ক্যানসারে বাড়ছে উদ্বেগ, চিন-আমেরিকার পরেই ভারত ! দেশে প্রতি 3 মিনিটে একজনের মৃত্যু
বছরে আক্রান্ত 15.7 লক্ষ, মৃত্যু 8.7 লক্ষ ! পাঁচ বছরের ব্যবধানে নতুন রোগী বেড়েছে প্রায় দেড় লক্ষ, মৃত্যু বেড়েছে প্রায় 80 হাজার !

Published : September 1, 2026 at 5:55 PM IST
নয়াদিল্লি, 1 সেপ্টেম্বর: সংখ্যাটা 15 লক্ষের বেশি । আরও নির্দিষ্ট করে বললে, বছরে প্রায় 15.7 লক্ষ নতুন ক্যানসার রোগী । তাঁদের মধ্যে প্রায় 8.7 লক্ষ মানুষের মৃত্যু ! অর্থাৎ, ক্যালেন্ডারের পাতায় একটি বছর শেষ হতে হতে ভারতে ক্যানসার কেড়ে নিচ্ছে প্রায় 9 লক্ষ প্রাণ । রোগের বোঝা কতটা বাড়ছে, তার আর একটি হিসাব, 2021 সালে দেশে নতুন ক্যানসার রোগীর আনুমানিক সংখ্যা ছিল 14.26 লক্ষ । 2025 সালে তা বেড়ে হয়েছে 15.7 লক্ষের কাছাকাছি । একই সময়ে ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যাও 7.89 লক্ষ থেকে বেড়ে 8.69 লক্ষ হয়েছে । পাঁচ বছরের ব্যবধানে নতুন রোগী বেড়েছে প্রায় দেড় লক্ষ, মৃত্যু বেড়েছে প্রায় 80 হাজার !
এ শুধু ভারতের ছবি নয় । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা IARC-এর সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, 2024 সালে গোটা বিশ্বে প্রায় 2.06 কোটি মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন । মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক কোটির । আর এখনই প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে না পারলে 2050 সালে এক বছরে নতুন ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে প্রায় 3.5 কোটিতে । অর্থাৎ, আগামী সাড়ে দুই দশকে পৃথিবীকে এমন এক ক্যানসার-সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হতে পারে, যার আকার আজকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ !
ভারত সেই বৈশ্বিক ছবির বাইরে নয় । বরং মোট রোগীর সংখ্যার বিচারে চিন ও আমেরিকার পরেই ভারতের নাম উঠে আসে । তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, মোট রোগীর সংখ্যা আর জনসংখ্যার তুলনায় রোগের হার এক নয় । ভারতের জনসংখ্যা বিপুল বলেই মোট রোগীর সংখ্যাও বিপুল । সেই সঙ্গে দেশের বহু এলাকায় এখনও ক্যানসার পরীক্ষা ও রোগ নথিভুক্ত করার সুযোগ সীমিত । ফলে সরকারি অনুমান যতটা ছবি দেখাচ্ছে, প্রকৃত বোঝা তার চেয়েও কিছুটা আলাদা হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের ।

পাঁচ বছরে বদলে গেল অঙ্ক
সরকারি পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে ক্যানসারের প্রকোপ বৃদ্ধির ছবিটা আরও স্পষ্ট হয় । 2021 সালে আনুমানিক 14 লক্ষ 26 হাজার 447টি নতুন ক্যানসার আক্রান্তের ঘটনা ছিল । 2022 সালে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল 14 লক্ষ 61 হাজার 427 । একইভাবে 2023 সালে আক্রান্তের সংখ্যা 14,96,972, 2024 সালে 1533055 এবং 2025 সালে সেই সংখ্যা পৌঁছেছিল 15 লক্ষ 69 হাজার 793টি । অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা ৷
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে । ক্যানসারে 2021 সালে আনুমানিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল 7লক্ষ 89 হাজার 202 ৷ 2022, 2023, 2024 এবং 2025 সালে সেই সংখ্যায় পর্যায়ক্রমে বেড়ে দাঁড়িয়েছে 828252, 848266 এবং 8 লক্ষ 68 হাজার 588 ! অর্থাৎ পাঁচ বছরে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় 80 হাজার !
