সরকার বিরোধী স্লোগান দেওয়া কি গুরুতর অপরাধ ? নেতার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির মামলায় তোপ আদালতের
শুনানির একটি পর্বে বিচারপতি বলেন, "পুলিশের মনে রাখা উচিত তাঁরা প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর সেবক নন, মানুষের সেবক ৷" সমালোচনা করলেই নিষেধাজ্ঞা জারি-মৌলিক অধিকারে আঘাত ৷

By PTI
Published : July 3, 2026 at 12:05 PM IST
মুম্বই, 3 জুলাই: কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছিলেন ৷ প্রকাশ্য় রাস্তায় সমালোচনা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ৷ এই ছিল 'অপরাধ' ৷ আর তাই সোশাল ডেমক্র্য়াটিক পার্টির নেতা সইদ আহমেদ আব্দুল চৌধুরির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পুলিশ ৷ সেই নিষেধাজ্ঞা খারিজ করে দিল বম্বে হাইকোর্ট ৷ শুধু তাই নয়, আদালতের পর্যবেক্ষণ সরকারের বিরোধিতা করায় কারও উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা মানে তাঁর মৌলিক অধিকারে আঘাত হানা ৷ মৌলিক অধিকার একজন মানুষের সম্মানের সঙ্গে জড়িত ৷
বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি মাধব জমাদারের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয় বৃহস্পতিবার ৷ পুলিশের কড়া সমালোচনা করে বিচারপতি বলেন, "পুলিশের মনে রাখা উচিত তাঁরা প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর সেবক নন, মানুষের সেবক ৷" আর তাই যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিক রাজনৈতিক নেতাদের খুশি করতে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্য়বস্থা নেওয়া উচিত বলেও মনে করেন বিচারপতি ৷
ঘটনার সূত্রপাত বছর খানেক আগে ৷ মুম্বইয়ের রাস্তায় একটি অনুষ্ঠান করেন আব্দুল ৷ সেখানে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তুমুল সমালোচনা করা হয় ৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম করে স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও ঘটে ৷ এই ঘটনার পর সোশাল ডেমক্র্য়াটিক পার্টির নেতার উপর জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞা খারিজের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি ৷ শুনানিতে পুলিশ জানায়, সেদিনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি ৷ কিন্তু সেই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি আদালত ৷
আদালতের প্রশ্ন, স্লোগান দেওয়ার জন্য় কাউকে ঠিক কোন যুক্তিকে নির্বাসনে পাঠানো হবে ? নাগরিকদের কি স্লোগান দেওয়ার অধিকারও নেই ? একজন নাগরিক ঠিক কোন যুক্তিতে সরকারের বিরোধিতা করতে পারবেন না অথবা সরকারকে প্রশ্ন করতে পারবেন না ? এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিয়ে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি মুম্বই পুলিশ ৷ এরপর নেতার উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা খারিজ করে আদালত ৷
শুনানির একটি পর্বে পুলিশের দেওয়া যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানায়, সেদিন অনুমুতি না নিয়ে আব্দুল অনুষ্ঠান করার কারও কোনও ক্ষতি হয়েছে এমন প্রমাণ নেই ৷ সমাজের ক্ষতি হয়েছে এমন প্রমাণও নেই ৷ এমতাবস্থায় শুধু সরকারের বিরোধিতা করা হয়েছে, সরকার বিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে - এই যুক্তিতে কারও উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা যায় না ৷ আব্দুলের আইনজীবী শুনানির একটি পর্বে মারাঠা রাজনীতিতে চলতে থাকা দলবদলের প্রসঙ্গ টেনে এনে ঘোড়া কেনাবেচার কথা বলেন ৷ বিরোধীদের পক্ষে পরিস্থিতি ঠিক কতটা কঠিন সেটা বোঝাতেই এই উদাহরণের অবতারণা ৷ ঘোড়া কেনাবেচা প্রসঙ্গেও নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন বিচারপতি ৷

