যন্তর মন্তরে হিংসার নেপথ্যে 'ডিজিটাল ষড়যন্ত্র' ! পাকিস্তান যোগ খুঁজতে নোটিশ মেটা, গুগল ও এক্স-কে
তদন্তে জানা গিয়েছে, ইন্টারনেট মাধ্যমে বিক্ষোভকে সহিংস করতে সুপরিকল্পিতভাবেকৃত্রিম বয়ান তৈরি করা হয়েছিল । যাতে ছিল ভুয়ো প্রোফাইল ও বিদেশি নেটওয়ার্কের ব্যবহার ৷

Published : August 6, 2026 at 11:25 AM IST
নয়াদিল্লি, 6 অগস্ট: যন্তর মন্তরে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালীন ছড়িয়ে পড়া হিংসার পিছনে একটি গভীর ও সুপরিকল্পিত ডিজিটাল ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে এসেছে । দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল ও ফরেনসিক দলের দুই সপ্তাহ ধরে করা নিবিড় কারিগরি তদন্তে জানা গিয়েছে যে, ইন্টারনেট মাধ্যমে বিক্ষোভটিকে সহিংস হিসেবে তুলে ধরার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে একটি কৃত্রিম বয়ান তৈরি করা হয়েছিল । এই ষড়যন্ত্রে হাজার হাজার ভুয়ো সোশাল মিডিয়া প্রোফাইল এবং বিদেশি বট নেটওয়ার্ক ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল ।
20 থেকে 23 জুলাইয়ের মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় সুপরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল
দিল্লি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, 20 থেকে 23 জুলাইয়ের মধ্যে ইন্টারনেট মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আপত্তিকর রিলস (ছোট ভিডিয়ো), উসকানিমূলক ভিডিয়ো এবং বিতর্কিত মন্তব্যের বন্যা বয়ে গিয়েছিল । এই বিষয়বস্তুগুলো স্বাভাবিকভাবে শেয়ার করা হয়নি, বরং বট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অ্যালগরিদম কারচুপি করে সেগুলোকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল । বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক এই বিষয়বস্তু দ্রুত ভাইরাল হওয়ার ফলে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে ৷ যার জেরে যন্তর মন্তর, জনপথ, টলস্টয় মার্গ এবং পার্লামেন্ট মার্গে টানা চার দিন ধরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় । এই সময়ে দুষ্কৃতকারীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশকর্মী এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে থাকা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে পাথরও ছোড়ে ।
মেটা, গুগল ও এক্স-কে নোটিশ, তথ্য চাইল পুলিশ
ডিজিটাল ষড়যন্ত্রের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল প্রধান প্রযুক্তি সংস্থা—মেটা (ফেসবুক/ইনস্টাগ্রাম), গুগল এবং এক্স (টুইটার)-কে অফিসিয়ালি নোটিশ পাঠিয়েছে । পুলিশ এই সংস্থাগুলোর কাছে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেয়েছে :
সার্ভার লগ এবং আইপি অ্যাড্রেস: ভুয়ো প্রোফাইল ও বট অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারী মূল সার্ভারের অবস্থান ।
লগ-ইন ইতিহাস ও প্রকৃত অবস্থান: কোন স্থান এবং কোন ডিভাইস থেকে এই অ্যাকাউন্টগুলোতে লগ-ইন করা হয়েছিল ।
কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত তথ্য: হাজার হাজার অ্যাকাউন্ট কি কোনও বিশেষ কেন্দ্রীয় টুল বা সার্ভারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছিল ?
অ্যাকাউন্টের মালিকানা সংক্রান্ত বিবরণ: সন্দেহজনক প্রোফাইলগুলো তৈরি ও পরিচালনা করা ব্যক্তিদের প্রাথমিক তথ্য ।
'অপারেশন সিঁদুর' এবং পাকিস্তানি হ্যান্ডেলের সঙ্গে সংযোগ
তদন্তের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিকটি হল, এই ডিজিটাল প্রচারের সূত্রগুলো দেশের সীমানার বাইরে পরিচালিত ইন্টারনেট মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বলে পাওয়া গিয়েছে । পুলিশের তথ্যমতে, এমন প্রায় 480টি পাকিস্তানি সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের কার্যকলাপ শনাক্ত করা হয়েছে, যারা অতীতে 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময়ও ভারত-বিরোধী ও উসকানিমূলক বিষয়বস্তু ছড়ানোর কাজে জড়িত ছিল । দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে বিদেশি সংস্থা বা সমাজবিরোধী শক্তিগুলোকে সহায়তা করা হচ্ছে কি না—এমন আশঙ্কার বিষয়ে দিল্লি পুলিশ গভীর তদন্ত চালাচ্ছে ।
সিজেপি (CJP) নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি
ষড়যন্ত্রের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর, দিল্লি পুলিশ এখন সিজেপি-র শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে । পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং কর্মী আশুতোষ রাঙ্কার কাছে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে এবং সংগঠনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে । এই বিষয়ে পুলিশ বর্তমানে আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছে । তদন্ত চলাকালে বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত এমন 2,873 জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে ।
তহবিলের উৎস ও মূল পরিকল্পনাকারীর সন্ধানে পুলিশি তৎপরতা
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে বিশ্লেষণ করছেন যে, এই পুরো ডিজিটাল প্রচারে কারা অর্থায়ন করেছে এবং বিক্ষোভকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল । পুলিশ আধিকারিকরা এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত জনবিক্ষোভ ছিল না, বরং একটি সুপরিকল্পিত কৌশল ছিল । এই পুরো ডিজিটাল ও ফিল্ড পর্যায়ের নেটওয়ার্কের পিছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীকে খুঁজে বের করতে পুলিশ এখন আর্থিক লেনদেন এবং কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখছে ।

