মৃত বাবার সরকারি চাকরি-সম্পত্তি পেতে 'সুপারি' ! জেঠুর সঙ্গে ছক কষে মাকে খুন মেয়ের
সাত লক্ষ টাকা দিয়ে সুপারি কিলার লাগিয়ে মাকে খুন মেয়ের ৷ পরিকল্পনা হয়, গাড়ি চাপা দিয়ে খুন করে পরে বিষয়টিকে দুর্ঘটনা হিসাবে দেখানো হবে ৷

Published : July 9, 2026 at 2:16 PM IST
জয়পুর, 9 জুলাই: সরকারি চাকরি ও সম্পত্তি হাতানোর উদ্দেশ্যে মাকে খুন। 7 লক্ষ টাকা দিয়ে ভাড়াটে গুন্ডা লাগিয়ে মাকে খুন করে মেয়ে ৷ এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা রাজস্থানের জয়পুরে। পুলিশের দাবি, প্রথমে এই ঘটনাকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বলে মনে করা হয়। তবে পুলিশি তদন্তে উঠে আসে মা নীরজ শর্মাকে খুনের ছক কষেছে তাঁরই মেয়ে আয়ুষী শর্মা, ভাসুর ও তাঁর ছেলে ৷
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাবার সরাকারি চাকরি-সম্পত্তি পেতে মাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়াই ছিল মেয়ের একমাত্র লক্ষ্য ৷ তাই সুপারি কিলার ভাড়া করে ৷ নীরজকে এমনভাবে মারতে হবে যেন বিষয়টি দেখে মনে হয় দুর্ঘটনা ৷ ভাড়াটে গুন্ডারা পরিকল্পনা করে, গাড়িতে ধাক্কা মেরে ওই মহিলার প্রাণ নেবে ৷ গত 4 তারিখ, জয়পুরের প্রতাপনগর থানা এলাকায় গাড়ি দুর্ঘটনায় আদালতের কেরানি হিসেবে কর্মরত নীরজ শর্মার মৃত্য়ু হয় ৷
জয়পুর (পূর্ব) ডিসিপি রঞ্জিতা শর্মা জানিয়েছেন, পুলিশের তরফে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হবে ৷ সিসিটিভি ফুটেজে খতিয়ে দেখা হয় ৷ খুঁজে বের করা হয় সুপারি কিলারদের ৷ নীরজ শর্মাকে খুনের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে তাঁর মেয়ে আয়ুষী এবং ভাসুর মোহন স্বরূপ ও ছেলে বলরাম-সহ মোট ছয়জনের নাম জানা যায় ৷ ইতিমধ্যেই 5 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ আয়ুষীর জেঠুর ছেলে বলরাম বর্তমানে পলাতক ৷
ইতিমধ্যে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে ৷ নীরজের মেয়ে তন্ত্রসাধনা করে ৷ মায়ের মৃত্যুর আগে তাঁর সমস্ত কাপড় পুড়িয়ে দিয়েছিল ৷ সেইসঙ্গে তদন্তকারী আধিকারিকরা বাড়িতে গিয়ে তল্লাশির সময় বেশকিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত করেছে ৷ তাতে পরিষ্কার অভিযুক্ত মেয়েটি তন্ত্রসাধনার সঙ্গে যুক্ত ৷
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের মেয়ে আয়ুষী (24) ছাড়াও এক ছেলে রয়েছে ৷ সতেরো বছরের আরিয়ান বিশেষভাবে সক্ষম ৷ নীরজ সাঙ্গানেরের কল্যাণ নগরে থাকতেন ৷ ঘটনার দিন আরিয়ান চিকিৎসার জন্য প্রতাপনগরে গিয়েছিলেন। এদিকে, দিদির মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি ভাই বিজয় কুমার শর্মা ৷ গাড়ি দুর্ঘটনায় দিদি প্রাণ হারালেও তিনি প্রতাপনগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ৷ তিনি পথ দুর্ঘটনা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে পুলিশকে জানান, ঘটনার সরেজমিনে তদন্ত করতে। কারণ, আয়ুষী তাঁকে নীরজের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ফোন কেটে দেয়। তখনই তাঁর সন্দেহ হয় ৷
সম্পত্তি ও চাকরির জন্য খুন- পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, নীরজ শর্মার স্বামী বিজয় কুমার শর্মা আদালতে কেরানি ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তাঁর মৃত্যুর পর মেয়ে আয়ুষী ওই চাকরি পেতে চেয়েছিল। এ বিষয়ে সে তার মায়ের সঙ্গে কথা বললেও, তার মা নিজেই চাকরি করতে চান। কারণ, মা ভেবেছিলেন, আয়ুষী পরবর্তীতে পড়াশোনা করে চাকরি পেয়ে যাবে ৷ এদিকে, ভরতপুরের বামনপুরায় বিজয় কুমার শর্মার দু'টি প্লট ও জমি ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর সেগুলি নীরজের নামে হস্তান্তর করা হয়। চাকরি ও সম্পত্তির লোভে মেয়ে, তার জেঠু ও তুতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মা'কে খুন করার পরিকল্পনা করে ৷
কীভাবে পথ দুর্ঘটনা পরিকল্পনা ? ডিসিপি রঞ্জিতা আরও জানান, পথ দুর্ঘটনায় মহিলার মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাতে জানা যায়, দ্রুত গতিতে আসা একটি স্করপিও গাড়ি মহিলাটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয় ৷ থানার হেড কনস্টেবল দয়ারাম সূত্র মারফত খবর পান, আকাশ নামে একটি ছেলে ওই সাদা স্করপিও গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে আরও দুই-তিনজন ছিল ৷ তদন্তে জানা যায় যে, ঘটনার দিনের আগে কল্যাণ নগর এলাকায় সাদা গাড়িটিকে বেশ ক'য়েকবার দেখা গিয়েছিল। তারপরই সন্দেহ আরও গাঢ় হয় পুলিশের ৷ পুলিশ বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে ৷

