প্লে-স্কুলে নৃশংস ঘটনা ! চেয়ারে বেঁধে লাথি-যৌনাঙ্গে আঘাত সাড়ে তিন বছরের শিশুকে
ছেলের শারীরিক অবস্থা ও সবসয়ম ভয়ে ভয়ে থাকতে দেখে বাবা ও মা কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না ৷ এরপরই ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান ৷

Published : August 30, 2026 at 6:02 PM IST
নয়াদিল্লি, 30 অগস্ট: প্লে স্কুলে নৃশংস ঘটনা ! উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ থানা এলাকার একটি প্লে-স্কুলে সাড়ে তিন বছরের এক ছাত্রকে নৃশংসভাবে মারধর ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ৷ শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ তখনই বাবা, মা নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পারেন ৷ ইতিমধ্যেই শিশুর সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগে স্কুলের ডিরেক্টর, প্রিন্সিপাল-সহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা করা হয়েছে ৷
ছেলেটির পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। জাফরবাদ থানা পকসো আইন-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ধারায় একটি মামলা নথিভুক্ত করেছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, শিশুর মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে ৷
শিশুটির বাবার অভিযোগ, তাঁর ছেলে জাফরাবাদ থানা এলাকার একটি প্লে-স্কুলে পড়ে। গত কয়েকদিন ধরে ছেলে রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারছিল না ৷ এমনকী টয়লেটে যেতেও ভয় পাচ্ছিল। সবসময় আতঙ্কে থাকছিল ৷ কিছু জিজ্ঞাসা করলে ঘাবড়ে যাচ্ছিল ৷ তিনি বলেন, "তখন আমি ওর মা মিলে ঠিক করি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব ৷ চিকিৎসকের কাছে যেতেও ছেলে আতঙ্ক বোধ করছিল ৷ পরে আমরা জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম ৷ চিকিৎসক সমস্ত পরীক্ষা করে দেখেন ছেলের কানের পর্দা ফুলে গিয়েছে ৷ তখন ডাক্তার আমাদের বলেন, ওকে খুব মারধর করেছেন কি ? কারণ মারধর যে করা হয়েছে, তা স্পষ্ট ৷"
নির্যাতিত ছেলেটির বাবা পুলিশের কাছে আরও বলেন, "আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে জানতে চাই, ওকে কি মারধর করা হয়েছে ? কেননা ও খুব ভয় পেয়ে রয়েছে ৷ সন্দেহ হতেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর দাবি জানাই। কিন্তু স্কুলের ডিরেক্টর প্রথমে সিসিটিভি বিকল হওয়ার মতো নানা অজুহাত দেখান ৷ পরে ফুটেজ দেখাতে অস্বীকার করেন ৷ কিন্তু আমাদের জেদ চেপে যায় ৷ আমরা বলি যদি কিছু না-হয় তাহলে সিসিটিভি দেখাতে সমস্যা কোথায় ? বেশ খানিকক্ষণ পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পরদিন ফের আসতে বলে।"
সবশেষে সাড়ে তিন বছেরের শিশুর বাবার অভিযোগ, "পরদিন 1500 টাকা নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে রাজি হয়। টাকা দেওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন ছেলের উপর অকথ্য অত্যাচার দেখে শিউরে উঠি ৷ দেখি আমার ছেলের কান চেপে ধরে মারধর করছে স্কুলের শিক্ষক ৷ এরপর তাকে দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বেঁধে রাখা হয় ৷ পরে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয় ৷ এতকিছুর পরও ওরা ক্ষান্ত হয়নি ৷ আমার ছেলেকে টিফিনের সময় না খেতে দিয়ে বসিয়ে রাখা হয় ৷ অন্য একটি ফুটেজে দেখি তার খানিক পর স্কুলের আয়া আমার ছেলের যৌনাঙ্গে আঘাত করছে ৷ এজন্যই ও টয়লেটে যেতে ভয় পাচ্ছে ৷" বিষয়টি পুলিশে জানাতেই দ্রুত পদক্ষেপ করেছে ৷

