ETV Bharat / bharat

E20 জ্বালানির দাপটে স্ক্র্যাপের মুখে 3 লক্ষ গাড়ি ! দ্রুত বদলাচ্ছে পুরনো গাড়ির বাজার

দেশের জ্বালানি নীতিতে ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে E20 বা 20 শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল । তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পুরনো গাড়ির কেনাবেচার বাজারেও ।

E 20 fuel
ই-20 এর প্রভাব (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 30, 2026 at 3:59 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

চণ্ডীগড়, 30 অগস্ট: এক সময়ে পঞ্জাবের সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ির বাজারে দাপট ছিল ডিজেল এসইউভির। স্করপিও, ফর্চুনার বা থার- পুরনো গাড়ির হাটে এদের চাহিদা ছিল আকাশছোঁয়া । কিন্তু এখন সেই বাজারে নীরব পরিবর্তনের ইঙ্গিত । কারণ, দেশের জ্বালানি নীতিতে ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে ই-20 বা 20 শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল । তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পুরনো গাড়ির কেনাবেচার বাজারেও । একই সঙ্গে সামনে আসছে আর এক বড় প্রশ্ন, রাজ্যে প্রায় 3 লক্ষ পুরনো যান কি এ বার স্ক্র্যাপের পথে ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই প্রভাব পড়বে অন্য রাজ্যেও ৷

পঞ্জাবে গত কয়েক বছরে ব্যবহৃত গাড়ির বাজার দ্রুত বেড়েছে । লুধিয়ানা, জলন্ধর, মোহালি এবং অমৃতসর এখন রাজ্যের সবচেয়ে বড় সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত । বড় গাড়ি, বিশেষ করে এসইউভি ও সেডানের চাহিদা দেশের বহু রাজ্যের তুলনায় এখানে অনেক বেশি । বাজার-তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা কারওয়ালের অনুমান, 2025 সালে পঞ্জাবে প্রায় 1.80 লক্ষ থেকে 1.95 লক্ষ পুরনো গাড়ির কেনাবেচা হয়েছে । জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যেই ব্যবহৃত গাড়ির বিক্রিতে বছরভিত্তিক বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গিয়েছে ।

তবে, এই বাজারের ভিতরে বদল আনছে E20 জ্বালানি । 2020 সালের আগে তৈরি অনেক পেট্রল গাড়ির ক্ষেত্রে E20-র সঙ্গে ইঞ্জিনের সামঞ্জস্য নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে প্রশ্ন বাড়ছে । ফলে, এখন পুরনো গাড়ি কেনার আগে শুধু মাইলেজ বা গাড়ির অবস্থা নয়, ইঞ্জিন নতুন ধরনের জ্বালানির সঙ্গে মানানসই কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছেন ক্রেতারা ।

মোহালির স্ক্র্যাপ ও মোটর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত গুরবিন্দর সিংহের দাবি, ডিজেল গাড়ির চাহিদা এখনও শক্তিশালী । বিশেষ করে স্করপিও, থার এবং ফর্চুনারের মতো গাড়ির ক্রেতা কমেনি । ব্যবহৃত গাড়ির বাজারের প্রায় 38 শতাংশ ডিজেল ব্যবহত গাড়ি । সেদিক থেকে পেট্রল গাড়ির সংখ্যা শতকরা 35 শতাংশের কাছাকাছি । তবে, E20 জ্বালানি চালুর পর পুরনো পেট্রল গাড়ি নিয়ে ক্রেতাদের সতর্কতা বেড়েছে ।

একই সঙ্গে শহরাঞ্চলে সিএনজি গাড়ির চাহিদাও বাড়ছে । মোহালি, লুধিয়ানা এবং জলন্ধরের মতো এলাকায় ব্যবহৃত সিএনজি গাড়ির বাজার প্রায় 18 শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা । অন্য দিকে, বৈদ্যুতিক এবং হাইব্রিড গাড়ির বাজার এখনও প্রাথমিক স্তরে । ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে এদের অংশ 4 থেকে 6 শতাংশের মধ্যে ।

বাজারের এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে পুরনো পেট্রল গাড়ির পুনর্বিক্রয় মূল্যে । সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ির ডিলারদের মতে, E20 জ্বালানি নিয়ে সংশয়ের কারণে সুইফ্ট, আই-20-এর মতো কিছু পুরনো হ্যাচব্যাক গাড়ির পুনর্বিক্রয় মূল্য 8 থেকে 12 শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে । অর্থাৎ, শুধু নতুন গাড়ির বাজার নয়, জ্বালানির নীতিগত পরিবর্তন পুরনো গাড়ির অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে ।

এরই মধ্যে সামনে এসেছে আরও একটি বড় পরিসংখ্যান । গবেষণা সংস্থা সিস্টেপ (CSTEP)-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, পঞ্জাবে প্রায় 3 লক্ষ যানবাহন স্ক্র্যাপ করার যোগ্য হয়ে উঠতে পারে । এত বিপুল সংখ্যক পুরনো গাড়ি বাতিল করার জন্য রাজ্যে আরও আধুনিক স্ক্র্যাপিং পরিকাঠামোর প্রয়োজন হবে । রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই চাহিদা পূরণ করতে পঞ্জাবে প্রায় 15টি ভেহিকল স্ক্র্যাপিং ফ্যাসিলিটি বা আরভিএসএফ প্রয়োজন হতে পারে । ইতিমধ্যেই লুধিয়ানা, মোরিন্ডা এবং ডেরাবসির মতো এলাকায় অনুমোদিত স্ক্র্যাপিং কেন্দ্র রয়েছে । বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে পুরনো গাড়ির সংখ্যা আরও বাড়লে এই পরিকাঠামো যথেষ্ট হবে না ।

একদিকে E20 জ্বালানির যুগ, অন্য দিকে স্ক্র্যাপ নীতি, দুইয়ের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে পঞ্জাবের পুরনো গাড়ির বাজার এখন এক সন্ধিক্ষণের মুখে দাঁড়িয়ে । ডিজেল গাড়ির প্রতি টান এখনও রয়েছে, কিন্তু ক্রেতার মনেও ঢুকে পড়েছে নতুন প্রশ্ন, আগামী দিনের জ্বালানির সঙ্গে কতটা খাপ খাওয়াতে পারবে আজকের গাড়ি ? সেই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো আগামী কয়েক বছরে বদলে দেবে পঞ্জাবের সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ির বাজারের মানচিত্র । একইসঙ্গে অন্য রাজ্যের গাড়ি বাজারের ভবিষ্যতও৷