বুথ ফেরত সমীক্ষায় এগিয়ে এনডিএ, অনেক পিছনে তেজস্বীরা ; প্রভাবহীন পিকে
বেশ কয়েকটি সমীক্ষার দাবি বিহারে ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে এনডিএ ৷ 20 বছরের 'অপশাসনের' অবসান ঘটাতে চাওয়া আরজেডি-কংগ্রেসকে এরারও বসতে হবে বিরোধী আসনেই ৷

Published : November 11, 2025 at 8:00 PM IST
|Updated : November 11, 2025 at 8:24 PM IST
পটনা ও নয়াদিল্লি, 11 নভেম্বর: অপারেশন সিঁদুর ও এসআইআরের পর হওয়া প্রথম পরীক্ষায় দারুণ ফল করতে চলেছে এনডিএ ৷ বেশ কয়েকটি বুথ ফেরত সমীক্ষার দাবি, বিহারে বড় জয় পেতে চলেছে জেডিইউ-বিজেপি-এলজেপি-সহ পাঁচদলের জোট ৷
সমীক্ষা বলছে, আরজেডি-কংগ্রেস-বামজোটে অনেক কম সংখ্যক আসন পেয়ে আবারও বিরোধী আসনে বসতে চলেছে ৷ শুধু তাই নয়, গতবারের থেকেও কম আসন পেতে পারে আরজেডি ৷ 243টি আসনের বিহার বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার 122 ৷

সমীক্ষা থেকে আরও জনা গিয়েছে বিজেপি থেকে শুরু করে তৃণমূল-সহ বহু দলকে চোখ ধাঁধানো সাফল্য এনে দেওয়া প্রশান্ত কিশোর ভোটে কোনও প্রভাবই ফেলতে পারবেন না ৷ তাঁর জনসুরাজ পার্টি সর্বোচ্চ পাঁচটি আসন পেতে পারে বলে মনে করছে কয়েকটি জনমত সমীক্ষা ৷ তবে কারও কারও মনে হচ্ছে একটি খুব বেশি হলে তিনটি আসন পেতে পারেন প্রশান্তরা ৷ একটি আসনও পাবেন না-এমনটাও উঠে এসেছে কয়েকটি সমীক্ষায় ৷
কোন সমীক্ষা কী বলছে ?
ম্যাট্রিজের মতে এনডি পেতে পারে 147 থেকে 167টি আসন ৷ বিরোধীদের মহাজোট পেতে পারে 70 থেকে 90টি আসন ৷ প্রশান্ত কিশোরের দল পেতে পারে 0 থেকে 2টি আসন ৷ অন্যরা 2টি থেকে 8টি আসন ৷ চাণক্য বলছে এনডিএ পেতে পারে 130 থেকে 138টি আসন ৷ বিরোধীরা পেতে পারে 100 থেকে 108টি আসন ৷ পিপিলস প্লাস বলছে বিজেপি-জেডিইউ-সহ পাঁচদলের এনডিএ জোট পেতে পারে 133 থেকে 159টি আসন ৷ 75 থেকে 101টি আসন পেতে পারেন তেজস্বীরা ৷ প্রশান্ত কিশোরদের ঝুলিতে যেতে পারে সর্বোচ্চ তিনটি আসন ৷
জেভিসি পোল মনে করছে এনডিএ 135 থেকে 150টি আসনে জিততে পারে ৷ বিরোধীদের মহাজোট সর্বনিম্ন 88টি এবং সর্বোচ্চ 103টি আসন পেতে পারে ৷ প্রশান্ত কিশোরের দল পেতে পারে 1টি আসন ৷ অন্যরা 3 থেকে 6টি আসন পেতে পারে ৷ দৈনিক ভাস্কর মনে করছে বিজেপি-জেডিইউ 145টি থেকে 160টি আসন পেতে পারে ৷ 73 থেকে 91টি আসন পেতে পারে কংগ্রেস ও আরজেডি ৷ প্রশান্ত কিশোরের দল একটি আসনেও জিতবে না বলে মনে করে এই সমীক্ষা ৷
কেমন হল শেষ দফার ভোটে ?
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিহারে পাঁচটা পর্যন্ত 67.14 শতাংশ ভোট পড়েছিল ৷ শেষমেশ প্রদত্ত ভোটের হার দাঁড়ায় 68.81 শতাংশ ৷ ঘটনাচক্রে প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট পড়েছিল বিহারে ৷ দ্বিতীয় দফায় সেই রেকর্ড ভেঙে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ ৷ সমস্ত হিসেব শেষে কমিশন চূড়ান্ত হিসেবে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে ৷ দুপুর তিনটে পর্যন্ত প্রথম দফায় পড়েছিল 53.77 শতাংশ ভোট ৷ এবার তা 60 শতাংশ পেরিয়ে যায় ৷ শুধু তাই নয়, সকাল থেকেই ভোটদানের হার বেশি ছিল এই দফায় ৷ এদিন সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কাটিহার বিধানসভা কেন্দ্রে ৷ এখানে প্রদত্ত ভোটের পরিমাণ 78.39 শতাংশ ৷ সবচেয়ে কম 57.80 শতাংশ ভোট পড়েছে নওয়াদা কেন্দ্রে ৷
গত কয়েক বছরের মধ্যে গয়ার মাও-প্রভাবিত বিভিন্ন এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে ৷ একটা সময় এই এলাকায় নির্বাচনের সময় গুলি চলত ৷ প্রাণে বাঁচতে এলাকা ছেড়ে পালাতেন জেলাশাসক থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার ৷ সেখানে এখন ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন। আগের বেশ কয়েকটি নির্বাচনের পর এই উৎসাহ দেখা গিয়েছে। এবার, ইমামগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রত্যন্ত এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতেও নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্র তৈরি করেছে। ছকরবান্ধা থেকে শুরু করে শহুরে সালিয়া এবং দিঘাসিন পর্যন্ত মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাতে শিশুর জন্ম দিয়ে সকালে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছন সদ্য মা হওয়া এক তরুণী ৷ বিশ্বাস না হলেও বিহারের উন্নয়নের কথা ভেবে মঙ্গলবার সকালে গয়ায় একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন সোনী কুমারী ৷ সোমবার রাত 11টায় তিনি গয়ার বেলাগঞ্জ সামুদায়িক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশুর জন্ম দেন ৷ এরপর মঙ্গলবার সকালে অ্যাম্বুল্যান্সে বেলাগঞ্জ বিধানসভার কুরী সরায় গ্রামের বুথে পৌঁছন তিনি ৷ সদ্যোজাতকে কোলে নিয়ে ভোট দিয়েছেন সোনী কুমারী ৷

