ETV Bharat / bharat

লাচেনের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে তারুম চু-তে সেতু-সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখল কমিটি

মঙ্গলবার সিকিম সরকারের এক প্রতিনিধি দল এই পরিকল্পনা খতিয়ে দেখে৷

Construction Work at Tarum Chu
তারুম চু-তে সেতু-সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখল কমিটি (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : June 3, 2026 at 4:19 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

গ্যাংটক, 3 জুন: উত্তর সিকিমের চুংথাং থেকে লাচেনগামী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে নিয়মিত যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতো, তা স্থায়ীভাবে দূর করতে এবং দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সিকিম সরকার। এর জন্য চলছে সড়ক সংস্কার এবং এমন একটি সুড়ঙ্গ বা টানেল তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে, যা সারা বছর যেকোনও আবহাওয়াতেই যান চলাচলের জন্য স্বাভাবিক থাকে৷

মঙ্গলবার সিকিমের একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি দল সরাসরি তারুম চু এলাকায় আসে৷ তারা চুংথাং থেকে লাচেনগামী ওই সড়কে যে সংস্কার চলছে, তা খতিয়ে দেখতে ও ভবিষ্যতের পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ করতেই এসেছিল ওই প্রতিনিধি দল৷ তারা পুরোটা খতিয়েও দেখে৷

Construction Work at Tarum Chu
তারুম চু-তে সেতু-সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখল কমিটি (নিজস্ব ছবি)

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই তারুম চু এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার রাস্তা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় স্থানীয় জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়ে এবং লাচেনের পর্যটন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছিল। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং-এর বিশেষ নির্দেশে গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি মূলত এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে এবং সরকারি প্রকল্পের রূপরেখা তৈরিতে কাজ করছে।

পরিদর্শনকালে গ্রিফ (GREF)-এর শীর্ষ আধিকারিকরা কমিটিকে জানান যে যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে বর্তমানে জোরকদমে কাজ চলছে। রাস্তার ধসের অংশটুকু পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পাহাড়ের বিশাল অংশ কেটে সমান করা হচ্ছে। আধিকারিকদের দাবি, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও সংস্কারের কাজ নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই এগোচ্ছে এবং দ্রুতই লাচেনের সঙ্গে পুনরায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে কমিটি বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের প্রস্তাবনা খতিয়ে দেখেছে।

Construction Work at Tarum Chu
তারুম চু-তে সেতু-সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখল কমিটি (নিজস্ব ছবি)

কমিটির আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল :-

200 মিটার দীর্ঘ স্টিল ডাবল আর্চ ব্রিজ: তারুম চু-র সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে একটি আধুনিক স্টিল ডাবল আর্চ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাহাড়ের ঢাল ও ভূপ্রকৃতির সঙ্গে মানানসই এই ধরনের শক্তিশালী সেতু দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতেও সংযোগ রক্ষা করতে সক্ষম হবে।

186 মিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ পথ বা টানেল: প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ এলাকাটিকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য 186 মিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। কমিটি মনে করছে, পাহাড়ের বুক চিড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করতে পারলে, তা কেবল দুর্যোগ থেকে সুরক্ষাই দেবে না, বরং যাতায়াতের সময়ও অনেকটা কমিয়ে আনবে। সারা বছর যেকোনও ধরনের আবহাওয়াতেই যাতে ওই টানেল স্বাভাবিক থাকে যান চলাচলের জন্য, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

কৌশলগত গুরুত্ব ও সরকারের প্রতিশ্রুতি

কমিটির সদস্যরা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে উত্তর সিকিম রাজ্যের অন্যতম কৌশলগত ও স্পর্শকাতর এলাকা। দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং পর্যটন শিল্পের প্রসারে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল থাকা অপরিহার্য। তাই যেকোনও মূল্যে এমন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা কেবল বর্তমানের প্রয়োজন মেটাবে না, বরং আগামী কয়েক দশকের জন্য টেকসই হবে।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দল জানায়, খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত প্রকল্পের রিপোর্ট (DPR) প্রস্তুত করে, তা অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তে লাচেনের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, স্থায়ী সেতু বা সুড়ঙ্গ নির্মিত হলে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই ভোগান্তির স্থায়ী ইতি ঘটবে।

আরও পড়ুন -

  1. এক সপ্তাহে 10 ভূমিকম্প, সিকিম-সহ উত্তরবঙ্গ নিয়ে উদ্বেগে গবেষক-পরিবেশবিদরা
  2. দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গ অতি ভূমিকম্পপ্রবণ, বিআইএসের রিপোর্টে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন