দাউদাউ করে জ্বলে উঠল গাড়ি ! প্রকাশ্যে দিল্লি বিস্ফোরণের সিসিটিভি ফুটেজ
সোমবারের ভয়াবহ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আনল দিল্লি পুলিশ ৷ বিস্ফোরণটি ঠিক কোন সময় হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়েছে ফুটেজে ৷

Published : November 12, 2025 at 12:41 PM IST
নয়াদিল্লি, 12 নভেম্বর: ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা 6টা 50 মিনিট ৷ ধীরে ধীরে দিল্লির সুভাষ মার্গ সিগন্যালের দিকে এগোচ্ছে সাদা হুন্ডাই i20 গাড়ি ৷ আশপাশে রয়েছে আরও একাধিক গাড়ি ৷ সিগন্যালের ঠিক কাছে পৌঁছতেই বিকট শব্দ ৷ দাউদাউ করে জ্বলে উঠল গাড়ি ৷ দিল্লির লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বুধবার প্রকাশ করল দিল্লি পুলিশ ৷
লালকেল্লা ক্রসিংয়ের সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে ৷ সোমবার সন্ধ্যায় ঘটা বিস্ফোরণের ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে, যেন লাল রঙের বড় একটি বেলুন ফেটে গেল ৷ সঙ্গে সঙ্গে বিকট আওয়াজ, আগুনের লেলিহান শিখায় ঢেকে গেল চারিদিক ৷ প্রাণ ভয়ে এদিকে ওদিকে ছুটে বেরাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, আতঙ্ক- সেই সবকিছু ধরা পড়েছে এই ফুটেজে ৷ তদন্তকারীরা বিস্ফোরণে সময় সম্পর্কে আগে যা জানিয়েছিলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে ।
এর আগে সোমবার হরিয়ানার ফরিদাবাদে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে জইশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের সঙ্গে জড়িত এক জঙ্গি মডিউলের হদিশ পায় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ৷ ঘটনায় 3 চিকিৎসক-সহ 8 জনকে গ্রেফতার করা হয় ৷ উদ্ধার করা হয় 2 হাজার 900 কেজি বিস্ফোরক ৷ এই অভিযানের কয়েকঘণ্টা পরই দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে ৷ ইতিমধ্যেই বিস্ফোরণের তদন্ত এনআইএ-কে দেওয়া হয়েছে ৷
লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণে অন্তত 12 জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ আহত 20 জন ৷ মৃতদের মধ্যে 8 জনের দেহ শনাক্ত করা গেলেও বাকিদের দেহ শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, 8 জনের মধ্যে 5 জন উত্তরপ্রদেশ, 2 জন দিল্লি এবং একজন বিহারের বাসিন্দা ৷ ইতিমধ্যেই তাঁদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৷
আচমকা বিস্ফোরণ
এদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ৷ তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, সোমবার সন্ধ্যায় বিস্ফোরণের কোনও পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না উমর নবির ৷ আচমকাই ঘটনাটি ঘটেছে ৷ তাঁদের আরও অনুমান, এক লপ্তে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়ার সময় কোনও কারণে এই বিস্ফোরণ হয় ৷ অতীতে বিভিন্ন নাশকতার তদন্তের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে পুলিশ-প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এক জায়গা থেকে অন্যত্র বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা হয়ে থাকে ৷ এখানে সেটাও হয়নি ৷ অর্থাৎ কোনও একটি জায়গা থেকে বিস্ফোরক যে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হবে সেটাও আচমকাই ঠিক হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা ৷
সরকারি তৎপরতা
সোমবারের ঘটনার পর থেকই তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার ৷ এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ সেই সঙ্গে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে এলএনজেপি হাসপাতালেও যান তিনি ৷ তাঁর থেকে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ পরে এক্স হ্যান্ডেলে নিহতদের প্রতি শোকজ্ঞাপনও করেন ৷ একদিন বাদে মঙ্গলবার ভুটান পৌঁছে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে পরপর দু'টি পর্যালোচনামূলক বৈঠক সারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৷ বৈঠকের পর অমিত শাহ জানান, ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-র হাতে ৷ কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট, দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণ নিছক কোনও সাধারণ বিস্ফোরণের ঘটনা নয় ৷ সন্ত্রাসবাদী হামলা ৷ সোমবার থেকে সরকারি ভাবে এই ঘটনাকে জঙ্গি হামলা বলে ঘোষণা না-করলেও এনআইএ-কে তদন্তভার দেওয়ার সিদ্ধান্তে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, গাড়ি বিস্ফোরণ জঙ্গি হামলা ৷ কারণ, এনআইএ সেই সমস্ত হামলার ঘটনারই তদন্ত করে ৷
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত ঘাতক গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর নবি ৷ পেশায় চিকিৎসক উমর জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা ৷ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে চালকের আসনে থাকা উমরের ৷ তার দেহাংশ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে ৷ মঙ্গলবার সকালে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ পুলওয়ামার কইল এলাকার বাড়ি গিয়ে তার মায়ের ডিএনএ-র নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে ৷ পাশাপাশি তাঁর বাবা গুলাম নবি ভাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ৷
ফরিদাবাদের ঘটনা
এদিকে ফরিদাবাদের পুলিশ কমিশনার সতেন্দ্র কুমার গুপ্তা সাংবাদিকদের জানান, যে বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে, সেখানে আল ফালাহ নামের একটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৷ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ধৃতদের মধ্যে দু'জন চিকিৎসক ৷ তারা জইশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ-এর মতো 'হোয়াইট কলার' জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ৷ এই গোষ্ঠী জম্মু-কাশ্মীর থেকে শুরু করে হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে কার্যকলাপ চালাচ্ছে ৷ অভিযানে বিপুল বিস্ফোরক ছাড়াও একটি ক্যারম কক রাইফেল, দু'টি স্বয়ংক্রিয় পিস্তল, 84টি কার্টিজ, পাঁচ লিটার রাসায়নিক, 20টি ব্যাটারি যুক্ত টাইমার এবং 14টি ব্যাগ পাওয়া যায় ৷
ধৃতদের মধ্যে একজন মুজাম্মিল শাকিল ৷ সে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ৷ দু'জন চিকিৎসকের মধ্যে একজন কাশ্মীরের ডাঃ মুজাম্মিল গানাই এবং লখনউয়ের ডাঃ শাহিন ৷ তার গাড়ি থেকে AK-47 রাইফেল পাওয়া গিয়েছে ৷ শাহিন, ভারতে জইশ-এর মহিলা শাখাটিতে নিয়োগের দায়িত্বে ছিল ৷ সে জইশের মহিলা শাখা জামাত-উল-মোমিনাতের নেতৃত্ব দিত ৷ শ্রীনগরে জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার পড়েছিল ৷ সেই পোস্টারের মামলায় পুলিশ শাহিনকে খুঁজছিল ৷

