ETV Bharat / bharat

উপাচার্য অপসারণের দাবি, ছাত্র বিক্ষোভে ক্যাম্পাসে মধ্যরাত পর্যন্ত আটকে কেন্দ্রীয় দল

ছাত্র আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়ছে অসমের তেজপুরে ৷ বিক্ষোভের 79 দিনে তদন্তে গিয়ে ক্যাম্পাসে আটকে শিক্ষামন্ত্রকের প্রতিনিধিরা ৷

Tezpur University Protest
ছাত্র বিক্ষোভে বন্ধ অসমের তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন গেট (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 7, 2025 at 12:36 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

তেজপুর (অসম), 7 ডিসেম্বর: উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে গত 79 দিন ধরে উত্তপ্ত অসমের তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয় ৷ উপাচার্য শম্ভুনাথ সিং-এর বরখাস্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে শিক্ষার্থী ও অনুষদ সদস্যদের বিক্ষোভ চলছে । শিক্ষা মন্ত্রকের একটি উচ্চ পর্যায়ের দলও বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্তে এসে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে ক্যাম্পাসের ভিতরে আটকে পড়েন ৷ অবশেষে শনিবার মধ্যরাতের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লিখিত আশ্বাসের পর চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় তাঁদের ৷

শনিবার 5 হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ৷ প্ল্যাকার্ড ধরে উপাচার্যের অবিলম্বে অপসারণের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে ।উচ্চশিক্ষা সচিব এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান ডঃ বিনীত যোশী, যুগ্মসচিব সৌম্য গুপ্ত এবং অন্য একজন ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের সমন্বয়ে গঠিত শিক্ষামন্ত্রকের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এদিন বিকেল 3টে 20 নাগাদ ক্যাম্পাসে পৌঁছয় ।

তবে, দলটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানে স্লোগান দিয়ে তাদের ঘিরে ফেলে । ছাত্র প্রতিনিধি, অনুষদ সংগঠন এবং অ-শিক্ষক কর্মী ইউনিয়নের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় দলটি । কিন্তু তাও আন্দোলনকারীরা সন্তুষ্ট হননি ৷ এরপর তাঁরা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট অবরোধ করেন এবং কেন্দ্রীয় দলকে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধা দেন । রাত সাড়ে ন'টা পর্যন্ত, প্রতিনিধিদলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরেই আটকে ছিল । বিক্ষোভকারীরা রাত 11টা 45 পর্যন্ত প্রধান ফটকে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখে বলে খবর । এরপর কেন্দ্রীয় দল আন্দোলনকারীদের মূল দাবি মেনে নিলে, শিক্ষার্থীরা গেটের সামনের অবরোধ তুলে নেয় এবং প্রতিনিধিদল মধ্যরাতের কয়েক মিনিট আগে প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে ।

29 নভেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে ৷ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে স্পষ্ট লিখিত আশ্বাস না পেলে প্রতিবাদ জানিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন ৷ চলতি সপ্তাহের শুরুতে মাস কমিউনিকেশন বিভাগের অনুষদ সদস্য জয়া চক্রবর্তীকে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর নিযুক্ত করেন পলাতক উপাচার্য শম্ভুনাথ সিং ৷ তারপর এই বিক্ষোভ আরও তীব্র হয় । এর প্রতিক্রিয়ায়, অনুষদ এবং শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে সিনিয়র অধ্যাপক ধ্রুব কুমার ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে নির্বাচিত করে ।

এদিকে, নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ধ্রুব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে, এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যপাল এবং শিক্ষামন্ত্রক উভয়ের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে । তবে, এরপরও শিক্ষার্থীরা ধৈর্য ধরার আবেদন শোনেননি ৷ তাঁরা ফের জানিয়েছেন যে, শম্ভুনাথ সিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তাঁরা অবরোধ চালিয়ে যাবে ।

STUDENT PROTEST at Tezpur University
ছাত্র বিক্ষোভের 79 দিনেও উত্তাল তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস (ইটিভি ভারত)

বিক্ষোভকারীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ায় শনিবার সন্ধ্যা থেকেই গেটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় । ক্যাম্পাসের ভেতরে সাংবাদিকদেরকে ইউজিসি চেয়ারম্যান বিনীত যোশী বলেন, "আমরা এখানে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারীদের সঙ্গে দেখা করতে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে এসেছি । তাঁদের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে । তাঁরা আমাদের নিজেদের মতামত জানিয়েছেন । মন্ত্রক সমস্ত তথ্য প্রক্রিয়া করছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷ ইতিমধ্যে দুটি তথ্য অনুসন্ধান করা হয়েছে । এর ভিত্তিতে, কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাবে । আমরা যে সিদ্ধান্তই নিই না কেন, আমি নিশ্চিত যে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে হবে ৷"

এই বিষয়ে ছাত্রদের মুখপাত্র ঋতামণি নারজারি বলেন, "এই প্রতিবাদ কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং উপাচার্য শম্ভুনাথ সিংহের বিরুদ্ধে । আমরা তার কর্মকাণ্ডে ক্লান্ত । যদি কেন্দ্রীয় সরকার এখনও আমাদের উদ্বেগ বিশ্বাস না করে, তাহলে আমরা ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলব । আমরা ন্যায়বিচার দাবি করছি ।"

আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী তেজপুর ইউনিভার্সিটি ইউনাইটেড ফোরাম (TUUF) হতাশা প্রকাশ করেছে যে টানা 79 দিন ধরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার পরেও কোনও সুনির্দিষ্ট সমাধান বা কার্যকর আশ্বাস দেওয়া হয়নি । এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পদ্ধতিগত উদাসীনতার প্রত্যক্ষ পরিণতি ৷ সন্তোষজনক লিখিত প্রতিক্রিয়া না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে ।

সকল শেষ ত্রৈমাসিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে ৷ তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (TUTA) এবং অ-শিক্ষক কর্মচারী সমিতি (TUNTEA) ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে । 22 সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর থেকে উপাচার্য ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন না ।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ৷ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গায়ক জুবিন গর্গের প্রতি যথাযথ সম্মান না দেখানোর অভিযোগ তুলেছে ৷ যেখানে গোটা রাজ্য তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করছে । আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা উপাচার্য শম্ভুনাথ সিং প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত বন উজাড় এবং পরিবেশগত ধ্বংসের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করছেন ।