গড় করলে দাঁড়ায়, দেশে প্রতিদিন প্রায় 4 হাজার 300-এর বেশি মানুষ ক্যানসারে মারা যাচ্ছেন । অর্থাৎ, গড় হিসাবে প্রায় প্রতি 3 মিনিট 20 সেকেন্ডে একটি মৃত্যু । অবশ্য এটি বার্ষিক গড়ের হিসাব, কোনও নির্দিষ্ট সময়ে ঠিক এত ব্যবধানে মৃত্যু হচ্ছে, এমন নয় ।
উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি, বাংলাও উদ্বেগের তালিকায়
মোট রোগীর সংখ্যায় দেশের বড় রাজ্যগুলিই স্বাভাবিক ভাবে এগিয়ে । 2025 সালের অনুমান অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে প্রায় 2.26 লক্ষ নতুন ক্যানসার রোগী এবং প্রায় 1.25 লক্ষ মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে । বিপুল জনসংখ্যার পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, স্বাস্থ্য পরিষেবায় অসম প্রবেশাধিকার এবং দেরিতে রোগ ধরা পড়া- একাধিক কারণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ।
উত্তরপ্রদেশের পর রয়েছে মহারাষ্ট্র । সেখানে 2025 সালে প্রায় 1.30 লক্ষ নতুন রোগী এবং 71 হাজার 696টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে । পশ্চিমবঙ্গে নতুন রোগী প্রায় 1.22 লক্ষ, মৃত্যু প্রায় 67 হাজার । বিহারে প্রায় 1.18 লক্ষ নতুন রোগী এবং 65 হাজার 571 জনের মৃত্যু হয়েছে । তামিলনাড়ুতেও নতুন রোগীর সংখ্যা প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি । অর্থাৎ, ক্যানসার এখন কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চল বা শহরের সমস্যা নয় । উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম- দেশের স্বাস্থ্য-মানচিত্রের প্রায় সর্বত্রই এর চাপ বাড়ছে ।
ক্যানসারের ধরন
ভারতে ক্যানসারের ধরনগুলিও একটি গুরুত্বপূর্ণ গল্প বলে । পুরুষদের মধ্যে ঠোঁট ও মুখের ক্যানসার এবং ফুসফুসের ক্যানসারের প্রকোপ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য । এর সঙ্গে তামাক, গুটখা, খৈনি, জর্দা, পান-মশলা এবং ধূমপানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে । খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর ক্যানসারও পুরুষদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ।
মহিলাদের ক্ষেত্রে ছবিটা আবার আলাদা । স্তন ক্যানসার সবচেয়ে বেশি । তার পরে জরায়ুমুখ, ডিম্বাশয় এবং ফুসফুসের ক্যানসার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে । ফলে মহিলাদের ক্ষেত্রে বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী স্তন এবং জরায়ুমুখের ক্যানসারের স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব বাড়ছে ।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু উন্নত হাসপাতাল তৈরি করলেই হবে না । মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছতে হবে রোগের প্রথম দিকেই । কারণ ক্যানসারের ক্ষেত্রে 'কত ভাল চিকিৎসা হবে', তার সঙ্গে 'কখন ধরা পড়ল' প্রশ্নটির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ।
সবচেয়ে বড় শত্রু, দেরিতে জানা
ভারতে ক্যানসারের মৃত্যুহার নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ হল রোগ নির্ণয়ে দেরি । অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে পৌঁছন তখন, যখন রোগ শরীরে অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছে । গ্রামাঞ্চলে পরীক্ষা করার সুযোগের অভাব, শহরে চিকিৎসার বিপুল খরচ, ক্যানসার নিয়ে ভয় ও সামাজিক সংকোচ- সব মিলিয়ে রোগ শনাক্ত হওয়ার সময় পিছিয়ে যায় ।
আর এই জায়গাতেই বড় ভূমিকা নিতে পারে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা । মুখে দীর্ঘদিনের ঘা, অস্বাভাবিক রক্তপাত, স্তনে কোনও অস্বাভাবিক গাঁট, দীর্ঘদিনের কাশি, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, গিলতে সমস্যা- এ ধরনের লক্ষণকে 'সামান্য ব্যাপার' ভেবে ফেলে না রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি । অবশ্য কোনও একটি লক্ষণ দেখলেই ক্যানসার হয়েছে ধরে নেওয়ারও কারণ নেই ।

কেন বাড়ছে ?
