শ্রীনগর বিমানবন্দরে 'সিভিল এনক্লেভ' তৈরিতে কেন্দ্রের অনুমোদন
সিভিল এনক্লেভের সম্প্রসারণ কাশ্মীর উপত্যকায় বিমান চলাচলের পরিকাঠামো ও যোগাযোগ উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৷

By PTI
Published : February 24, 2026 at 8:20 PM IST
নয়াদিল্লি, 24 ফেব্রুয়ারি: শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের 'সিভিল এনক্লেভ' সম্প্রসারণের সায় দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৷ মঙ্গলবার এর জন্য প্রস্তাবিত 1 হাজার 677 কোটি টাকার অনুমোদনে ছাড়পত্র দিয়েছে মোদি সরকার ৷ সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিভিল এনক্লেভের সম্প্রসারণ কাশ্মীর উপত্যকায় বিমান চলাচলের পরিকাঠামো ও যোগাযোগ উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৷ এই প্রকল্পের আওতায় নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য ব্যারাক নির্মাণও করা হবে ৷
তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এদিন ঘোষণা করেন, অর্থনীতি বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি শ্রীনগর বিমানবন্দরে 'সিভিল এনক্লেভ' তৈরির জন্য প্রস্তাবিত 1 হাজার 677 কোটি টাকার অনুমোদনে ছাড়পত্র দিয়েছে ৷ 73.18 একর জুড়ে তৈরি হবে এই এনক্লেভ ৷ নতুন টার্মিনাল ভবনটি হবে 71 হাজার 500 স্কোয়ার মিটারের ৷ নতুন টার্মিনাল ভবনটি দিনের ব্যস্ত সময়ে 2 হাজার 900 জন যাত্রীর ভার সামলাতে পারবে ৷ বছরে 1 কোটি যাত্রী এই টার্মিনাল দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন ৷ এই প্রজেক্টের ফলে নয়া কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে ৷
প্রকল্পটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) বুদগাম বিমানঘাঁটির ভেতরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত হবে ৷ 2005 সালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পায় ৷ এটি শ্রীনগর থেকে প্রায় 12 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৷ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বর্ধিত অ্যাপ্রোনে 15টি বিমান পার্কিং বে থাকবে ৷ যার মধ্যে 1টি প্রশস্ত (9টি বর্তমান ও 6টি প্রস্তাবিত) বে অন্তর্ভুক্ত ৷ 3,658 মিটার X 45 মিটার রানওয়েটি IAF দ্বারা পরিচালিত হবে। এই প্রকল্পে এক হাজার গাড়ির জন্য বহুস্তরের পার্কিং নির্মাণ করাও হবে ৷
সিভিল এনক্লেভ (Civil Enclave) হল সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত বিমানঘাঁটির অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি নির্দিষ্ট এলাকা, যা বেসামরিক যাত্রী ও বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয় ৷ এটি মূলত যৌথ-ব্যবহারের বিমানবন্দর হিসেবে কাজ করে, যেখানে রানওয়ে ও আকাশপথ সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে এবং টার্মিনাল বা বিশেষ অংশটি যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হয় ৷
অর্থাৎ একটি বিমানঘাঁটি প্রতিরক্ষা এবং সাধারণ যাত্রী ও বাণিজ্যিক—উভয় কাজেই ব্যবহৃত হয় ৷ রানওয়ে ও ট্রাফিক কন্ট্রোল সাধারণত সামরিক বাহিনীর অধীনে থাকে ৷ আর যাত্রীদের বিষয়টি অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের অধীনে থাকে ৷
প্রকল্পটি ডাল লেক, শঙ্করাচার্য মন্দির এবং মুঘল উদ্যান-সহ আইকনিক আকর্ষণগুলির সঙ্গে সংযোগ উন্নত করে পর্যটন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে ৷ পাশাপাশি এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বিনিয়োগকে উদ্দীপিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে ৷
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থাপত্যের দিক থেকে নতুন টার্মিনালটি আধুনিক নকশা এবং কাশ্মীরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি মিশ্রণ ৷ এখানে উন্নতমানের কাঠের কাজ এবং স্থানীয়ভাবে অনুপ্রাণিত কারুশিল্পের মতো ঐতিহ্যবাহী উপাদানগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হবে ৷ একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য প্রশস্ত লাউঞ্জ ও কড়া নিরাপত্তা এবং চেক-ইন সুবিধা থাকবে ৷

