যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এখন ইডির করুণার পাত্র ! আইপ্যাক দফতরে তল্লাশি নিয়ে সরব সিবাল
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আবহে আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশির নিন্দা করলেন রাজ্যসভার সাংসদ ৷ তিনি এটাকে যুক্তরাষ্ট্রবাদ বলে অভিহিত করেছেন ৷

By PTI
Published : January 9, 2026 at 4:17 PM IST
নয়াদিল্লি, 9 জানুয়ারি: কলকাতায় আই-প্যাকের অফিস এবং তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি চালানোর ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি ৷ ঘটনার একদিন পর শুক্রবার রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল দাবি করলেন যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এখন ইডির করুণার উপর নির্ভরশীল ৷ তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টই তদন্ত সংস্থার উপর লাগাম টানতে পারে ।
বৃহস্পতিবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কলকাতায় অভিযানের পর তীব্র নাটকীয়তা তৈরি হয় । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপ্রত্যাশিতভাবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সংবেদনশীল তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছে । যদিও এই ঘটনায় ইডির দাবি, বহু কোটি টাকার কয়লা চুরি কেলেঙ্কারির অর্থ পাচারের তদন্তের অংশ এই তল্লাশি ৷ সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি আইনি তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে ৷ তিনি এবং রাজ্য পুলিশ ইডির অভিযানের সময় জোর করে 'মূল প্রমাণ' মুছে ফেলেছেন বলেও অভিযোগ ।
Enforcement Directorate (ED)
— Kapil Sibal (@KapilSibal) January 9, 2026
Only Supreme Court can rein in ED
Every opposition state, every significant opposition leader is targeted
What is happening in West Bengal is truly disturbing !
That too in the midst of an impending election
Federalism is at ED’s mercy !
একটি এক্স পোস্টে সিবাল বলেন, "কেবলমাত্র সুপ্রিম কোর্টই ED-র উপর রাশ টানতে পারে । প্রতিটি বিরোধী শাসিত রাজ্যের পাশাপাশি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতাকে টার্গেট করা হচ্ছে । নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটছে তা সত্যিই বিরক্তিকর ! যুক্তরাষ্ট্রবাদ এখন ED-র করুণার পাত্র !"
রাজ্যে চলছে, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন ৷ আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন ৷ সেই আবহে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে হঠাৎ ইডি হানা স্বাভাবতই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে ৷ অচলাবস্থা দ্রুত আইনি মোড় নেয় ৷ তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে ইডি । অন্যদিকে, আই-প্যাকও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়, তল্লাশির বিরোধিতা করে এবং এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ।
ইডি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল 7টা থেকে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক দলের উপস্থিতিতে দিল্লির চারটি-সহ প্রায় 10টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে ৷ সেই অভিযানের মধ্যেই ছিল সল্টলেক সেক্টর ফাইভে অবস্থিত আই-প্যাকের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবন-সহ একাধিক জায়গা ৷ তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নাটকীয়তার সূত্রপাত করে ৷ রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক, দলীয় নেতা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে ৷
কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির (আই-প্যাক) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন । তিনি প্রায় 20-25 মিনিট ভিতরে ছিলেন এবং তারপর হাতে একটি সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন ৷ পাশাপাশি ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হন। তৃণমূলকে রাজনৈতিক পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি, দলের আইটি এবং মিডিয়া কার্যক্রমও পরিচালনা করে আইপ্যাক ৷ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ হেন অফিসে ইডির তল্লাশি স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে ৷