ক্যানসারের সংখ্যা বৃদ্ধির পিছনে একটি কারণ নয়, একাধিক কারণ কাজ করছে । প্রথমত, দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে । দ্বিতীয়ত, মানুষ আগের তুলনায় বেশি দিন বাঁচছেন । বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে ।
তার সঙ্গে বদলেছে জীবনযাত্রা । শহুরে জীবনে হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রম কমেছে । স্থূলতা বাড়ছে । প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত ক্যালোরি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা নানা ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত । তামাক ও অ্যালকোহলও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি । বায়ুদূষণও উদ্বেগের জায়গা । বিশেষ করে ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘদিনের দূষণের প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে ।
তবে ক্যানসার বৃদ্ধির একটি 'ইতিবাচক' কারণও রয়েছে, আগের তুলনায় রোগ শনাক্ত করার ক্ষমতা বেড়েছে । ফলে যে রোগ আগে ধরা পড়ত না, এখন তার অনেকটাই নথিভুক্ত হচ্ছে ।
মিজোরামের ছবি উলটো
মোট রোগীর সংখ্যায় উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি বড় রাজ্যগুলির তুলনায় অনেক পিছনে । কিন্তু জনসংখ্যার অনুপাতে ক্যানসারের হার কোথাও কোথাও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি । মিজোরাম তার অন্যতম উদাহরণ ।
স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, তামাক ও সুপারি ব্যবহারের মতো বিষয়কে গবেষকেরা সেখানে নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন । পুরুষদের ক্ষেত্রে পাকস্থলী ও খাদ্যনালির ক্যানসার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যানসারের উল্লেখযোগ্য প্রকোপের কথাও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে ।
এই কারণেই শুধু মোট রোগীর সংখ্যা দিয়ে ক্যানসারের মানচিত্র তৈরি করলে ভুল ছবি পাওয়া যায় । কোথাও রোগী বেশি কারণ জনসংখ্যা বেশি, আবার কোথাও জনসংখ্যার তুলনায় রোগীর হার বেশি ।
চিনে রোগী সবচেয়ে বেশি
বিশ্বের ক্যানসার-চিত্রে চিনের অবস্থান সবচেয়ে বড় । 2024 সালের GLOBOCAN অনুমান অনুযায়ী, সেখানে নতুন ক্যানসার রোগীর সংখ্যা প্রায় 51.5 লক্ষ । আমেরিকায় প্রায় 23.8 লক্ষ । ভারতের ক্ষেত্রে নতুন রোগীর সংখ্যা প্রায় 15 লক্ষের ঘরে ।
কিন্তু জনসংখ্যা-অনুপাতের হিসাব করলে ছবিটা বদলে যায় । চিনের জনসংখ্যা ভারতের তুলনায় অনেক কম হলেও ক্যানসারের মোট রোগী অনেক বেশি । এর পিছনে বয়সের কাঠামো, তামাকের ব্যবহার, জীবনযাপন, বিভিন্ন ঝুঁকির কারণ এবং রোগ শনাক্ত করার ব্যবস্থার পার্থক্য রয়েছে । তাই 'ভারতে বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক ক্যানসার রোগী' এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিকে ভারতের জনসংখ্যার আকারের প্রেক্ষাপটেই দেখতে হবে ।
বিশ্বের সামনে 2050-এর অঙ্ক
WHO-এর সতর্কবার্তাটি এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । 2024 সালে বিশ্বে প্রায় 2.06 কোটি নতুন ক্যানসার রোগী । 2050 সালে সেই সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় 3.5 কোটিতে ।
