ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় দিল্লি পুলিশের এফআইআর, সোনিয়া-রাহুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় চার্জশিট পেশ করেছিল ইডি ৷ এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল ৷

By PTI
Published : November 30, 2025 at 11:37 AM IST
নয়াদিল্লি, 30 নভেম্বর: ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি ও কংগ্রেসের সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল দিল্লি পুলিশ ৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ সোনিয়া-রাহুল এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল হেরাল্ড প্রতারণা মামলায় এফআইআর দায়ের করেছে ৷ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ছাড়া আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতির তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ৷
এদিকে এই এফআইআর নিয়ে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন দলের কমিউনিকেশনের ইন-চার্জ-এর সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ ৷ সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, "মোদি-শাহ জুটি কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে হয়রানি, ভয় দেখানো এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে ৷ যাঁরা হুমকি দিচ্ছেন, তাঁরা নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ৷ তাঁরাই ভয় পেয়েছেন ৷ ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলাটি একটি ফালতু বিষয় ৷ শেষ পর্যন্ত ন্যায়ের জয় হবেই ৷ সত্য়মেব জয়তে ৷"
The Modi-Shah duo is continuing with its mischievous politics of harassment, intimidation, and vendetta against the top leadership of the INC. Those who threaten are themselves insecure and afraid.
— Jairam Ramesh (@Jairam_Ramesh) November 30, 2025
The National Herald matter is a completely bogus case. Justice will ultimately…
গত 4 সেপ্টেম্বর ইডি একটি চিঠিতে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (ইওডব্লিউ)-কে জানায় ৷ সূত্রের খবর, চার্জশিটে ইডি যা জানিয়েছে, সেই এক বক্তব্য ইওডব্লিউ-কে চিঠিতে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ সরকারি সূত্রের খবর, এরপর গত 3 অক্টোবর দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (ইওডব্লিউ) গান্ধি পরিবারের দুই সদস্য এবং অন্য সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় এবং তারপর দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করে ৷
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি, প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি, কংগ্রেস নেতা সুমন দুবে এবং স্যাম পিত্রোদার নাম রয়েছে এফআইআর-এ ৷ এছাড়া ইয়ং ইন্ডিয়া, ডটেক্স মার্চেন্ডাইস লিমিটেড, ডটেক্সের প্রোমোটার সুনীল ভাণ্ডারি, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (এজেএল)-এর বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের হয়েছে ৷
এই মামলায় অভিযুক্ত সোনিয়া-রাহুল ও অন্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডিবিধির 120B (অপরাধ সংগঠনের ষড়যন্ত্র), 403 (অসৎ উপায়ে সম্পত্তির অসদ্ব্যবহার), 406 (বিশ্বাস ভঙ্গের শাস্তি) এবং 420 (প্রতারণা) ধারায় মামলা দায়ের করেছে ৷ চলতি বছরের এপ্রিলে ইডি ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় যে চার্জশিট পেশ করেছে, সেখানে এই অভিযুক্তদের নাম রয়েছে ৷ আগামী 16 ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ৷
কংগ্রেস অবশ্য প্রথম থেকে তদন্তকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নিচু রাজনীতি বলে আক্রমণ করেছে ৷ ইডিকে বিজেপির 'সহযোগী অংশীদারি' বলে উল্লেখ করেছে ৷
চার্জশিটে ইডির অভিযোগ, কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা অপরাধের ষড়যন্ত্র করেছেন ৷ তাঁদের মধ্যে অন্যতম কংগ্রেসের গান্ধি পরিবার ৷ এই পরিবারের নেতৃত্বে রয়েছেন সোনিয়া গান্ধি এবং তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধি ৷ এছাড়া প্রয়াত মোতিলাল বোহরা, অস্কার ফার্নান্ডেজ এবং সুমন দুবে, স্যাম পিত্রোদাও আছেন ৷ বেসরকারি সংস্থা ইয়ং ইন্ডিয়া এই আর্থিক প্রতারণার অংশ ৷ অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (এজেএল)-এর 2 হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বেআইনিভাবে অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রতারণার সামিল ৷
স্বাধীনতার আগে কংগ্রেসের নিজস্ব সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল হেরাল্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ৷ এর প্রকাশনা সংস্থা এজেএল এবং এই দু'টির মালিকানা ইয়ং ইন্ডিয়ান প্রাইভেট লিমিটেড-এর ৷
ইয়ং ইন্ডিয়ান-এর সবচেয়ে বেশি অংশীদারি সোনিয়া ও রাহুলের কাছে ৷ প্রত্যেকে 38 শতাংশের মালিক ৷ তাই সব মিলিয়ে শুধু গান্ধি পরিবারের কাছে 76 শতাংশ অংশীদারি রয়েছে ৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠা ইয়ং ইন্ডিয়ার 'বেনিফিসিয়ালি ওনড' মালিকানা সোনিয়া ও রাহুল গান্ধির ৷ এদিকে তাঁরা এজেএল-এর 2 হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি মাত্র 50 লক্ষ টাকা মূল্যে কিনে নিয়েছেন ৷ এই সম্পত্তির দাম উল্লেখযোগ্য়ভাবে কম ৷
চার্জশিটে ইডি উল্লেখ করেছে, সোনিয়া গান্ধি দলের সভানেত্রী থাকাকালীন তাঁর পদমর্যাদার অপব্যবহার করেছেন ৷ তাঁর ও তাঁর ছেলে রাহুলের ব্যক্তিগত ফায়দার জন্য ইয়ং ইন্ডিয়ার মাধ্যমে জনগণের টাকা প্রতারণা করেছেন ৷ 2022 সালে এই মামলায় একাধিক বার ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোনিয়া ও রাহুলকে জেরা করেছে ইডি ৷

