অভিযোগের প্রমাণ নেই, আবগারি দুর্নীতি মামলায় মুক্ত কেজরিওয়াল-সিসোদিয়া
আদালতের পর্যবেক্ষণ, এদের বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি । যে নথি সিবিআই দিয়েছে চার্জশিটের সঙ্গে তার মিল নেই ৷

Published : February 27, 2026 at 11:40 AM IST
নয়াদিল্লি, 27 ফেব্রুয়ারি: আবগারি দুর্নীতির যাবতীয় মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া ।
শুক্রবার রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট আবগারি দুর্নীতির মামলা থেকে কেজরিওয়াল এবং সিসোদিয়াকে মুক্তি দিয়েছে ৷ বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং দু'জনকেই এই মামলা থেকে মুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ পাশাপাশি কেজরিওয়াল বা সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কোনও প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে আদালত জানিয়েছে ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, এদের বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি । যে অভিযোগগুলি করা হয়েছিল তা বিচারের ক্ষেত্রে তদন্তে প্রমাণ করতে ব্যর্থ ৷ মণীশ সিসোদিয়ার পক্ষ থেকেও কোনও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি বলে সাফ জানিয়েছে আদালত । আরও জানানো হয়েছে, যে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খাড়া করা হয়েছিল তা এঁদের বিরুদ্ধে টিকতে পারে না । আদালতের এই নির্দেশের পরই উচ্ছ্বসিত অরবিন্দ কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল পোস্ট করেছেন, "এই পৃথিবীতে কেউ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কেউ শিবশক্তির উপরে উঠতে পারে না । সত্য সর্বদা জয়ী হয় ।"

আদালতের রায়ের পর কেজরিওয়াল বলেন, "ওরা দিল্লি আবগারি কেলেঙ্কারি নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল, আজ আদালত সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে ৷ আমাদের অব্যাহতি দিয়েছে । আমরা সবসময় বলেছি যে সত্যের জয় হয় এবং ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার উপর আমাদের আস্থা রয়েছে । এই নির্দেশ দেওয়ার জন্য আমি বিচারকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি ৷ আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি যে ঈশ্বর আমাদের সঙ্গেই আছেন ।" কেজরিওয়ালের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আপ-কে দুর্বল করার জন্য বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করেছিলেন । এটি সম্পূর্ণ একটা মিথ্যা মামলা ছিল । টেলিভিশনে বিতর্কে বারবার আমাকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল ৷"
প্রসঙ্গত, সিবিআই 2022 সালে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে ৷ তারপরে একাধিক সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেয় । কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, বর্তমানে বাতিল হয়ে যাওয়া আবগারি নীতিকে প্রভাবিত করার জন্য দক্ষিণে একটি লবি 100 কোটি টাকা দিয়েছিল । যদিও শুনানির সময়, আদালত বারবার সিবিআইয়ের তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ৷ সিবিআইয়ের চার্জশিট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত । জানিয়েছে, সিবিআইয়ের দেওয়া নথিগুলি চার্জশিটের সঙ্গে মিলছে না । আদালত 12 ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের বিষয়ে রায়দান স্থগিত রেখেছিল ৷
কেজরিওয়ালের বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র লিখেছেন, "সত্যমেব জয়তে ৷ যতক্ষণ সময় আছে বিজেপি ততক্ষণ শিক্ষা গ্রহণ করুক । সত্যের সামনে তোমাদের সকল নোংরা কৌশল, তোমাদের ইডি, তোমাদের সিবিআই-এই সমস্ত পুতুলের মৃত্যু হবে । অভিনন্দন অরবিন্দ কেজরিওয়াল ।" তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে অভিযোগ করেছেন, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল ৷ বিরোধী নেতাদের মানহানি করার লক্ষ্যেই এই মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি গোখলের।

তিনি বলেন, "বিজেপি ভুয়ো মামলা দায়ের করেছিল ৷ যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল ৷ যাতে তাদের সুনাম নষ্ট করা যায়। আবারও, সিবিআই এবং ইডিকে তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার বিজেপির নির্লজ্জ রাজনীতি এটা ৷ মোদি-শাহ সরকার শীঘ্রই এই ভুয়ো মামলার মতোই ভেঙে পড়বে ৷" তৃণমূল সাংসদ কেজরিওয়াল এবং সিসোদিয়াকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয়লাভের জন্য অভিনন্দনও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আপনাদের সততা প্রমাণিত হয়েছে ৷ এই পুরো অগ্নিপরীক্ষা জুড়ে আপনি যে সাহস দেখিয়েছেন তাকে আমরা সালাম জানাই।"
সিবিআই এই মামলায় কেজরিওয়াল এবং সিসোদিয়া-সহ 23 জনের নাম উল্লেখ করেছিল । শুনানির সময়, কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই । কেজরিওয়ালের আইনজীবী এন হরিহরণ সওয়ালে জানান, কেজরিওয়াল সরকারি কাজ করছিলেন মাত্র ৷ তিনি কারও থেকে টাকা চাওয়ার জন্য বলেছিলেন এমন কোনও প্রমাণ নেই ৷ প্রথম তিনটি চার্জশিটে কেজরিওয়ালের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না । চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে তাঁর নাম এসেছে ।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) 2024 সালের 21 মার্চ অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে । 10 মে সুপ্রিম কোর্ট 1 জুন পর্যন্ত কেজরিওয়ালের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে ৷ এরপর তিনি 2 জুন, 2024 সালে ফের আত্মসমর্পণ করেন । 26 জুন কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করে সিবিআই । ইডি 10 মে, 2024 সালে ষষ্ঠ সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দাখিল করে ৷ যেখানে বিআরএস নেতা কে কবিতা, চানপ্রীত সিং, দামোদর শর্মা, প্রিন্স কুমার এবং অরবিন্দ সিংকে অভিযুক্ত করা হয় । আদালত 29 মে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটের বিষয়টি মঞ্জুর করে । 27 অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই এবং ইডি মামলায় কবিতাকে জামিন দেয় । 13 সেপ্টেম্বর, 2024 সালে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই মামলায় কেজরিওয়ালকে পুরোপুরি জামিন দেয় । তার আগে, 12 জুলাই, ইডি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কেজরিওয়ালকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিল ।

