উদ্বোধনের মুখে মানালি-লে যাওয়ার বিকল্প রাস্তা, জোরকদমে কাজ চলছে শিংকু লা টানেলের
টানেলটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 15800 ফুট উচ্চতায় তৈরি হচ্ছে । সুড়ঙ্গটি 4.1 কিলোমিটার দীর্ঘ । মনোজিত দাসের প্রতিবেদন ৷

Published : September 2, 2026 at 6:00 PM IST
মানালি, 2 সেপ্টেম্বর: মানালি থেকে লে যাওয়ার বিকল্প পথ নিম্বু-পদুম-দারচা (এনপিডি)রোড উদ্বোধনের মুখে । 298 কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখের মধ্যে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সড়ক । এই রাস্তা তৈরি করেছে বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের অন্তর্গত 'প্রজেক্ট জোজক' । পাশাপাশি এই রাস্তায় শিংকু লা উপত্যকায় তৈরি হচ্ছে টানেল । যেটি বিশ্বের সর্বোচ্চ হাইওয়ে সুড়ঙ্গপথ হতে চলেছে । সব ধরনের আবহাওয়াতে সচল থাকবে এই টানেল ।
বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের অন্তর্গত 'প্রজেক্ট জোজোক'-এর চিফ এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার চাহাত শর্মা বলেন, "অটল টানেল তৈরির পর দায়িত্ব বেড়েছে । নতুন করে এনপিডি রোড তৈরি ও শিংকু লা টানেল তৈরির দায়িত্ব এসেছে । রাস্তা তৈরির কাজ শেষ । টানেল তৈরির কাজ সম্ভবত 2028-2029 সালের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে যাবে । এই টানেল বিশ্বের সর্বোচ্চ হাইওয়ে টানেল । অটল টানেলের মতোই আধুনিক সমস্ত ব্যবস্থা থাকছে । ভেন্টিলেশন, ফায়ার প্রোটেক্ট, ইমার্জেন্সি এক্সিট, সিসিটিভি, সেন্সর থাকবে ।"

তিনি জানান, এই রাস্তাটি লে কার্গিল রোডে অবস্থিত নিম্বু থেকে শুরু হয় পদুম হয় হিমাচলের দারচায় শেষ হয়েছে । 298 কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা । এই রাস্তাটি ভারত-চিন সীমান্তের খুব কাছ থেকেই গিয়েছে, মানালি থেকে লে যাওয়ার রাস্তা । পাকিস্তানের কাছাকাছি শ্রীনগর লে হাইওয়ের বিকল্প রাস্তা । এটি তৃতীয় রাস্তা যা ভারতের ভূখণ্ডের সঙ্গে লাদাখকে যুক্ত করেছে ।

রাস্তাটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম । সেনাবাহিনীর একটি শাখা দুর্গম পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করেছে । 2024 সাল থেকে শুরু করেছিল কাজ । সম্প্রতি 100 শতাংশ কাজ শেষ । এই রাস্তায় শিংকু লা সুড়ঙ্গ তৈরি হচ্ছে । সেটি 2028-2029 সালে শেষ হবে । মানালি থেকে লে যাওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় বরফে । তবে এই সময় এই টানেল খোলা থাকবে । এটি বছরের যে কোনও সময় যে কোনও আবহাওয়ায় খোলা থাকবে । উদ্বোধনের পর রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে ।

এদিকে টানেলটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 15800 ফুট উচ্চতায় তৈরি হচ্ছে । সুড়ঙ্গটি 4.1 কিলোমিটার দীর্ঘ । এই সুড়ঙ্গ হলে মানালি থেকে কার্গিলের দূরত্ব 522 কিলোমিটার কমে যাবে । এই রাস্তা ও সুড়ঙ্গ সামরিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । কারণ এই রাস্তাটি চিন বা পাকিস্তান কারও বাহিনীর আওতায় আসছে না । অন্যদিকে সেনাবাহিনী এই পথে দ্রুত সীমান্তে সামরিক গাড়ি, রসদ, যন্ত্র আনা নেওয়া নিরাপদভাবেই করতে পারবে বলে জানা গিয়েছে ।