কেন ? মূলত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের আয়ু বাড়া এবং জনসংখ্যার বয়স বাড়ার পাশাপাশি জীবনযাপনের পরিবর্তন । নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে এই চাপ আরও বেশি হতে পারে । কারণ সেখানে রোগ শনাক্তকরণ এবং আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ এখনও সমান নয় । অর্থাৎ, ক্যানসারের বিরুদ্ধে আগামী দিনের লড়াই শুধু নতুন ওষুধ আবিষ্কারের লড়াই নয় । এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লড়াইও ।

তামাক ছাড়াই প্রথম বড় পদক্ষেপ
WHO-এর মতে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি কমিয়ে এড়ানো সম্ভব । সেই তালিকার একেবারে উপরে তামাক । সিগারেট, বিড়ি, খৈনি, গুটখা, জর্দা- তামাকের যে কোনও রূপই ঝুঁকিপূর্ণ । মুখ, গলা, খাদ্যনালি এবং ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে তামাকের সম্পর্ক সুপ্রতিষ্ঠিত । ধূমপান না করলেও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি হতে পারে ।
অ্যালকোহলও বিভিন্ন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় । স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, শাকসব্জি ও ফলসমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোও গুরুত্বপূর্ণ ।
টিকাতেও প্রতিরোধ সম্ভব
ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র টিকাকরণ । এইচপিভি টিকা জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে । হেপাটাইটিস বি টিকা হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে । কোন বয়সে কোন টিকা প্রয়োজন, তা সরকারি টিকাকরণ সূচি ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত ।
লড়াইয়ের সবচেয়ে জরুরি জায়গা
ক্যানসারের ক্ষেত্রে সব রোগীকে একই ধরনের স্ক্রিনিং করানো যায় না । বয়স, লিঙ্গ, পারিবারিক ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ । স্তন, জরায়ুমুখ ও মুখের ক্যানসারের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে উপযুক্ত স্ক্রিনিং এবং দ্রুত চিকিৎসা মৃত্যুহার কমাতে সাহায্য করতে পারে ।
তাই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূল সূত্রটি খুব জটিল নয়- ঝুঁকি কমানো, লক্ষ্মণকে অবহেলা না করা, প্রয়োজনমতো পরীক্ষা এবং রোগ ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা ।
কারণ 15.7 লক্ষের অঙ্কটি কেবল একটি সংখ্যা নয় । তার মধ্যে রয়েছে 15.7 লক্ষ মানুষের জীবন, তাঁদের পরিবার, তাঁদের কাজ, তাঁদের ভবিষ্যৎ । আর 8.7 লক্ষ মৃত্যুর পিছনে রয়েছে আরও কয়েক কোটি মানুষের শোক ও আর্থিক চাপ ।
তাই ভারতের সামনে প্রশ্ন শুধু, ক্যানসার কত বাড়ছে ? এটা নয়, বরং প্রশ্ন আরও বড়, কতগুলি ক্যানসার আগেই ঠেকানো যেত, কতগুলি রোগ আরও আগে ধরা যেত, আর কতগুলি জীবন আরও কিছুটা সময় পেতে পারত ?
2050 সালে 3.5 কোটির সংখ্যা ছোঁয়ার আগেই সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি । কারণ ক্যানসারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র অনেক সময় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নয়, রোগ হওয়ার আগেই নেওয়া একটি সিদ্ধান্তে ।
ক্যানসার শনাক্ত করবে কুকুর ! নয়া ভাবনা-চিন্তায় বেঙ্গালুরুর AI টেক সংস্থা Dognosis
তামাক খাই না, শুধু সুপুরি ! এই ভরসাই ডেকে আনতে পারে মুখের ক্যানসার

