ETV Bharat / bharat

স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে খুন ! কন্টেনারে দেহ মিলতেই গ্রেফতার বাবা

ফুটেজই তদন্তকারীদের সন্দেহ ঘনীভূত করে। কারা ওই দুই ব্যক্তি? তাঁদের সঙ্গে মৃত যুবকের সম্পর্ক কী? তাঁরা কোথা থেকে এসেছিলেন ? কোথায় গিয়েছিলেন ?

delhi
প্রতীকী ছবি (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 29, 2026 at 8:16 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 29 অগস্ট : ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল । সেই অছিলাতেই 38 বছরের যুবককে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁর 64 বছরের বাবার বিরুদ্ধে । ঘটনায় বাবার এক সঙ্গীকেও গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ ।

মৃত যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল একটি পরিত্যক্ত কন্টেনারের ভিতর থেকে। প্রথমে মৃতের পরিচয়ও জানা যায়নি । ফলে ঘটনাটি 'ব্লাইন্ড মার্ডার' হিসাবেই তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ । সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া 'প্রমাণ' পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে শেষ পর্যন্ত মৃতের পরিচয় জানার পাশাপাশি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয় । গ্রেফতার করা হয়েছে তালুকদার আনসারি (64) এবং মহম্মদ ওয়াসিম ওরফে আকরাম (49)-কে ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত 23 অগস্ট দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কালিন্দী কুঞ্জ থানা এলাকার একটি নির্জন জায়গায় ঘটনাটি ঘটে । দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের কাছাকাছি একটি অননুমোদিত বসতিতে এনটিপিসি-র সীমানা প্রাচীরের পাশে কন্টেনারের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় এক যুবকের দেহ । জায়গাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে প্রায় 500 মিটার দূরে ।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখে, যুবকের মাথার বাঁ দিকের কানের কাছাকাছি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে । আশপাশ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনাও সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা । কিন্তু তখনও জানা যায়নি মৃত ব্যক্তি কে ? কে তাঁকে সেখানে নিয়ে এসেছিল, কেনই বা খুন করা হল, কোনও প্রশ্নের উত্তর ছিল না তদন্তকারীদের কাছে ।

পুলিশের দাবি, বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে মৃত যুবকের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় । ফুটেজে দেখা যায়, গুল হাসান নামে ওই যুবক দু'জন ব্যক্তির সঙ্গে হেঁটে ওই নির্জন এলাকার দিকে যাচ্ছেন । কিছু সময় পরে ওই দু'জনকে ফিরে আসতে দেখা গেলেও গুল হাসানকে তাঁদের সঙ্গে দেখা যায়নি । সেই ফুটেজই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত করে । কারা ওই দুই ব্যক্তি ? তাঁদের সঙ্গে মৃত যুবকের সম্পর্ক কী ? তাঁরা কোথা থেকে এসেছিলেন ? কোথায় গিয়েছিলেন ? একের পর এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেন তদন্তকারীরা ।

পুলিশের দাবি, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত গোবিন্দপুরীর একটি পোশাক তৈরির কারখানায় পৌঁছন । সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় তালুকদার আনসারি এবং মহম্মদ ওয়াসিম ওরফে আকরামকে ।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত গুল হাসান স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন । তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল অভিযুক্তেরা । সেখানে তাঁকে মারধর করা হয় । পরে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ পুলিশের । তারপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তেরা ।

দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) বিনীত কুমার জানিয়েছেন, "অভিযুক্তেরা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হাসানকে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল । সেখানে তাঁকে মারধর এবং শ্বাসরোধ করা হয় । পরে অভিযুক্তেরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ।"

গ্রেফতারের পরে অভিযুক্তদের কাছ থেকে খুনের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ । তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনায় ব্যবহৃত কিছু সামগ্রী এবং রক্তের দাগ লেগে থাকা পোশাকও পাওয়া গিয়েছে । সেই সমস্ত নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ।

কেন নিজের ছেলেকে খুন করলেন, ওয়াসিমের সঙ্গে আনসারির সম্পর্ক কী এবং এই খুনের পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল কি না- সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা । ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সেই উত্তর পাওয়ার চেষ্টা চলছে ।

মৃত যুবকের স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে । তিনি নিয়মিত চিকিৎসাধীন ছিলেন কি না, তাঁর চিকিৎসা এবং পারিবারিক পরিস্থিতি কেমন ছিল, অভিযুক্তেরা তাঁকে কেন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল, সেই সমস্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।