ETV Bharat / bharat

বাংলায় সরকার গড়বে বিজেপি, তারপর অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে ছাড়ব; বিহারে দাঁড়িয়ে মন্তব্য শাহের

বিহারের আরারিয়ায় দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান শুধু বিহার নয়, সারা দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে বড় অভিযান চালানো হবে।

Amit Shah on Bengal assembly polls
অমিত শাহ (ছবি- পিটিআই)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 26, 2026 at 3:28 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

আরারিয়া(বিহার), 26 ফেব্রুয়ারি: বিহারে দাঁড়িয়ে বাংলায় বিধানসভা ভোট নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেল অমিত শাহের গলায় ৷ অনুপ্রবেশ নিয়ে নিজেদের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি আরও একবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, "আমি নিশ্চিত যে এবার বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করবে।" একই সঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতে সরকার গঠনের পর রাজ্য থেকে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে তাড়ানো হবে ৷

বিহারের আরারিয়ায় দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান শুধু বিহার নয়, সারা দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে বড় অভিযান চালানো হবে। অমিত শাহ বলেন, "আমি বিহারের সীমান্ত অঞ্চল এলাকায় এসেছি ৷ আমি বিহারের মানুষকে আমার পুরনো প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিতে এসেছি, সময় এসেছে তা পূরণ করার।" শুধু বিহার নয়, এদিন বাংলার প্রসঙ্গও টেনেছেন শাহ ৷ অমিত শাহের বার্তা, শুধু ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা নয়, বরং প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে ভারতের বাইরে পাঠানো হবে ৷ বাংলার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে সরকারের প্রাথমিক এজেন্ডা হবে সীমান্তে নির্মাণ সম্পন্ন করা এবং প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে একে একে বহিষ্কার করা।"

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, যে এলাকায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহ অনুপ্রবেশ নিয়ে বার্তা দিচ্ছেন সেই আরারিয়া থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান সীমান্তবর্তী জেলা কিষাণগঞ্জ খুব কাছে। এছাড়া পূর্ণিয়া এবং কাটিহার জেলাগুলিও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ঘেঁষা ৷ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান চালানোর বার্তা দিয়ে অমিত শাহ বলেন, "আমি বিহারের জনগণকে বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে বিহারের জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমরা বিহারকে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্ত করব ৷ এর অর্থ শুধু ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা নয়, বরং আমরা প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে ভারতের বাইরে পাঠাতে বদ্ধপরিকর।"

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, "বিজেপি এবং আমাদের সরকার স্পষ্ট করে বলতে চায়, এই প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়। এটি নরেন্দ্র মোদি সরকারের একটি দৃঢ় সিদ্ধান্ত। এটি অল্প সময়ের মধ্যে পুরো সীমান্ত অঞ্চলে জুড়ে শুরু হতে চলেছে ৷ আমি নিজে নির্বাচনের সময় চারদিন সীমান্তবর্তী ছিলাম এবং জনসাধারণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, আমরা অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে সমগ্র এই অঞ্চলকে মুক্ত করব।"

এদিন আরারিয়ায় সীমান্ত আউট পোস্ট 'লেটি' এবং 'ইন্দারওয়া' উদ্বোধনের পাশাপাশি সশস্ত্র সীমাবলের বিভিন্ন কাজের ই-উদ্বোধন ও ই-ভিত্তি স্থাপন করেন শাহ ৷ এসএসবি-র সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা এসএসবির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। 2001 সালে 1751 কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-নেপাল সীমান্তের নিরাপত্তা SSB-এর দায়িত্বে আসে ৷ এরপরই অমিত শাহ বলেন, "আমি জনগণকে আমার প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিতে এসেছি। কারণ সীমাঞ্চলের মানুষের সমর্থন আমার দরকার। অনুপ্রবেশকারীরা দরিদ্রদের খাবার কেড়ে নেয়, তাদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও কেড়ে নিচ্ছে ৷ দেশের নিরাপত্তার জন্য এটা বড় চ্যালেঞ্জ।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এখন সময় এসেছে সারা দেশে প্রতিটি স্তরে কাজ করে দেশকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করতে অভিযান চালানোর। তিন দিনের মধ্যে, আমরা ভারত সরকারের সমস্ত মন্ত্রক, বিহার সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা উন্নয়ন আধিকারিক, পুলিশ সুপার এবং একাধিক সংস্থার বিশদ পর্যালোচনা করে একটি কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করতে যাচ্ছি ৷"

এই অভিযানের আওতায় সীমান্তের 10 কিলোমিটারের মধ্যে সমস্ত এলাকা ফাঁকা করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ভারতের বাইরে পাঠানোর কাজও করা হবে ৷ এসওপি তৈরি করতেও অমিত শাহ নির্দেশ দিয়েছেন ৷ তিনি বলেন, আমাদের সীমান্তের ওপারে সশস্ত্র বাহিনীকেও ব্যবহার করা এবং সহযোগিতা করা উচিত ৷ সীমান্তে নিরাপত্তার পাশাপাশি অবৈধ চোরাচালান, মাদক-সহ নানা ধরনের তৎপরতা রয়েছে, যার ওপর আমাদের কড়া নজর রাখতে হবে। আমি চাই SSB-এর সমস্ত অফিসাররা একত্রিত হয়ে এমন একটি SOP তৈরি করুক ৷ যা প্রশিক্ষণের সময় থেকেই সৈনিকদের শেখানো উচিত ৷