুক্রবারের সিচুয়ানের ভূমিকম্পকে এক করে দেখার কারণ নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের ।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভয়টা অন্য জায়গায় । 26 অগস্ট তিব্বত-নেপাল সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে । তার সঙ্গে বরফ, পাথর ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীপথে ভয়ঙ্কর স্রোত তৈরি করে । সেই জল, কাদা ও পাথরের ঢেউ নেপালের রসুয়া জেলার দিকে নেমে এসে ভোটে কোশী নদী ব্যবস্থাকে তছনছ করে দেয় । কয়েক মুহূর্তের মধ্যে রাস্তা, সেতু, বাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ভেসে যায় । তিমুরে ও স্যাব্রুবেশি-সহ একাধিক এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ।
তার পর সেই স্রোত নেমে আসে ত্রিশূলীর দিকে । নুওয়াকোটে নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যায় । প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কোথাও মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নদী কয়েক মিটার ফুলে উঠেছিল । ফলে মানুষকে সতর্ক করার সময়ও ছিল অত্যন্ত কম । এখন সেই ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থাতেই ফের আশঙ্কা ।
সীমান্তের উপরে নদীর গতিপথে আটকে তৈরি হওয়া নতুন জলাধার নিয়েও ইতিমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে । পাহাড়ের ধস বা ধ্বংসাবশেষে নদী আটকে গেলে পিছনে দ্রুত জল জমতে থাকে । সেই প্রাকৃতিক বাঁধ দুর্বল হলে হঠাৎ ভেঙে যেতে পারে । তখন কয়েক লক্ষ ঘনমিটার জল একসঙ্গে নীচে নেমে এসে ফের হড়পা বান বা 'ফ্ল্যাশ ফ্লাড' এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে । শুক্রবার নতুন করে সেই আশঙ্কাই মাথাচাড়া দিয়েছে ।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ভোটে কোশী-ত্রিশূলী-নারায়ণী নদীপথ ঘিরে । কারণ উপরের দিকে জলের প্রবাহ বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত নীচের দিকে পৌঁছতে পারে । এই কারণেই রসুয়া ও নুওয়াকোটে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে । নুওয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা ও চিতওয়ানের মতো নীচের দিকের জেলাগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে ।
এ বার তাই প্রশাসনের নির্দেশে জোর দেওয়া হচ্ছে 'আগে সরুন' বার্তায় । নদীর জল বাড়ার পর পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে । উদ্ধারকারী দলের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা । কারণ যে নদীর ধারে এখনও নিখোঁজদের খোঁজ চলছে, সেই নদীই ফের বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে ।
পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে শুক্রবার সকালে জলাধার উপচে পড়ার খবরের পর রসুয়ায় উদ্ধারকাজও সাময়িক ভাবে থামিয়ে দিতে হয়েছিল । এমনকী হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযানও নিরাপত্তার কারণে সাময়িক বন্ধ রাখা হয় । নদীর নীচের দিকে মানুষকে উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে দেখা যায় ।
আর এই সবের মধ্যেই বাড়ছে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা । 26 অগস্টের বিপর্যয়ে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে । বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ । উদ্ধারকাজ চলছে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে । ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তা ও সেতুর কারণে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছনোও কঠিন হয়ে পড়েছে ।
এক দিকে ভূমিকম্পের খবর । অন্য দিকে তিব্বতের দিক থেকে ফের জলের হুঙ্কার । তার উপর পাহাড়ে আটকে থাকা জলাধার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা । নেপাল তাই ফের এক অনিশ্চিত রাতের সামনে ।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তিব্বতের দিক থেকে ঠিক কতটা জল ভোটে কোশীতে ঢুকছে এবং সেই জলের ধাক্কা ত্রিশূলী হয়ে কতটা নীচে নামবে । উত্তর মেলার আগেই প্রশাসন চাইছে মানুষকে নদীর ধার থেকে সরিয়ে ফেলতে । কারণ বুধবারের বিপর্যয় দেখিয়ে দিয়েছে, পাহাড়ি নদীতে হড়পা বান নামলে সতর্ক হওয়ার জন্য সময় মেলে না ।
তাই নেপাল পুলিশের নির্দেশ একটাই, নদীর জল দেখতে দাঁড়াবেন না, গুজবে কান দেবেন না, আর বিপদ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত নদীর ধার ছেড়ে নিরাপদ জায়গাতেই থাকুন ।

