দেশের সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রতারণা, নোটবন্দির নবম বর্ষপূর্তিতে মোদিকে তোপ বিরোধীদের
নোটবন্দির নবম বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কড়া আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং কংগ্রেসের রাজ্যসভার প্রবীণ সাংসদ জয়রাম রমেশ ৷

By PTI
Published : November 8, 2025 at 6:58 PM IST
নয়াদিল্লি, 8 নভেম্বর: ভারতীয়দের সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রতারণা হয়েছিল 9 বছর আগের এই দিনে ৷ সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া আক্রমণ শানিয়ে এমনটাই লিখলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন ৷
2016 সালের 8 নভেম্বর নোটবন্দি ঘোষণা করেছিল বিজেপির নেতৃত্বে কেন্দ্রের এনডিএ সরকার ৷ দেশ থেকে কালো টাকা উদ্ধারের করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ তিনি ঘোষণা করেছিলেন, সেদিন রাত 12টার পর থেকে 1 হাজার টাকা ও 500 টাকার নোট অচল হয়ে যাবে ৷ সেই সময় দেশে যে পরিমাণ মুদ্রা বাজারে ছিল, তার 86 শতাংশ ছিল এই দু'ধরনের নোট ৷
সেই ঘটনার বর্ষপূর্তিতে তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেসের রাজ্যসভার প্রবীণ সাংসদ জয়রাম রমেশও সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, "নোটবন্দির কারণে ভারতের অর্থনীতি তার গতি হারিয়ে ফেলেছিল, যা আর কখনও পুনরুজ্জীবিত হয়নি ৷"
On this day, exactly nine years ago, the biggest fraud on Indians. Demonetisation
— Derek O'Brien | ডেরেক ও'ব্রায়েন (@derekobrienmp) November 8, 2025
PM @narendramodi outside Parliament versus Us, inside Parliament
You judge pic.twitter.com/VzGfBuX5RA
ডেরেক নোটবন্দির দিনে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণের একটি অংশ পোস্ট করেছেন ৷ পাশাপাশি একই ইস্যুতে নোটবন্দির পরে সময়ে সংসদের উচ্চকক্ষে তিনি যে বক্তব্য পেশ করেছিলেন সেই ভিডিয়োটিও পোস্ট করেছেন ৷ রাজ্যসভার সাংসদ লেখেন, "ঠিক ন'বছর আগে, এদিন ভারতীয়দের সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রতারণাটি হয়েছিল ৷ সেটা নোটবন্দি ৷ সংসদের বাইরে ও ভিতরে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলছে ৷ এবার আপনারাই (দেশের নাগরিক) বিচার করন ৷"
8 নভেম্বর নোটবন্দি ঘোষণার ওই ভিডিয়োতে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, "আমি আপনাদের কাছ থেকে মাত্র 50টি দিন চাইছি ৷ 30 ডিসেম্বরের পর আমার কাজে কোনও ভুল থাকলে বা গাফিলতি ধরা পড়লে দেশ আমায় যে শাস্তি দিক না কেন, তার জন্য আমি প্রস্তুত ৷" এর পাশাপাশি নোটবন্দির পরে রাজ্যসভায় সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন বলছিলেন, "আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি তুলে বলছি, আমি কালো টাকা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ৷ কিন্তু আমি সাধারণ মানুষের অবস্থা নিয়েও উদ্বিগ্ন ৷ ছোটখাটো ব্যবসায়ী থেকে দেশের নাগরিকরা কীভাবে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনবেন তা তাঁদের জানা নেই ? এই ঘটনা একটা অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা, একটা বিপর্যয় ৷"
Today is the 9th anniversary of the singularly disastrous, Tughlakian decision relating to demonetisation.
— Jairam Ramesh (@Jairam_Ramesh) November 8, 2025
The livelihoods of crores of Indians were devastated. Trade and MSMEs were crippled. The unorganised sector accounting for over 92% of total employment was destroyed. The…
নোটবন্দি নিয়ে মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ ৷ তিনি লিখেছেন, "নোটবন্দির সিদ্ধান্ত একটি বিপর্যয় ৷ ওই তুঘলকি সিদ্ধান্তের নবম বর্ষপূর্তি আজ ৷ কোটি কোটি ভারতীয়ের জীবন যাপন দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছিল নোটবন্দি ৷ ব্যবসা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প একেবারে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল ৷ অসংগঠিত ক্ষেত্রে 92 শতাংশেরও বেশি কর্মসংস্থান ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ৷ কিন্তু বাজারে কালো টাকার পরিমাণ কমেনি ৷ ক্যাশলেস-এর স্লোগানও অর্থহীন হয়ে পড়েছিল ৷ 2 হাজার টাকার যে নোটের সূচনা করা হয়েছিল, তাও পরে তুলে নেওয়া হয় ৷ ভারতীয় অর্থনীতি তার গতি হারিয়ে ফেলে ৷ আজও তা পুনরুদ্ধার হয়নি ৷"
হঠাৎ নোটবন্দির ঘোষণায় আতান্তরে পড়ে সাধারণ মানুষ ৷ ব্যাঙ্কে এক হাজার ও পাঁচশো টাকা জমা দেওয়ার দীর্ঘ লাইন পড়ে ৷ সেই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে নোট জমা দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে ৷ এমনকী নোটবন্দির কারণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে ৷ বিরোধীদের দাবি নিজের টাকা তুলতে গিয়ে কমপক্ষে 100 জনের প্রাণ চলে গিয়েছিল ৷ বহু সংস্থা কর্মীদের ছাঁটাই করে দেয় ৷ ছোটখাটো ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারবারিরা ৷ এক রাতে বদলে গিয়েছিল সারা ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ছবি ৷ এরপর থেকে প্রায় নিয়ম করেই নোটবন্দি নিয়ে তোপ দাগে বিরোধীরা ৷ সেই একই ঘটনা ঘটল শনিবার ৷

