লালকেল্লা বিস্ফোরণে 8টি দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে, বাকিগুলির কী হবে ?
দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত 12 জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, এদের মধ্যে 8 জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে ৷

Published : November 12, 2025 at 11:44 AM IST
নয়াদিল্লি, 12 নভেম্বর: জীবিকার জন্য কেউ বেরিয়েছিলেন অটোরিক্সা নিয়ে, কেউ গিয়েছিলেন অন্য় কোনও কাজে ৷ কেউ আবার কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন ৷ আর পাঁচটা দিনের মতোই সাধারণ ছিল সোমবারের সন্ধ্যা ৷ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল সবকিছু ৷
ভয়ানক এক যন্ত্রণার স্মৃতিতে পরিণত হল নভেম্বরের 10 তারিখ ৷ লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণে কমপক্ষে 12 জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ এখনও পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে 8 জনের দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে ৷ বাকিদের দেহাংশ শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞর দল ৷ প্রিয়জনদের বিষয়ে খোঁজ নিতে দিল্লির লোক নায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালের সামনে ভিড় জমিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা ৷ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কেউ, কারও চোখে মুখে উদ্বেগের ছাপ ৷
মৃতদের পরিচয়
শনাক্ত হওয়া একজন হলেন দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (DTC)-এর বাস-কর্মী অশোক কুমার (34) ৷ জগতপুরি এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন উত্তরপ্রদেশের এই বাসিন্দা ৷ কাজ সেরে বন্ধু লোকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি ৷ তিনি উত্তরপ্রদেশের আমরোহার হাসানপুরের বাসিন্দা ৷ দিল্লিতে সারের ব্যবসা করতেন ৷ সোমবারের বিস্ফোরণে দু'জনেরই মৃত্যু হয়েছে ৷ অশোকের আত্মীয় জানান, তাঁর 7 এবং 9 বছরের দুই মেয়ে এবং 6 বছরের এক ছেলে রয়েছে ৷
মৃত্যু হয়েছে দীনেশ মিশ্র নামে উত্তরপ্রদেশের আর এক বাসিন্দারও ৷ 12 বছর ধরে তিনি দিল্লিতে বসবাস করতেন ৷ স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়ে তাঁর সংসার ৷ শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৷ উত্তরপ্রদেশে নিজের গ্রামে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে ৷ দীনেশের ভাইও দিল্লিতে থাকেন ৷ দাদার মৃত্যুসংবাদটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন তিনি ৷

লালকেল্লার সামনের এলাকায় ব্যাটারি চালিত রিক্সা চালাতেন শাস্ত্রী পার্কের 35 বছরের বাসিন্দা জুম্মান ৷ প্রতিদিনের মতো সোমবারও লালকেল্লা চত্বরে পৌঁছন ৷ জুম্মানের কাকা মহম্মদ ইদরিস ইটিভি ভারতকে বলেন, "বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে চাঁদনি চক এলাকায় দেখা যায় জুম্মানকে ৷ ওই এলাকাতেই রিক্সা চালাত তিনি ৷ সন্ধ্যা 6টায় লালকেল্লার সামনে তাকে শেষবার দেখা যায় ৷ তারপর আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি ৷" বিস্ফোরণে তাঁর পা, মুখের অংশ সবকিছু নষ্ট হয়ে গিয়েছে ৷ মঙ্গলবার সকালে স্বামীর দেহ শনাক্ত করার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী তনুজা ৷ ইদরিস বলেন, "জামাকাপড় দেখে জুম্মানকে চিনতে পারে তাঁর মেয়ে ৷ বলে ওঠে, এটাই আমার বাবা ৷ তারপর তনুজা কান্নায় ভেঙে পড়েন ৷"
একই অবস্থা মেরঠ এবং সামলিতে ৷ পরিবারের আর্থিক সমস্যা সমাধানের জন্য দিল্লিতে গাড়ি চালানোর কাজ করতেন মেরঠের বাসিন্দা 30 বছরের মোহসিন ৷ বিস্ফোরণে প্রাণ হারান তিনিও ৷ প্রসাধনীর দোকানের জন্য জিনিসপত্র কিনতে বন্ধু আমানের সঙ্গে সোমবার চাঁদনি চকে গিয়েছিলেন সামলির বাসিন্দা নোমান ৷ বিকেলে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর ৷ বাড়ি ফিরেছেন ঠিকই কিন্তু কফিনবন্দী হয়ে ৷ নিখোঁজ তাঁর বন্ধু আমান ৷

এলাকার শান্ত, ভদ্র, পরপোকারি হিসাবেই পরিচিত নোমান ৷ জানা গিয়েছে, সকলকে সাহায্যের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতেন ৷ দেহ নিয়ে বাড়ির দরজায় অ্যাম্বুল্যান্সটি পৌঁছতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তাঁর মা ৷ বিহারের বাসিন্দা পঙ্কজ সাইনির বয়স 22 বছর ৷ তিনিও দিল্লিতে গাড়ি চালানোর কাজ করতেন ৷ বিস্ফোরণের সময় চাঁদনি চকে এক যাত্রীকে পৌঁছে দিয়ে ফিরছিলেন ৷ ভয়াবহ বিস্ফোরণ প্রাণ কাড়ে তাঁরও ৷ ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের লোকজন ৷
অজ্ঞাত পরিচয় দেহগুলির ভবিষ্যত কী!
চারটি দেহ এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি ৷ তাঁদের কী হবে? এই প্রসঙ্গে এশিয়ান সোসাইটি ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিনের প্রাক্তন সভাপতি ডঃ তামোরিশ কোলের সঙ্গে কথা বলা হয় ৷ মৃতদের চিনতে মেডিকো-আইনি প্রোটোকল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় । তিনি জানান, প্রথমে ময়নাতদন্ত করা হবে ৷ এরপর দেহের উচ্চতা, ওজন, শারীরিক গঠন, দাঁতের চার্টিং, কঙ্কালের অস্বাভাবিকতা, পুরনো অস্ত্রোপচারের ক্ষত, ট্যাটু এবং জন্মগত কোনও চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে ৷

ডাঃ কোলে আরও জানান, সম্ভব হলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ থেকে শুরু করে দাঁতের ছাপ সংগ্রহ করা হয় ৷ সেই সঙ্গে ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং টক্সিলজিক্যাল অ্যানালেসিসের জন্য রক্ত, চুল, নখের কাটা অংশ, হাড় এবং দাঁত-সহ জৈবিক নমুনা সংগ্রহ করা হয় । এরপর দেহের মুখ, পুরো শরীর এবং দেহে কোনও বৈশিষ্ট্য থাকলে তার হাই-রেজোলিউশনের ছবি নেওয়া হয় ৷ সেই সঙ্গে পোশাক, গয়না বা পরিচয়পত্রের মতো ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সিল করে ট্যাগ করা হয় । সমস্ত তথ্য মেডিকো-আইনি রেজিস্টারে জমা করতে হবে ৷ পরিবারের তরফে সংগৃহিত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এবার সেই তথ্য যাচাই করে দেখে দেহ শনাক্ত করা যেতে পারে ৷

