স্পা সেন্টার বা যৌনপল্লিতে ধরা পড়লেই মানব পাচারের মামলা নয়, হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তি ব্যক্তির
মামলাটি খারিজ করার জন্য গুজরাত হাইকোর্টে একটি আবেদন দাখিল করা হয় । তার ভিত্তিতে আদালত রায় দিয়েছে ৷

Published : September 3, 2026 at 1:53 PM IST
আহমেদাবাদ, 3 সেপ্টেম্বর: শুধুমাত্র খদ্দের বা গ্রাহক হিসেবে স্পা সেন্টার বা যৌনপল্লিতে উপস্থিতি থাকলে তার ভিত্তিতে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা শুরু করা যায় না । স্পা সেন্টার বা যৌনপল্লিতে অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে বড় স্বস্তি দিল গুজরাত হাইকোর্ট । আদালত একটি মামলায় আট নম্বর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন এফআইআর, চার্জশিট এবং ফৌজদারি মামলা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে ।
গুজরাতের সুরাতের ওলপাদ থানায় দায়ের করা হয়েছিল মামলাটি । 2025 সালের 20 ডিসেম্বর দায়ের করা এফআইআর-এ ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ধারা 143(2), 143(3), এবং 61(2)(A) এবং অনৈতিক পাচার (প্রতিরোধ) আইন, 1956-এর ধারা 3, 4, এবং 5-এর অধীনে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে । তদন্তের পর পুলিশ গত 28 ফেব্রুয়ারি চার্জশিট দাখিল করে আদালতে ।
অভিযুক্তের পক্ষে আইনজীবী পার্থ বি থুম্মার মামলাটি খারিজ করার জন্য গুজরাত হাইকোর্টে আবেদন করেন । আবেদনকারী যুক্তি দিয়েছেন, পুলিশের দাবি অনুযায়ী তাঁর মক্কেলকে ঘটনাস্থল থেকে একজন গ্রাহক হিসেবে আটক করা হয়েছিল । আবেদনকারী যে দালাল বা মধ্যস্থতাকারী ছিলেন, তা প্রমাণ করার মতো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নথিতে নেই ।
আবেদনকারীর আইনজীবী পার্থ বি থুম্মারের মূল যুক্তি ছিল, শুধুমাত্র গ্রাহক হওয়ার ভিত্তিতে অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইনের 3, 4 ও 5 ধারা প্রয়োগ করা যায় না । বিশেষত ধারা 5 অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তিকে দালাল হিসেবে গণ্য করার জন্য যৌনপল্লিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের বিষয়টি প্রমাণিত হতে হবে । যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যে ব্যক্তি কেবল পরিষেবা নেওয়ার জন্য অর্থ প্রদান করেন, তাঁকে দালাল বা যৌনপল্লিতে সরবরাহকারী হিসেবে গণ্য করা যায় না ।
আবেদনকারী তাঁর যুক্তির সমর্থনে গুজরাত হাইকোর্ট-সহ অন্যান্য হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের উদাহরণ দেন । যুক্তির মূল বিষয় ছিল, কোনও নির্দিষ্ট ভূমিকা ছাড়া শুধুমাত্র গ্রাহক হিসেবে কোনও যৌনপল্লিতে উপস্থিত থাকার কারণে আইনের বিধান প্রয়োগ করা যায় না । তবে, রাজ্যের পক্ষে সরকারি আইনজীবী নীরজ শর্মা মামলাটি খারিজ করার আবেদনের বিরোধিতা করেন । যুক্তি দেখিয়েছেন, পুলিশের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে । তদন্তে প্রমাণ হয়েছে, আবেদনকারী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন । আবেদনকারীর অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এবং সেই কারণে এই পর্যায়ে এফআইআর ও অভিযোগপত্র বাতিল করা সমীচীন নয় ।
হাইকোর্ট উভয় পক্ষের যুক্তি এবং মামলা-সম্পর্কিত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করেছে । আদালত রায় দিয়েছে, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলির পরিপ্রেক্ষিতে, শুধুমাত্র গ্রাহক হওয়াকে যৌনপল্লির দালাল হিসেবে গণ্য করা যায় না । অতএব অনৈতিক মানব পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনও আইনি ভিত্তি নেই ।
আইনজীবী পার্থ বি থুম্মার বলেন, "গুজরাত হাইকোর্ট আট নম্বর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চলা মামলা খারিজ করার আবেদন মঞ্জুর করেছে । ফলস্বরূপ, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে সমস্ত ফৌজদারি মামলা খারিজ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে ৷ যার মধ্যে রয়েছে 2025 সালের 20 ডিসেম্বর করা এফআইআর, 2026 সালের 28 ফেব্রুয়ারির চার্জশিট এবং ওলপাদ আদালতে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা ।"
তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিকটি হল, কোনও যৌনপল্লিতে অভিযান চালানোর সময় যদি কোনও ব্যক্তিকে গ্রাহক সেজে থাকতে দেখা যায়, তবে তাঁকে দালাল বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গণ্য করা যাবে না । সেই ব্যক্তির নির্দিষ্ট ভূমিকা এবং আইনের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলি অবশ্যই নথিবদ্ধ থাকতে হবে । তবে, এই সিদ্ধান্তটি সর্বজনীন নয় । প্রতিটি ক্ষেত্রে আদালত এফআইআর-এ থাকা নির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত প্রাপ্ত প্রমাণ এবং অভিযুক্তের প্রকৃত ভূমিকার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয় ।

