ETV Bharat / bharat

নিয়মিত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, খনি-কর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার নগদ 4 কোটি

ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পড়েন খনি দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর ৷ এরপর খোঁজ পাওয়া গেল তাঁর বিপুল সম্পত্তির ৷ তদন্তে আধিকারিকরা ৷

Mine Scam
(বাঁ-দিক থেকে) অভিযুক্ত খনি কর্তা ও তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার বিপুল নগদ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 25, 2026 at 4:47 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

ভুবনেশ্বর, 25 ফেব্রুয়ারি: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে ! কয়েক হাজার টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পড়েন খনি দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর ৷ সেই সূত্র ধরে তাঁর অফিস থেকে একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে মিলল টাকা ভর্তি একের পর এক ট্রলি আর পলিথিন ! সরকারি সূত্রে খবর, বুধবার ওড়িশার খনি দফতরের কটক সার্কেলের ডেপুটি ডিরেক্টর দেবব্রত মহান্তির বাড়ি থেকে বিপুল নগদ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷

মঙ্গলবার রাতে এক কয়লা ব্যবসায়ীর থেকে 30 হাজার টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন দেবব্রত মহান্তি ৷ এরপর তাঁকে জেরা করা হয় ৷ বুধবার কটক সার্কেলের ডেপুটি ডিরেক্টরের অফিস থেকে শুরু করে একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয় ৷ সেখান থেকে চার কোটি 27 লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেন সরকারি আধিকারিকরা ৷

অভিযুক্ত খনি কর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার বিপুল নগদ (ইটিভি ভারত)

ভুবনেশ্বর ভিজিল্যান্সের এসপি সরোজ কুমার সামাল বলেন, "লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক কয়লা ডিপোর মালিক অভিযোগ করেছিলেন, কটক সার্কেলের ডিডিএম দেবব্রত মহান্তি প্রতি মাসে 40 হাজার টাকা ঘুষ চাইছেন ৷ ডিডিএম তাঁকে হুমকি দেওয়ায় তিনি ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছিলেন ৷"

এরপর গতকাল রাতে তদন্তকারীদের পাতা ফাঁদে পা দেন দেবব্রত এবং তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা ৷ সরকারি সূত্রের খবর, কয়লা ডিপোগুলি ঠিকঠাক করে চালানো এবং কয়লাবোঝাই গাড়িগুলিকে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য দেবব্রত এই ঘুষ চাইতেন ৷ ভুবনেশ্বরের ভিজিল্যান্স পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ৷

ভিজিল্যান্স ডিরেক্টর যশবন্ত জেঠওয়া জানিয়েছেন, ওড়িশায় দুর্নীতি-দমন অভিযানে কোন এজেন্সি এর আগে এত নগদ টাকা উদ্ধার করেনি ৷ এটা ওড়িশায় রেকর্ড ৷ ভুবনেশ্বরের ভিজিল্যান্সের এসপি সরোজ কুমার সামাল বলেন "এখনও পর্যন্ত 4.27 কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে ৷ এর আগে 2009 সালে একইরকম একটি দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল মহান্তির বিরুদ্ধে ৷ ময়ূরভঞ্জের জেলা দায়রা আদালতে সেই মামলা এখনও চলছে ৷"

ভিজিল্যান্স আধিকারিক সামাল আরও বলেন, "কয়লা ডিপোর মালিক ভুবনেশ্বর ডিভিশনে অভিযোগ জানিয়েছিলেন এবং একটি মামলা দায়ের হয় ৷ প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে আমরা তল্লাশি চালাই এবং মহান্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলি ৷ এরপর তাঁর অফিসে তল্লাশি চালিয়ে 1 লক্ষ 20 হাজারেরও বেশি টাকা উদ্ধার করি ৷ এছাড়া তাঁর পাটিয়ার ভাড়াবাড়ি, ভুবনেশ্বর ও ফুলবনীর ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয় ৷ পাশাপাশি ভদ্রকে তাঁর পৈতৃক বাড়িতেও অভিযান চলে ৷ এর সঙ্গে ভুবনেশ্বরের পাহালায় একটি নবনির্মিত বাড়িতে অভিযান হয় ৷ এই তল্লাশিতে সাহায্য করেছে বরহমপুর এবং বালাসোরের ভিজিল্যান্স ডিভিশন ৷ এই সব জায়গায় বিশাল আকারের ট্রলিতে এবং বড় বড় পলিথিনের প্যাকেটে ভর্তি টাকা উদ্ধার হয় ৷ সব মিলিয়ে 4 কোটি 27 লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে ৷ এছাড়া 130 গ্রাম সোনার গয়না, ব্যাঙ্কে ও অন্যান্য জায়গায় সঞ্চিত টাকার হদিশও পাওয়া গিয়েছে ৷"

অভিযুক্ত খনি কর্তার নামে সব মিলিয়ে 10টি ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্ট ও লকার ছিল ৷ সেগুলি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ৷ ইতিমধ্যে এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে ৷ রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি ভক্ত চরণ দাস বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, "তথাকথিত ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে রাজ্যে দুর্নীতি আরও ফুলেফেঁপে উঠেছে ৷"